রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং ‘নিরাপদ কর্মস্থলের’ দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন। বেলা ১২টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবি অফিসার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘সম্প্রতি দেখা গেছে বহিরাগতদের দ্বারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং মারপিট শেষে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে আমরা আজকের এই কর্মসূচি পালন করছি।’
শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক রোকসানা বেগম টুকটুকি বলেন, ‘আমরা এখানে চাকরি করতে এসছি, আমরা এখানে মার খেতে আসিনি। আমাদের যেকেউ মারবে, যা খুশি করবে এটা তো আমরা মেনে নিব না। আমার নামে যদি কোনো মামলা থাকে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রশাসন আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। আমাদের ধরে নিয়ে গিয়ে মারবে টাকা খাবে, টাকা না দিলে মারবে হাতুড়ি-পিটা করবে এটা তো আমরা কোনোদিন চাইনি। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এটার সুষ্ঠ বিচার করে যারা মেরেছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অফিসার সমিতি জানায়, অফিস চলাকালীন এবং অফিস থেকে ফেরার পথে কর্মকর্তাদের ওপর নক্কারজনক হামলা সংঘটিত হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রশাসনের এই ‘নীরবতা’ অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের আরও উৎসাহিত করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তারা। এর আগে একই দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।