ক্যাম্পাস

প্রকৌশলী অধিকার দিবসে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল

Published

on

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিতে ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ উপলক্ষে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মোমবাতি প্রজ্বলন ও মৌন মিছিল করেছেন ইইই বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারকে প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে তারা।

আয়োজকরা জানান, গত ২৭ আগস্ট প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনার স্মরণে এবং প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ের দাবিকে সামনে রেখে দিনটিকে ‘প্রকৌশলী অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

কর্মসূচিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি বলেন, “আমরা প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে এখানে এসেছি। একই সঙ্গে ঢাকার লং মার্চ কর্মসূচিতে আহত আমাদের সহযোদ্ধাদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই আজকের এই কর্মসূচি।”

তিনি আরও বলেন, “ প্রকৌশলী শুধু একটি পদবি নন; একজন প্রকৌশলী দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম কারিগর। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, শিল্প ও অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, পানি ও জ্বালানিসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রকৌশলীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাই প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদার দাবিকে উপেক্ষা করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমাদের আন্দোলন কারও বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন বৈষম্যের বিরুদ্ধে।”

রাফি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ থেকে যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকৌশলীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”

একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান বলেন, “গত বছর ডিপ্লোমা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সারা দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২৭ আগস্ট ঢাকায় লং মার্চ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ওই কর্মসূচিতে পুলিশ হামলা চালায় এবং আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হন। তাঁদের স্মরণে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি এবং মৌন মিছিলের আয়োজন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের অবৈধ পদোন্নতির কারণে প্রকৌশল খাতে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আমরা মনে করি। প্রয়োজনীয় উচ্চতর ডিগ্রি ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁরা প্রকৌশলীদের বিভিন্ন পদ দখল করে রেখেছেন। এর ফলে প্রকৃত প্রকৌশলীরা তাঁদের যোগ্য পদে কাজ করার সুযোগ থেকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।”

ওয়াহিদুর রহমান আরও বলেন, “একটি দেশের সমৃদ্ধি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য দক্ষ ও স্বচ্ছ প্রকৌশল খাত প্রয়োজন। তাই এ খাতকে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং থাকবে।”

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিন তাসদীদ বলেন, “আমরা যেটিকে প্রকৌশলী সেক্টর বলি, সেখানে যারা বিএসসি পাস করে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন, তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতেই আমরা ২৭ আগস্ট যমুনার মুখে আন্দোলন করতে চেয়েছিলাম। সেই আন্দোলনে অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা পরিশ্রম করছি ও আন্দোলন করছি।”

তিনি বলেন, “এবারই আমরা প্রথমবারের মতো ২৭ আগস্টকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আন্দোলনের সময়ের হামলার একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেটিকে সরকার এআই-নির্মিত ছবি বলে দাবি করেছে। পাশাপাশি প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা আহত হয়েছেন এবং বুয়েটের শিক্ষার্থীরাও রক্তাক্ত হয়েছেন।”

মাহিন আরও বলেন, “এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং প্রকৌশলীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে আমরা আজকের দিনটিকে প্রকৌশলী অধিকার দিবস হিসেবে পালন করছি। আমাদের মূল আন্দোলন ঢাকাকেন্দ্রিকভাবে চলমান রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version