ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিজের গুগল স্কলার প্রোফাইলে অন্যদের গবেষণাপত্র বা ভুয়া গবেষণাপত্র যুক্ত করে অস্বাভাবিক সংখ্যক সাইটেশন প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গুগল স্কলার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আরিফুল ইসলামের প্রোফাইলে তিনি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ই-মেইল ব্যবহার করেছেন। ওই প্রোফাইলে তার মোট সাইটেশন দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ২৮৭টি, এইচ-ইনডেক্স (h-index) ৩৬ এবং আই-টেন ইনডেক্স (i10-index) ২০০। এছাড়া ২০২১ সালের পর থেকেই অধিকাংশ সাইটেশন যুক্ত হয়েছে বলে দেখা যায়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রোফাইলে যুক্ত অধিকাংশ কিংবা সব গবেষণাপত্রই আরিফুল ইসলামের নিজস্ব নয়। অন্য গবেষকদের প্রকাশিত প্রবন্ধ নিজের প্রোফাইলে যুক্ত করার মাধ্যমে এসব সাইটেশন দেখানো হচ্ছে। অথচ তার নামে সংশ্লিষ্ট জার্নালগুলোতে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে গুগল স্কলারের নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষক নিজেই তার প্রোফাইলে প্রকাশনা যুক্ত বা অপসারণ করতে পারেন। ফলে ভুল বা অন্যের গবেষণাপত্র যুক্ত হলে সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স ও আই-টেন ইনডেক্স অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। এবং গবেষকদের সিরিয়াল প্রদর্শন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গবেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড গবেষণার নৈতিকতার পরিপন্থি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মত দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, “উনি হয়তো জানেনই না কিভাবে গুগল স্কলারের প্রোফাইল আপডেট করতে হয়। প্রশ্নটা ওনাকে করলেই ভালো হয়।”
বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ড. খাইরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টা আমি অবগত ছিলাম না। এখন অবগত হয়েছি। যাচাই-বাছাই করে দেখব।”
গবেষণায় নিযুক্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এটি শুধু একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত অনৈতিক আচরণের বিষয় নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মূল্যায়ন ও একাডেমিক সুনামের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, “হতে পারে পেপারগুলো নিজে থেকেই অটো এড হয়েছে। অনেক সময় অটোমেটিক পেপার এড হয়ে যায়। আমি এখনও এটি আপডেট করতে পারিনি। শীঘ্রই রিমুভ করে দিব।”