আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আকারে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, এই অপপ্রচারের বড় অংশের উৎস প্রতিবেশী ভারত, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন সামনে রেখে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এআই দিয়ে তৈরি এসব কনটেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অপপ্রচারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের দাবি। ‘হিন্দু গণহত্যা’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনার একটি সীমিত অংশই সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্যে দেখা গেছে, এ ধরনের অধিকাংশ পোস্ট ভারতভিত্তিক অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে এআই-তৈরি ভিডিও ও কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর খুব কম ক্ষেত্রেই সতর্কতামূলক লেবেল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের হার বেশি হলেও তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা এখনও কম। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর অপতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে অপতথ্য মোকাবিলার চেষ্টা করছে, তবে প্রতিদিন বিপুল নতুন কনটেন্টের কারণে কাজটি কঠিন হয়ে পড়ছে।