Connect with us

top1

রাজনীতির মোড়ে নির্বাচন, সময়মতো ভোট না বিলম্ব?

Published

on

সংবিধান ও নির্বাচনী আইন নির্বাচনের সময়সীমা নির্ধারণ করে; তবু বাস্তবে নির্বাচন কখন হবে—সময়মতো, সামান্য পিছিয়ে, না বড় ধরনের বিলম্ব—এটি নির্ভর করবে রাজনৈতিক সম্মতি, নির্বাচনী প্রস্তুতি, সিকিউরিটি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর। নিচে বিভিন্ন সম্ভাব্য তারিখ-সিনারিও ও প্রতিটির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হলো।

আইনি ও সংবিধানিক প্রেক্ষাপট (সংক্ষেপে)

  • সাধারণভাবে সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে বা মেয়াদ শেষের ঠিক পরে নির্বাচন আয়োজন করা নিয়ম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আনুষ্ঠানিক সময়সূচি ঘোষণা সিদ্ধান্তজীবী মুহূর্ত।
  • ২০১১ সালের পরে নির্বাহী-নিয়ন্ত্রিত কেয়ারটেকার ব্যবস্থা নেই; তাই রাজনৈতিক পারস্পরিক স্বীকৃতি ও ইসির গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ন্যায়িকতা ও আইনগত ভিত্তি শক্ত থাকবে যদি ইসি ও প্রশাসন স্বচ্ছভাবে কাজ করে।

  • তবে প্রধান বিরোধী দল যদি অংশ না নেয় বা বড় হারের অভিযোগ তুললে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা ও অনিরূপতার ঝুঁকি রয়ে যায়।
  • অর্থনীতি ও বাজারে আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকতে পারে; বৈদেশিক বিনিয়োগ-আস্থা সাময়িক সহায়তা পাবে।
  • আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা অংশ নিলে বৈধতার স্বীকৃতি বাড়ে।
  1. সংক্ষিপ্ত বিলম্ব (১–৩ মাস)
    কারণ: নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা আপডেট, সামান্য আইনগত/প্রশাসনিক জটিলতা বা নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা।
    প্রভাব:
  • স্বল্পকালীন সন্দেহ থাকলেও যদি ইসি স্পষ্ট সময়সূচি ও কারণ ব্যাখ্যা করে পরিস্থিতি কন্ট্রোলযোগ্য থাকে।
  • বিরোধীরা যদি এ সময় সুযোগ নিয়ে আন্দোলন তীব্র করে, তখন আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে।
  • বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সীমিত থাকবে যদি বিলম্ব যুক্তিযুক্ত ও অল্প সময়ের হয়।
  1. মাঝারি বিলম্ব (৩–৬ মাস)
    কারণ: বড় রাজনৈতিক আদল-বদল, বিচারিক বাধা, ব্যাপক আলোচনার প্রয়োজন বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যা।
    প্রভাব:
  • সরকার ও বিরোধীর মধ্যে আস্থা কমে যেতে পারে; বৈধতা নিয়ে সুদৃঢ বিতর্ক সৃষ্টি হবে।
  • অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়বে — বিনিয়োগ স্থগিত, মুদ্রানীতি ও সরবরাহ-শৃঙ্খলে চাপ।
  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়বে; কারিগরি সহায়তা ও অনুদান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
  • সুশৃঙ্খল অভিজ্ঞতা না থাকলে বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলার সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।
  1. দীর্ঘমেয়াদি বা অনির্দিষ্টকালীন বিলম্ব (>৬ মাস)
    কারণ: গভীর রাজনৈতিক ভাঙন, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, বা বৃহৎ নিরাপত্তাজনিত সংকট।
    প্রভাব:
  • গণতান্ত্রিক স্বীকৃতি ও প্রশাসনিক নৈতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; দেশের রাজনৈতিক বৈধতা সংকটাপন্ন হবে।
  • বৃহৎ অর্থনৈতিক পতন: পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, বৈদেশিক সহায়তা ও ঋণঝুঁকিতে পড়তে পারে।
  • আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি—সাজা, বিধিনিষেধ বা কূটনৈতিক চাপের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ব্যাপক বিক্ষোভ, অসহযোগ আন্দোলন এবং ক্ষমতায় টানাপোড়েনের সম্ভাবনা তীব্র হবে।

কী ইঙ্গিত/ঘটনা নজর রাখবেন (ইন্ডিকেটর)

  • ইসির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি ক্যালেন্ডার ঘোষণা বা স্থগিতকরণ।
  • প্রধান রাজনৈতিক দলের কৌশল (সংলাপ, বায়কট, আন্দোলন) ও পথনির্দেশ।
  • ভোটার তালিকা আপডেট ও ভোটার-আইডি বিতর্ক সম্পর্কিত বিবৃতি।
  • আদালতের আদেশ, জরুরি অবস্থা বা শৃঙ্খলা বৈধকরণ সংক্রান্ত নোটিশ।
  • নিরাপত্তা পরিস্থিতি: বৃহৎ বিক্ষোভ, সহিংসতা বা সটান পরিস্থিতি।
  • আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মহলের প্রতিক্রিয়া (নিরীক্ষা, উদ্বেগ বা সমর্থন)।

ঝুঁকি কমাতে সুপারিশ (স্টেকহোল্ডার অনুযায়ী)

  • সরকার: নির্বাচন স্বচ্ছ ও সময়মত করতে ইসি-কে পূর্ণ সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; সংলাপে বসার ব্যবস্থা করা।
  • বিরোধী দল: অংশগ্রহণ না করার পূর্বে কতটা ক্ষতি হতে পারে তার মূল্যায়ন, এবং সমঝোতার জন্য সুবিচারমূলক কৌশল গ্রহণ করা।
  • নির্বাচন কমিশন: স্বচ্ছতা বাড়াতে দ্রুত ও নিয়মিত আপডেট, পর্যাপ্ত প্রাক-নির্বাচনী প্রস্তুতি, পর্যবেক্ষক অনুমোদন।
  • সমাজ ও মিডিয়া: তথ্যভিত্তিক কভারেজ, গুজব প্রতিরোধ এবং শান্তিশীল আচরণ প্রচার।
  • আন্তর্জাতিক অংশীদার: নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কূটনৈতিক চাপ যাতে নির্বাচনী পরিবেশ গ্রহণযোগ্য হয়।

উপসংহার
সর্বোপরি—নির্বাচন হবে কি না এবং কখন হবে, তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক সম্মতি, ইসির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির ওপর। সময়মতো নির্বাচন অন্যতম সম্ভাব্য ফল; কিন্তু তা হলে—যদি বড় রাজনৈতিক দল অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়—তখন বৈধতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক শুরু হতে পারে। সংক্ষিপ্ত বা মাঝারি বিলম্ব হলে বিরোধ উত্তরণযোগ্য; দীর্ঘ বিলম্ব জনমত ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। করণীয়: সকল পক্ষ সংশ্লিষ্ট প্রমাণ দেখিয়ে দ্রুত সংলাপ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই দেশের সর্বোত্তম স্বার্থে আবশ্যক।

আপনি চাইলে আমি নির্দিষ্ট সম্ভাব্য তারিখ (যদি প্রেস-নোটিশ বা সংসদের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেন), তার ওপর ভিত্তি করে আরও নির্দিষ্ট প্রভাব-প্রবণতা ও পাঁচটি সম্ভাব্য নীতিমালা সাজাতে পারি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

রাত পোহালেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন, প্রস্তুত দেশ

Published

on

By

রাত শেষ হলেই শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের জন্য সারাদেশে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।

বুধবারের মধ্যেই ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা ভোটারদেরও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে।

ইসি জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে থাকবে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি ড্রোন, সিসিটিভি ও বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ হলেও অনলাইনে প্রচারণা চালানো যাবে, এতে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না। তবে ভোটকেন্দ্রে ভোটার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছাড়া কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
ভোটের মাঠে কালো টাকা ছড়ানো ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ইসি। টাকা বিতরণে জড়িতদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনিয়মে তিন শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। ইসি আশা করছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং বেশির ভাগ ফলাফল ভোটের রাতেই পাওয়া যাবে।

Continue Reading

top1

ভোটের এক দিন আগে কুমিল্লার মঞ্জুরুল মুন্সীকে বহিষ্কার করল বিএনপি

Published

on

By

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপির দায়ে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থী বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বিতর্কিত বক্তব্য ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা গুনাইঘর (উত্তর) ইউনিয়নের বাকসার গ্রামে একটি নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এবং ভোটাররা অন্য কোথাও ভোট দিলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হবে।

তবে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর দাবি, ভিডিওটি কেটে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top1

প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ

Published

on

By

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য সব উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ বিবরণী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো।

সম্পদবিবরণী দেখতে ক্লিক করুন।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হবে।

তিনি বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।’

Continue Reading

Trending