top1

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টার আলোচনায় খরচ হবে যত

Published

on

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘ এই আলোচনায় সংসদের খরচ হতে পারে ৮১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এই খরচে সংসদ সদস্যদের পারিশ্রমিক, কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, বিল-ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, নিরাপত্তা ও অন্যান্য পরিচালন‌ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১তম সংসদের প্রথম ২২ অধিবেশনের (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩ পর্যন্ত) পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংসদীয় কার্যক্রমে প্রতি মিনিটে ব্যয় হয় গড়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৬৪ টাকা। দ্বাদশ সংসদের খরচের পরিসংখ্যান জানা যায়নি।

একাদশ জাতীয় সংসদের পরিসংখ্যান ধরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনায় রাষ্ট্রের মোট ব্যয় হবে ৮১ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

একেকজন সংসদ সদস্য ১২ মিনিট করে বক্তব্য রাখলে সর্বোচ্চ প্রায় ১২০০ শব্দ উচ্চারণ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, যে ভাষণ নিয়ে সংসদে আপত্তির ঝড় উঠেছে, তার ওপর এত দীর্ঘ আলোচনা ও ব্যয় কতটুকু যৌক্তিক।

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিগত দিনে ফ্যাসিস্টদের দোসর ছিলেন। তাই উদ্বোধনী অধিবেশনে তার ভাষণের সময় আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। কার্য উপদেষ্টা বৈঠকে তার ভাষণের ওপর আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, রেওয়াজের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিস্টকে নরমালাইজ করার অপচেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণকে ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। আলোচনায় অংশ নিলেও আমরা ফ্যাসিবাদের সব অপকর্ম তুলে ধরব।

আইনি প্রেক্ষাপট

সংবিধানের ৭৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনা ও ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আলোচনায় অংশ নেন, যেখানে সাধারণত সরকারের নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন খাতের সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, ১২ মার্চ উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাকে ‘জুলাইয়ের গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন। রাষ্ট্রপতি বক্তব্য শুরু করলে বিরোধী সদস্যরা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দিতে দিতে কক্ষ ত্যাগ করেন। হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি তার ভাষণ শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version