ঢাকা প্রতিনিধি
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত এবং পুনঃপরীক্ষার দাবিতে রাজধানীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে এবার ওয়াকিটকির ব্যবহার দেখা গেছে। উত্তরায় সড়ক অবরোধে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থীকে ওয়াকিটকি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
একই দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ‘দফা এক, দাবি এক, মিলনের পদত্যাগ’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’ এবং ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী আইমান মাহমুদ বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রে ২০২৫ সালের প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বৈরী আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
সিটি কলেজের শিক্ষার্থী সিয়াম বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। এছাড়া পূর্ণ সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এতে অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ভালো হয়নি এবং তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
এর আগে সায়েন্সল্যাব মোড়ে তিন দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।
সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শেষে আন্দোলনরত প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তারা নীলক্ষেত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে ভিসি চত্বরের পূর্ব পাশে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে কিছুক্ষণ অবস্থান করে তারা আবার পলাশী মোড় হয়ে শিক্ষা বোর্ডের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, তেজগাঁও কলেজসহ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তবে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ দেখা যায়। কেউ সচিবালয়, কেউ শিক্ষা বোর্ড, আবার কেউ শাহবাগে যাওয়ার পক্ষে মত দিলে একপর্যায়ে কর্মসূচির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।