top3

সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার

Published

on

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমন মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন নয়। বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধমূলক ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে নিছক গণমাধ্যমের অতিরঞ্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে এমন কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, কিছু মহলে বাছাইকৃত ও পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সাধারণ ভারতীয় জনগণকে বাংলাদেশ, কূটনৈতিক মিশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। বাংলাদেশ ভারতের বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে ভারতে বড়দিন ঘিরে খ্রিষ্টানদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি দেশটিতে মুসলমানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘুর ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, গণপিটুনি, নির্বিচারে আটক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার ঘটনায়ও উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম বলেছেন, চলতি মাসে ভারতের ওড়িশায় মুসলিম যুবক জুয়েল রানাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটে। বিহারে মুহাম্মদ আতাহার হোসেন, কেরালায় বাংলাদেশি সন্দেহে এক নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা এবং বিভিন্ন স্থানে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের ওপর গণপিটুনি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বড়দিন উদযাপনের সময় ভারতজুড়ে খ্রিষ্টানদের প্রতি সংঘটিত গণসহিংসতার বিষয়েও বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনাকে ঢাকা ঘৃণাজনিত অপরাধ ও লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা হিসেবে দেখে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনবে। প্রত্যেক দেশেরই দায়িত্ব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা ও মর্যাদা দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version