মানিলন্ডারিং মামলায় স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রীর এপিএস এএইচ এম ফুয়াদের ৫ কোটি ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮৬ টাকার সম্পত্তি ক্রোক করেছে সিআইডি।
ফরিদপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ প্রদান করেন। ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে একটি ফ্ল্যাট ও ৩৮.৯৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে।
সিআইডির তদন্তে জানা যায়, মন্ত্রীত্বকালীন সময়ে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কর্মরত ফুয়াদ ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই রুবেলকে সঙ্গে নিয়ে “হেলমেট বাহিনী” নামে একটি সশস্ত্র প্রভাবশালী গ্রুপ তৈরি করেন। এই বাহিনীর ক্ষমতা ব্যবহার করে এলজিইডি, স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল, গণপূর্ত, বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের টেন্ডার নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন তিনি। টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়েও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ফুয়াদ নিজের নামে ছাড়াও প্রথম স্ত্রী ফারজানা ফোয়াদ, দ্বিতীয় স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাবলী, দ্বিতীয় পক্ষের শাশুড়ি নাদিরা বেগমসহ নামেঅন্য নামে বহু সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। এসব সম্পত্তি তার ভাই ও আত্মীয়দের দখলে রয়েছে। এছাড়া বেনামে বিলাসবহুল বাস কিনে পরিবহন খাতেও বিনিয়োগ করেছেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি কোতোয়ালী থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলা নং-১৩, তারিখ ০৩/০৮/২০২৫ খ্রি. রুজু করে। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।