রাজনীতি

সিঙ্গাপুর-কানাডা নয়, ইনসাফভিত্তিক ‘উত্তম বাংলাদেশ’ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

Published

on

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না এবং কোনো দুর্নীতিবাজকে প্রশ্রয় দেব না। ইনসাফ ভিত্তিক এমন এক সমাজ গড়ব যেখানে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী বা সাধারণ নাগরিক—সবার সাজা হবে সমান।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহিষালবাড়ি মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান জানান, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১১টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদ এবং সংস্কারের সমস্ত প্রস্তাব মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নের ওয়াদা যারা করেছে, আমরা তাদের নিয়ে ১১ দলে একত্রিত হয়েছি। আমাদের এই জোটে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি বা নারী নির্যাতনকারী নেই। আমরা বেছে বেছে সৎ লোকদের মনোনয়ন দিয়েছি।”

বিদেশের সাথে তুলনা না করে দেশকে নিজস্ব গৌরবে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, “অনেকে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানানোর কথা বলেন। আমরা বলি, আমরা একে একটি ‘উত্তম বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়তে চাই। যেখানে সীমানা ঠিক থাকবে, কিন্তু ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলবে—আমিই বাংলাদেশ।”

নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয়ে তিনি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন:

মা-বোনেরা ঘরে, বাইরে এবং কর্মস্থলে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবেন।

কর্মজীবী নারীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থানে বেবি কেয়ার ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে।

শিল্প এলাকায় শ্রমিক ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না চাইতেই পরিশোধের নীতিমালা করা হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে যা যুবকদের বেকার বানাবে না, বরং দেশ গড়ার লড়াকু সৈনিক হিসেবে তৈরি করবে। এছাড়া বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাজশাহী-১ আসনের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’, আর দ্বিতীয় ভোট হবে দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশের জন্য ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায়।”

জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সভায় নারী কর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version