top2

সেনা অভিযান হলে ভারতের হামলার হুমকি ছিল: স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন

Published

on

স্টাফ রিপোর্টার

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সময় সেনা অভিযান চালানো হলে ভারতের পক্ষ থেকে হামলার হুমকি ছিল—জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন।

ভারতের হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমদ তার সাক্ষ্যে জানিয়েছেন—অভিযান শুরু হলে ভারত বাংলাদেশের ওপর সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে উদ্বেগের কথা তাকে জানানো হয়। এই কারণে পিলখানা অভ্যন্তরে তৎক্ষণাত সেনা অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—কমিশনের দাবি

জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, পিলখানার ওই ঘটনার পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়ান-ইলেভেন সময় বিডিআরের ‘ডাল-ভাত’ কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ, প্রেষণে সেনা কর্মকর্তাদের বিডিআরে নিয়োগ-সংক্রান্ত অসন্তোষসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনকে বিদ্রোহে রূপ দিতে কাজ করেছে। প্রভাবশালী প্রতিবেশি দেশের “ইন্ধনের” কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বলে জানায় কমিশন।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও প্রতিবেদনে

কমিশনের প্রতিবেদনে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু অংশ এই ঘটনায় দলগতভাবে জড়িত ছিলেন এবং পরিকল্পনায়ও ভূমিকা রেখেছেন বলে কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতির বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—তবে এসব অভিযোগ কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান-ভিত্তিক এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞ

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহে তৎকালীন ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। ঘটনাটির পর দুটি মামলায় বহু সদস্য সাজাপ্রাপ্ত হলেও “মূল পরিকল্পনাকারীরা ধরা–ছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন” বলেই কমিশন প্রতিবেদনে মন্তব্য করেছে।

প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সত্য উদ্‌ঘাটন নিয়ে জাতি বহু বছর ধরে অন্ধকারে ছিল। আপনারা যে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতির স্মরণে থাকবে। এই প্রতিবেদন বহু বিষয়ে শিক্ষণীয় এবং জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে।”

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সন্ধ্যায় কমিশন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকেও এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version