যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত কার্যকর থাকা অবস্থাতেই ইরান তাদের কয়েকটি সন্দেহভাজন পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মেরামত ও পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের এসব পদক্ষেপ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সিএনএন ও ‘ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি’ যৌথভাবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তী সময়েই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুনর্গঠনের তৎপরতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তেহরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পারচিন সামরিক কমপ্লেক্সের একটি স্থাপনা, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার বিস্ফোরক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ রয়েছে, সেখানে মেরামতের কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই স্থাপনার জুন মাসের স্যাটেলাইট চিত্রে বোমার গর্তগুলো অস্থায়ীভাবে ঢেকে রাখতে দেখা যায়। জুলাইয়ের ছবিতে সেখানে আরও স্থায়ী ধরনের সুরক্ষামূলক জালের আচ্ছাদন বসানোর চিত্র ধরা পড়ে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কয়েক দিনের মধ্যেই টানেলমুখে একাধিক যানবাহনের চলাচল শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কার্যক্রম পারমাণবিক সক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং তা চুক্তির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ছাড়া ইরানের কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগারেও সংস্কারকাজ চলার প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসফাহান, ফোরদো ও নাতাঞ্জের মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো মেরামত কার্যক্রম শনাক্ত হয়নি।
গত জুনে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা, মার্কিন নৌ-অবরোধ শিথিল করা এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিল।
তবে সমঝোতা কার্যকর থাকার মধ্যেই স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়া এসব কর্মকাণ্ড নতুন করে অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। এদিকে হরমুজ প্রণালীতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা আবারও বেড়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে।