ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন মেডিসিন ক্লাব।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও ইবি মেডিকেল চিফ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বুথে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করেন এছাড়া ভলেন্টিয়ার ও সহযোগিতায় ছিল ইবির ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ সেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা।
এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চর্মরোগ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাপ ও সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও যারা রক্তদানে ইচ্ছুক তাদের থেকে রক্ত নেওয়া হয়।
রক্তিমার একজন প্রতিনিধি বলেন, “এই ব্লাড ডোনেশন প্রোগ্রাম এবং ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো মানুষ যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়, সেই দিক থেকে চিন্তা করেই আজকের এই প্রোগ্রাম। মূলত সমাজসেবা এবং মানবসেবার কাজের জন্যই আমরা এই প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি।”
মেডিসিন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ সাদ্দাম শিমুল বলেন, “আমাদের এই ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টির মতো অপারেশন হয়ে থাকে, যার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রক্তের অভাবে মাত্র ৬ বছরের একটি শিশু মারা যায়। আমরা যেন ভবিষ্যতে এমন সমস্যার সম্মুখীন না হই, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই রক্তদান ও হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের প্রতিটি সেশন থেকে একজন করে এম্বাসেডর বা ‘মেডিসিন ক্লাব অফিসার’ নিয়োগ করা হবে। তারা তাদের নিজস্ব বিভাগের প্রতিটি সেশনের রক্তের তথ্যাদি ও ব্লাড গ্রুপ সংক্রান্ত বিবরণ আমাদের প্রদান করবেন। তাদের মেডিসিন ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। সেশন শেষে ফ্রি ফেস্ট, সার্টিফিকেট এবং গিফটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রদানকৃত আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে তারা মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সম্মাননা ও সেবা পাওয়ার পাশাপাশি মেডিসিন ক্লাবের যেকোনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রোগ্রামে বিশেষ আমন্ত্রণ পাবেন।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অ্যান্ড ব্লাড ডোনেশন এই প্রোগ্রামটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য যারা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইবির যে সকল অর্গানাইজেশন বিশেষ করে ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ তাদের অংশীদারিত্বে এই প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে মেডিকেল কলেজের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি টিম গঠন হবে, যাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে তাদের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে, সেই কাজটিও বাস্তবায়িত হবে।”