ক্যাম্পাস

ইবি সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সায়েন্স ক্লাবের উদ্যোগে ‘ল্যাবরেটরি ও অগ্নিনিরাপত্তা: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি এবং জরুরি করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে প্রথম পর্ব ও বটতলায় দ্বিতীয় পর্ব আয়োজনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ কর্মশালা পরিচালিত হয়। এতে টেকনিক্যাল সহযোগী হিসেবে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একটি দল অংশ নিয়ে ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি ও তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে শতাধিক শিক্ষার্থীকে হাতেকলমে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করে।

সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মো. জুনাইদুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সায়েন্স ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলী ও কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াদুদ হুসাইন। এতে রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও সায়েন্স ক্লাবের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালার প্রথম পর্ব পরিচালনা করেন রিসোর্স পার্সন অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক। এতে তিনি ‘ল্যাবরেটরির নিরাপত্তা পদ্ধতি’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিদলের পরিচালনায় ‘অগ্নিনিরাপত্তা, জরুরি করণীয় ও বাস্তব প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে ভবনে আগুন লাগলে তা নেভানো, আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া ও অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার, সিলিন্ডারে আগুন লাগলে নেভানোর নিয়ম, ড্রামসদৃশ বস্তুর ভেতরের আগুন নেভানো এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ভেজা চটের ব্যবহার ইত্যাদি কৌশল শেখানো হয়।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজ আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। অগ্নিকাণ্ডের দুর্ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে; এসব থেকে নিজেরা নিরাপদ থাকার পাশাপাশি চারপাশের মানুষকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করব। এছাড়া ল্যাবরেটরি নিরাপত্তার বিষয়ে যা শেখানো হয়েছে, তা আমরা বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করব।’

কর্মশালা শেষে সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মো. জুনাইদুল মোস্তফা কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তা ও ল্যাবরেটরি নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আদ্যোপান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি এটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে অনেক কাজে আসবে।’

রিসোর্স পার্সন অধ্যাপক ড. মো. আহসানুল হক বলেন, ‘আমাদের দেশে বরাবরই নিরাপত্তা বিষয়টি উপেক্ষিত, যা একটি জাতীয় সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ের চিত্র দেখলে বোঝা যায়, ল্যাবরেটরি বা বাইরে প্রতিনিয়ত যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে, তার পেছনে সচেতনতার অভাবই বড় কারণ। এই সংকটকালে আমাদের কী করা উচিত আর কী উচিত নয়, তা এ ধরনের একটি আয়োজনের মাধ্যমে হাতেকলমে শেখানো হয়েছে। এটি একটি দারুণ উদ্যোগ।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে প্রথম সারিতে থাকে, কারণ তারা এ বিষয়ে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বাংলাদেশে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসে, কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকায় আন্তরিকতা সত্ত্বেও উদ্ধারকাজে প্রত্যাশিত সাফল্য আসে না। দুর্ঘটনা ঘটার পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে মাঝে মাঝে কিছু বিলম্ব বা বিড়ম্বনা তৈরি হয়। তাই দেশসেবার এই পেশায় যারা যুক্ত আছেন, তাদের পাশাপাশি আমরা যদি প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় সহায়তা করতে পারি, তবে যেকোনো বিপর্যয় থেকে দেশের মানুষ ও সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version