top3

ইসরায়েলের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি ইরানের

Published

on

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং চলমান সংঘাতের পরবর্তী ধাপে তারা এমন কিছু উন্নত ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে যা আগে কখনো ব্যবহার করা হয়নি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন যে, ইরানের শত্রুদের জন্য হামলার পরবর্তী ঢেউয়ে অত্যন্ত ‘বেদনাদায়ক আঘাত’ অপেক্ষা করছে। তেহরানের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নায়েইনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি এবং বিধ্বংসী অস্ত্রশস্ত্র ইতিমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে ‘অগ্রসরমান’ এবং এগুলো এখনো পর্যন্ত বড় পরিসরে মোতায়েন করা হয়নি। তাঁর মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যে সংঘাত হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত।

তিনি এই লড়াইকে একটি ‘পবিত্র ও বৈধ যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন যে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোনো ধরনের আত্মত্যাগ করতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পিছপা হবে না। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইরান কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই নেই, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক কৌশলের দিকে এগোচ্ছে।

তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নায়েইনি আরও উল্লেখ করেন যে, শত্রুপক্ষ ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে এখনো অন্ধকারে রয়েছে। ইরান তাদের অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তির যে ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, তা যেকোনো বড় ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় সক্ষম।

তিনি দাবি করেন যে, আসন্ন দিনগুলোতে ইরানের সামরিক পদক্ষেপগুলো শত্রুপক্ষকে চমকে দেবে এবং তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন করবে। সামরিক মহড়া ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে ইরান এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং যেকোনো মূল্যে তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে বলে তিনি পুনরায় আশ্বস্ত করেন।

ইরানের এই হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই নতুন মারণাস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা করলেও ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও ক্ষীণ করে দিয়েছে। পরবর্তী কয়েক দিন এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সংকটাপন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ তেহরান তাদের নতুন অস্ত্রশস্ত্রের কার্যকারিতা প্রদর্শনের জন্য যে কোনো সময় বড় পদক্ষেপ নিতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version