top1

এখনই ধনী দেশ হতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ

Published

on

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কেন এই পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত?

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সম্প্রতি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটির (সিডিপি) কাছে পাঠানো চিঠিতে সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংকটের কারণে উত্তরণের জন্য দেওয়া প্রস্তুতির সময়টি যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এই আবেদনটি গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপি চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে পাঠানো হয়।

আবেদনপত্রের প্রধান যুক্তিগুলো

সরকারের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি প্রধান দিক তুলে ধরা হয়েছে:

বৈশ্বিক সংকট: কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

অভ্যন্তরীণ চাপ: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অব্যাহত চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি।

সংকট ব্যবস্থাপনা: চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তুতির বড় একটি অংশ ব্যয় হয়েছে মূলত সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা এবং ‘টিকে থাকার লড়াইয়ে’।

বাণিজ্য সুবিধায় বড় ঝুঁকির আশঙ্কা

বাংলাদেশ এখনই উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশ কিছু শুল্কমুক্ত সুবিধা (যেমন—ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি) হারাবে।

রফতানি খাত: বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, হঠাৎ এই সুবিধা চলে গেলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

বিজিএমইএ-র অবস্থান: বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদুল হাসান খান এই সময় বাড়ানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যাতে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানো যায়।

অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ ও সংশয়

তবে এই সময়সীমা বাড়ানো কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি-র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন:

“এলডিসি উত্তরণ একটি সূচকভিত্তিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ এখনও তিনটি সূচকেই (মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা) নির্ধারিত সীমার ওপরে রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র সামষ্টিক অর্থনীতির চাপ দেখিয়ে সময় বাড়ানো পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version