Connect with us

top2

গাজার ছাই থেকে ফিলিস্তিনের পুনর্জন্ম

Published

on

হাজার বছরের অপমান, বঞ্চনা আর বন্দিত্বের নাগপাশ পেরিয়ে ফিলিস্তিন আবার নবজন্ম নিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি শিশুর কান্না ইতিহাসে প্রতিরোধের ভাষা হয়ে উঠছে।

দীর্ঘ দশক ধরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক বিভ্রম ছড়ানো হয়েছিল—‘শুধু আলোচনাই শান্তি আনতে পারে।’ সেই বাক্যটি ছিল সভ্যতার মুখে পরানো এক মুখোশ, যার আড়ালে জমে উঠেছিল নীরব হত্যার ইতিহাস। অসলো চুক্তি ছিল সেই মুখোশের শীর্ষ অলংকার—যেখানে কূটনৈতিক কলমের আড়ালে চাপা পড়েছিল রক্ত, অবরোধ আর পরাধীনতার ক্রন্দন। বিশ্বের চোখে সেটি ছিল শান্তির মাইলফলক; কিন্তু গাজার শিশুর চোখে, হেবরনের মাতৃহারা নারীর কণ্ঠে আর পশ্চিম তীরের বালুময় মাটিতে সেটি কেবল এক নিঃশব্দ প্রতারণা। এই শান্তির মুখোশের আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিল এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা—দখলদারি, নিপীড়ন ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দীর্ঘ ছায়া।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিধানে ‘শান্তি’ মানে ছিল আনুগত্য—এমন এক নতজানু নেতৃত্ব, যারা স্বাধীনতার দাবিকে গিলে ফেলে ‘সংলাপ’-এর নামে আত্মসমর্পণ করবে। সেই ‘শান্তি প্রক্রিয়া’ হয়ে উঠেছিল দখলের এক নতুন রূপ—এক প্রাতিষ্ঠানিক প্রহসন, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘শান্তি শিল্প’। ফিলিস্তিনকে নিয়ে নানা সময়ে নানা সংলাপ হয়েছে, কনফারেন্সে বাজানো হয়েছে করতালি, কিন্তু বাস্তবে গড়ে উঠেছে আরও উঁচু প্রাচীর। ইয়াসির আরাফাত, যিনি একদা মুক্তির প্রতীক ছিলেন, সেই প্রহসনের বৃত্তে প্রবেশ করেছিলেন আশায় যে আলোচনার টেবিলে হয়তো রক্তের ইতিহাসের অবসান ঘটবে। কিন্তু নির্মম সত্য হলো—তিনি যত ছাড় দিয়েছেন, তত বেড়েছে বন্দিত্বের পরিধি। তাঁর জনগণ পেয়েছে কাঁটাতারের বেড়া, চেকপোস্টের দীর্ঘ সারি আর ছিন্নভিন্ন মানচিত্র। অসলো চুক্তি তাই হয়ে উঠেছিল প্রতারণার দলিল। এখন সময় এসেছে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার: আলোচনার নয়, আত্মত্যাগের আগুনেই জেগে উঠতে হবে ফিলিস্তিনবাসীকে। এর বিকল্প কোনো পথ নেই।

১৯৫০-এর দশকে যখন আরব জাতিরা পরাজয়ের ভারে নুয়ে পড়েছিল, তখন এই সংকীর্ণ উপত্যকার বালুময় প্রান্তরে জন্ম নেয় ফেদায়িন আন্দোলন—মুক্তির জন্য আত্মোৎসর্গে প্রস্তুত এক প্রজন্ম। সমাজতান্ত্রিক স্লোগান, ইসলামি বিশ্বাস আর মুক্তিকামী রক্ত মিলেমিশে গড়ে তোলে এক আগুনে জনপদ—গাজা। যেখানে পশ্চিম তীরের শহরগুলো দমনযন্ত্র ও প্রশাসনিক বেষ্টনীর নিচে নিস্তব্ধ, সেখানে গাজা ছিল অগ্নিদীপ্ত দুর্গের মতো—এক ক্ষুদ্র স্পার্টা, যে জানে, পরাজয় মানে দাসত্ব, আর প্রতিরোধ মানে জীবন।

২০০৬ সালে হামাসের নির্বাচনী বিজয়ের পর শুরু হয় আধুনিক ইতিহাসের দীর্ঘতম অবরোধ—একটি নগরীকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় পৃথিবী থেকে, যেন তাকে নিঃশেষ করা যায় ক্ষুধা, অন্ধকার ও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। কিন্তু গাজার মানুষ আত্মসমর্পণ করেনি। ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরের ইট দিয়ে তারা আবার ঘর তুলেছে; ভাঙা স্কুলের দেয়ালে লিখেছে বর্ণমালা; শত্রুর ফেলে যাওয়া গোলা দিয়ে বানিয়েছে নিজের অস্ত্র। এই প্রতিরোধ কোনো দলের নয়—এটি এক জাতির হৃদ্‌স্পন্দন, যা রক্তে, মাটিতে, শিশুর আঁকায় আর মায়ের অশ্রুতে মিশে আছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে আজ অবধি চলছে গাজার ওপর বোমা নিক্ষেপ। কিছু দিন আগেও যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা আসলে ছিল একটা প্রতারণার ফাঁদ। অবশ্য কিছু দিন বোমা নিক্ষেপ বন্ধ থাকলেও, আবারও শুরু হয়েছে আগের মতো পরিস্থিতি।

তবুও গাজার মানুষ নত হচ্ছে না। মৃত্যুর ছায়াতেও তারা খুঁজে নিয়েছে জীবনের আলো। যে শহরে আকাশ মানে এখন ড্রোনের গুঞ্জন, সেখানেও মায়েরা শিশুর কপালে চুমু খেয়ে বলে, ‘আমরা মরে যাব, কিন্তু হার মানব না।’ এই বাক্য কোনো সামরিক কৌশল নয়—এটি এক আত্মিক প্রতিজ্ঞা, এক জাতির পুনর্জন্মের ঘোষণা। ‘যে জাতি মৃত্যুকেও অবরোধ করতে শেখে, তাকে পৃথিবীর কোনো শক্তি দমন করতে পারে না।’

ইতিহাসে কিছু যুদ্ধ শুধু ধ্বংস নয়—তারা হয়ে ওঠে এক জাতির আত্মপরিচয়ের পুনর্লিখন। গাজার যুদ্ধ তেমনই এক অধ্যায়। ইসরায়েল এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে বর্ষণ করেছে দুই লাখ টনেরও বেশি বিস্ফোরক—ধ্বংস করেছে শহর, হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির। কিন্তু বিজয়ের মুকুট আজ তাদের মাথায় নয়। গাজার ধূলি আর ধোঁয়ার মধ্যেই ফিলিস্তিনের পতাকাই উড়ছে—অমর প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে। দুই হাজারেরও বেশি সামরিক যান ভস্মীভূত, শত শত ‘মেরকাভা’ ট্যাংক ইতিহাসের জঞ্জালে। যা করতে পারেনি কোনো আরব সেনাবাহিনী, তা করেছে অবরুদ্ধ গাজার মানুষ—নিজেদের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে।

আজ গাজার মাটি পুরো আরব জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। ইসরায়েলের নিজস্ব ইতিহাসবিদ ও সেনা কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন—গাজায় তাঁরা কেবল ব্যর্থ নয়, পরাজিত। গাজার মানুষ পুনরুদ্ধার করেছে তিনটি সত্য—আত্মসম্মান, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও জাতিসত্তা। এই প্রতিরোধ কোনো দলের নয়, কোনো মতবাদের নয়—এটি ফিলিস্তিন নামক আত্মার জয়গান, যা রক্তে লেখা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান। গাজার ধ্বংসস্তূপ তাই শুধু যুদ্ধের সাক্ষী নয়; এটি নবজাগরণের প্রতীক—এক জাতির পুনর্জন্ম, যে জাতি জানে, ইতিহাসের শেষ কথা বলে তারাই, যারা শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে।

ফিলিস্তিনের নতুন প্রজন্ম বুঝে গেছে, স্বাধীনতা চাওয়া যায় না—অর্জন করতে হয়। গাজা প্রমাণ করেছে, প্রতিরোধই একমাত্র ভাষা যা দখলদার বুঝতে পারে—এক ভাষা যেখানে শব্দ নেই, আছে আগুন; নেই বক্তৃতা, আছে আত্মত্যাগের সুর। যে নগরী মৃত্যুর উপত্যকায় পরিণত হয়েছে, সেখান থেকেই উঠেছে জীবনবোধের সর্বশ্রেষ্ঠ কবিতা—‘আমরা আছি, আমরা থাকব।’ এই বাক্য কেবল এক জাতির নয়—এটি পুরো মানবজাতির বিবেকের উচ্চারণ। কারণ, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে সভ্যতার ভণ্ড শান্তিনীতি, আর উঠে এসেছে এক নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। যদি কেউ প্রশ্ন করে—‘শেষ পর্যন্ত কে জিতেছে?’ উত্তরটি লেখা আছে গাজার আকাশেই—যেখানে বোমার ধোঁয়া সরে গেলে দেখা যায় এক পতাকা, রক্তে ভেজা কিন্তু উড়ছে অবিচল; যেখানে প্রতিটি শিশুর চোখে প্রতিফলিত হয় সেই অমর ঘোষণা—‘আমরা আছি, আমরা থাকব।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

ট্রাম্পকে নিজের নোবেল পদক উপহার দিলেন মাচাদো

Published

on

By

ভেনেজুয়েলার ভিন্ন মতাবলম্বী রাজনীতিবিদ এবং ২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার হিসেবে নিজের নোবেল পুরস্কারের পদক তুলে দিয়েছেন। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ উপহার প্রদান করেছেন তিনি।

মাচাদোর এ উপহার আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। তার প্রশংসাও করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন মাচাদো। সেখানে ট্রাম্পের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকের পর সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আজ ভেনেজুয়েলার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। আমি আমার নোবেল পুরস্কারের পদক যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উপহার দিয়েছি।”

মাচাদোর এই মন্তব্যের পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি এবং অন্যান্য পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম। তবে হোয়াইট হাউসের কোনো কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে) আমি যা যা করেছি, তার পুরস্কার হিসেবে মারিয়া তার নোবেল শান্তি পদক আমাকে উপহার দিয়েছেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অপূর্ব নিদর্শন স্থাপন করলেন তিনি।”

এ ইস্যুতে মরক্কোর নোবেল কমিটির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিল বিবিসি। তবে কমিটি সরাসরি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে বলেছে, “নোবেল পুরস্কার যদি একবার ঘোষণা করা করা, তাহলে তা বাতিল করা যায় না এবং কোনো নোবেলজয়ী তার পুরস্কার নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারেন না, অন্যকে দানও করতে পারেন না। কোনো নোবেলজয়ী যদি তার পদক অন্যকে দিয়ে দিতে চান, দিতেই পারেন— পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে ওই নোবেলজয়ীর নামই সব জায়গায় নথিবদ্ধ হবে।”

প্রসঙ্গত, গত ৪ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সেনা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। বর্তমানে তারা উভয়েই নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারে বন্দি আছেন। মার্কিন প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদক সরবরাহের অভিযোগে আদালতে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়ার বিচার হবে।

মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অপহরণ করার কয়েক ঘণ্টা পর ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে দেলসি রদ্রিগুয়েজকে।

মাচাদো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে চান। দেশটির মাদুরোবিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ তাকে সমর্থনও দিয়েছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এ ব্যাপারে কোনো সবুজ সংকেত দেন নি। উপরন্তু মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তারের পর মাচাদো সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “মারিয়া একজন চমৎকার মহিলা; কিন্তু তিনি সরকার চালাতে পারবেন বলে আমার মনে হয় না। তাছাড়া সরকারপ্রধান হওয়ার জন্য দেশের ভিতরে যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রয়োজন— তা তার নেই।”

সূত্র : আরটি, বিবিসি

Continue Reading

top2

ইরানে হত্যা চলছে না, আমাকে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে: ট্রাম্প

Published

on

By

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মর্মে ‘আশ্বস্ত’ করা হয়েছে যে—ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে ফাঁসি কার্যকর করার ‘কোনো পরিকল্পনা নেই।’ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলো সংকটের প্রতি একটি পরিমিত বা সংযত পদ্ধতির সংকেত দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। বুধবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তাঁকে জানানো হয়েছে যে ইরানে ‘বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিগুলো স্থগিত করা হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন করে শুরু হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে কাতার থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তিনি ‘অন্য (ইরানের) পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এই সংকট কীভাবে এগিয়ে যায় তা পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে তিনি সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করতে যাচ্ছি যে, প্রক্রিয়াটি কী হয়’, এবং এর আগে তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের কাছ থেকে একটি ‘অত্যন্ত ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।

গতকাল বুধবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আরাগচিকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তখন তিনি বলেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফাঁসি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার মাইক হানা রিপোর্ট করেছেন, বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো ইরানের প্রতি তাঁর সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি এখনও বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তাঁকে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ব্রিফ করেছে। তবে আমরা এইমাত্র যে বক্তব্যগুলো শুনলাম, তা পরিস্থিতির সম্ভাব্য শীতলতা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন পদক্ষেপের হুমকি থেকে পিছিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়।’

সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র নন-রেসিডেন্ট ফেলো সিনা তুসি বলেন, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হওয়ার যে তথ্য ট্রাম্প পেয়েছেন বলে দাবি করছেন, তা আপাতদৃষ্টিতে সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মানজনক পথ’ (face-saving way) বলে মনে হচ্ছে, যদিও এটি পুরোপুরি সংঘাতের সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। তুসি বলেন, ‘ট্রাম্পের কথাকে শতভাগ গুরুত্ব সহকারে নেওয়া কঠিন। কিন্তু আমরা জানি, বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার প্রতি তাঁর এক ধরনের অনীহা রয়েছে, আর ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিটি টেবিলে ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তিনি বের হওয়ার জন্য একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছেন, তবে আমি এটাকে পুরোপুরি নাকচ করে দেওয়া হিসেবে নেব না।’ তিনি যোগ করেন, ট্রাম্পের অতীতেও একই সাথে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া এবং ইরানের সাথে আলোচনার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে।

তেহরানকে মার্কিন দাবির সাথে আরও বেশি সংগতিপূর্ণ করতে ট্রাম্প অতীতেও সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে তিনি বলেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন-পীড়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে।

ওয়াশিংটন ডিসির স্টিমসন সেন্টারের ডিস্টিংগুইশড ফেলো বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সে বিষয়ে ট্রাম্প সম্ভবত ‘দ্বিধাবিভক্ত।’ তিনি বলেন, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘আরেকটি দ্রুত বিজয়’ পছন্দ করবেন, তবে ‘আমি মনে করি না যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চান, যা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।’

তিনি যোগ করেন, তিনি আশা করছেন—ট্রাম্প সীমিত আকারে কিছু হামলা চালাতে পারেন যাতে তিনি দাবি করতে পারেন যে ইরানি জনগণকে ‘সাহায্য’ করার প্রতিশ্রুতি তিনি রক্ষা করেছেন, কিন্তু তা যেন কোনো বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত না করে।

এর আগে বুধবার, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র কাতারের বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়। এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন যে, তেহরান তার প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছে যে, ওয়াশিংটন যদি হামলা চালায় তবে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত করবে। এই আঞ্চলিক উত্তজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় বেশ কয়েকটি দেশ ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতা জারি করেছে

Continue Reading

top2

ইরান-ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ‘হাই অ্যালার্ট’

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যে কোনো হামলার মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় উচ্চসতর্কতা অবলম্বন করছে দখলদার ইসরায়েল।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও টিআরটি ওয়াল্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইআরজিসি বিমান বাহিনীর কমান্ডার সারদার মুসাভি বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ১২ দিনের যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় বেড়েছে। এই সময়ে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। ফলে বাহিনী এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রস্তুত।

এদিকে বার্তাসংস্থা টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে কিনা সেই প্রশ্নে আটকে নেই। বরং তারা ধরে নিয়েছে, মার্কিন হামলা কখন হবে, সেটাই এখন মূল বিষয়। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান যে কোনো সময় ইরানে হামলা শুরু করতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগাম অবহিত করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। কারণ ইরানের পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলকে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। এই সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল তাদের সব সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। বিশেষ করে বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় করা হয়েছে।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামরিক করসপন্ডেন্ট ড্যারন কাদোস বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দেবেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, এ ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ, ইয়েমেন থেকে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, এমনকি সিরিয়া ও ইরাক থেকেও সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা চালাতে পারে এবং অন্যান্য দেশে অবস্থিত ইরানি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে

Continue Reading

Trending