ব্ল্যাকমেইল ও মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আদালত এই আদেশ দেন। সুরভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রাশেদ খান জানান, জন্মসনদে বয়স সংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং শিশু আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এর আগে, সুরভীকে সোমবার গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২১ বছর বয়সি দেখিয়ে পুলিশ দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল। তবে ২০১৮ সালের নিবন্ধিত জন্মসনদ অনুযায়ী তার প্রকৃত বয়স ১৭ বছর ১ মাস ৭ দিন। শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সি শিশুকে রিমান্ডে নেওয়া বা সাধারণ কারাগারে রাখা যায় না। পুলিশ মামলার এজাহারে বাদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বয়স বাড়িয়ে রেকর্ড করায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় সুরভীর নামে ৫০ হাজার টাকার চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ অভিযোগ করে, সুরভী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতা, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আদায় করেছে। বিশেষ করে গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সুরভীর আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, জন্মসনদ অনুযায়ী তিনি শিশু এবং আন্তর্জাতিক শিশুসংক্রান্ত সনদ অনুযায়ী তাকে রিমান্ডে নেওয়া অবৈধ। এর আগে পুলিশ বয়স বাড়িয়ে আদালতে উপস্থাপন করায় তার জামিন নামঞ্জুর হয়েছিল। তবে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত শিশু আইনের বাধ্যবাধকতা ও প্রকৃত বয়স বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর সুরভীকে সাধারণ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে মামলার অভিযোগের তদন্ত চলবে। পাশাপাশি বয়স ও তথ্য গোপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও মানবাধিকার কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন।