top3

টানা বর্ষণে মনপুরার ১০ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি ১৫ হাজার মানুষ

Published

on

টানা পাঁচ দিনের বর্ষণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে উপকূলজুড়ে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলসহ বসতবাড়ি, রাস্তা ও আঙিনা পানিতে ডুবে গেছে। অনেক এলাকায় ঘরের ভেতরেও দুই থেকে তিন ফুট পানি উঠেছে। ফলে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না পানিবন্দি পরিবারগুলো।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের। কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। পানিতে চুলা ডুবে যাওয়ায় বহু ঘরে রান্না বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন, দাসেরহাট, সোনারচর ও চরজ্ঞান; সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া ও মাস্টারহাট; দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর এবং মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক ও আন্দিরপাড় গ্রামের অধিকাংশ এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে রয়েছে। হাজিরহাট ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দাসেরহাট এলাকা সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ওই এলাকার বাসিন্দা মফিজ মিস্ত্রি বলেন, ‘বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ এখনো খোঁজ নেয়নি।’

এদিকে ভোররাতের জোয়ারে উপজেলার বেড়িবাঁধহীন চর কলাতলী ইউনিয়নের কাজীরচর ও ঢালচরের নিম্নাঞ্চল দুই থেকে তিন ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষ আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনা নদীতে ভাটার সময় বিপৎসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বিকেলের জোয়ারে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, মনপুরা উপকূলে জলাবদ্ধতা কমাতে খাল খননের একটি প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত পানি নিষ্কাশন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version