Connect with us

top1

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় প্রাধান্য বিএনপির

Published

on

রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে দলের ঘোষিত ৩১ দফা, জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ইশতেহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন বক্তব্যের মূল দিকনির্দেশনাও প্রতিফলিত হবে। এর মধ্যে তাঁর ঘোষিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকারও ইশতেহারে স্থান পাচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম ও ইশতেহার প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইশতেহার তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এখন ইশতেহারের খসড়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইশতেহার প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়ায় সংযোজন-বিয়োজন করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই দলের স্থায়ী কমিটি ইশতেহার চূড়ান্ত করবে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীর সামনে তা তুলে ধরা হবে। প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ ও নির্বাচনী প্রচার শুরুর দুই-এক দিন আগে বা পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে গত মঙ্গলবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই চূড়ান্ত করে আমরা এটা ঘোষণা করতে পারব বলে আশা করছি।’

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নির্ধারিত ৮টি বিশেষ খাত। ৩১ দফার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার। এ ছাড়া জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ইশতেহার তৈরির কাজ শেষের দিকে। তবে কবে নাগাদ জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, সেই দিনক্ষণ এখনো ঠিক হয়নি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে দেড় কোটির বেশি নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

দীর্ঘদিন ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকা বিভিন্ন বয়সী মানুষের পাশাপাশি ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে তরুণ সমাজের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ও উদ্দীপনা বেড়েছে। বিএনপির সূত্র বলেছে, এই বাস্তবতা বিবেচনায় তরুণদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ভোটারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং ৬ কোটির বেশি নারী ভোটারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র বলেছে, ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া জনকল্যাণমুখী ৮ খাতের মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান এবং মসজিদ-মাদ্রাসাভিত্তিক ধর্মীয় নেতাদের মাসিক সম্মানী। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা স্বল্পমূল্যে সার, উন্নত বীজ ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি পাবেন। এ ছাড়া শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্ব দেবে বিএনপি। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সব স্তরে খেলাধুলার উন্নয়নেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এসএমই, ব্লু ইকোনমি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, গেমিং ও স্টার্টআপ খাতকে প্রধান উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও বেশি তরুণকে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত ও পাদ্রিদের জন্য মাসিক সম্মানী দেওয়ার বিষয়টিও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকার করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি এ বিষয়কে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মূলত বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা ও সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘ভিশন ২০২৩’-এর আলোকে দলের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

২৫৩ আসনে সমঝোতার ঘোষণা, জামায়াত ১৭৯ ও এনসিপি ৩০

Published

on

By

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জোটের পক্ষ থেকে এ আসন সমঝোতার ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২।

এর বাইরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের জন্য আসন চূড়ান্ত করা হয়নি। চূড়ান্ত হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সমঝোতার বিষয়টিও।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রাথমিক বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির(এলডিপি) অলি আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

সাবেক হিট অফিসার বুশরাকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

Published

on

By

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের মেয়ে ও প্রথম চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

জুলাই আন্দোলনের পর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে, তার স্ত্রী শায়লা সাগুফতা ইসলাম ও মেয়ে বুশরা আফরিনের বিদেশযাত্রায় গত ৭ জানুয়ারি নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে মশার লার্ভা নিধনের ওষুধ ছিটানোর যন্ত্র কেনাকাটায় সরকারি অর্থ অপচয়, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে আতিকুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট অন্যরা জড়িত এরকম অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং দেশের বাইরে— কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

Continue Reading

top1

ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন রেখে ২৫০ আসনে জামায়াতসহ ১০ দলের সমঝোতা, রাতে প্রার্থী ঘোষণা

Published

on

By

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৫০টি আসন রেখে বাকি ২৫০ আসনে সমঝোতা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দল। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য’।

আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনকে শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় রাখতে আলোচনার জন্য ১০ দলের পক্ষ থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠকে বসে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, কোন দলকে কতটি আসনে ছাড় দেওয়া হবে, বৈঠকে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি জামায়াত কার্যালয়ের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, আজ রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। ৫০ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের জন্য। তারা না এলে পরবর্তী সময় বাকি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

দুপুরে চলমান বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সাংবাদিকদের জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তিনি চরমোনাই পীরের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মামুনুল হক বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক শেষ হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। রাতের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে। তিনি ইসলামী আন্দোলনকে সঙ্গে নিয়েই আসন ঘোষণা করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। এই জোট নিয়ে আকাঙ্ক্ষার জায়গা আছে, এটা জনগণ বুঝে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ হবে, এটা সবার প্রত্যাশা। যেসব মতভিন্নতা হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো কেটে যাবে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে এই জোট যেন অটুট থাকে। কারও মতানৈক্য থাকলেও জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ৩০০ আসনে কোনো দলীয় প্রার্থী হবে না, সবাই জোটের প্রার্থী হবে। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করবে।

আজকের বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ অংশ নিয়েছেন।

এই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বেলা দেড়টার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকের বিষয়ে তাঁরা সকাল ১০টার দিকে জানতে পেরেছেন। সে কারণে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে জামায়াতের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলমান। এখনো আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। আলাদা হয়ে যাওয়ারও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এখনো সমঝোতার দ্বার খোলা রাখছে দুই দল
জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে ইসলামী আন্দোলনের। এর ফলে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বে কয়েকটি দল নিয়ে নতুন সমঝোতার আলাপও উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত জামায়াত বা ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে আলাদা হয়ে জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপরন্তু দুটি দলই এখনো সমঝোতার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে।

আজ দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাস দিয়ে বলেন, ‘সম্প্রতি লক্ষ করছি, কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সংহতি ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যাপারে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন মন্তব্য ও লেখালেখি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেছেন।’

Continue Reading

Trending