Connect with us

top1

দিল্লিতে হাসিনার বাসায় গোপন বৈঠক: দেশজুড়ে চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা

Published

on

ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিকে তাদের প্রধান রণকৌশল প্রণয়নের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। সেখান থেকেই তারা দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার মাধ্যমে সরকার পতনের নীলনকশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে দলটির পলাতক নেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা গণহত্যা মামলার রায় ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পরই রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩৭ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্রশস্ত্র। 

দিল্লিতে শেখ হাসিনার গোপন আস্তানা থেকেই চলছে নাশকতার গোপন প্রস্তুতি। তবে আন্দোলন পরিচালনার কৌশল নিয়ে মা শেখ হাসিনা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মধ্যে গত ৪ নভেম্বর কথাকাটাকাটি হয়। পুতুল মাকে এই মুহূর্তে চুপ থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষেপে যান বলে হাসিনার ওপর নজরদারিতে নিয়োজিত ঢাকার নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে ভারত সরকারের দেওয়া সুরক্ষিত একটি বাড়িতে শেখ হাসিনা বর্তমানে অবস্থান করছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ এশিয়া চ্যাপ্টারের প্রধানের পদ হারানোর পর থেকে সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকছেন। বাসভবনটিকে কার্যত একটি ‘ওয়ার রুম’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে নিয়মিত শারীরিক চেকআপের জন্য চিকিৎসক ও নার্স এবং বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ওই বাসায় থাকছেন ভারতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন হাইকমিশনার। পাশাপাশি ভারতীয় এস্টাবলিশমেন্টের পছন্দ করা একজন আইনজীবী আইনি ও গণমাধ্যমের বিষয়গুলো দেখভাল করছেন। দিল্লি প্রেস ক্লাবের একজন সাংবাদিকও সহযোগিতা করছেন। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রশ্নের উত্তরগুলো তারা দেখভাল করেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।

গত ১১ অক্টোবর শেখ হাসিনার দিল্লির বাসায় সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠক হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চার ঘণ্টাব্যাপী পলাতক শেখ হাসিনার দিল্লির গোপন বাসভবনে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়াও সাভার এলাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও এমপি মহিউদ্দিন বাচ্চু, কক্সবাজারের সাবেক এমপি ও হুইপ সাইমুম সরোয়ার কমল, ফরিদপুরের সাজেদা চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী বাবলু এবং টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি ছোট মনির বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধানত তিনটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়—প্রথমত, সম্প্রতি ‘গুম প্রসিকিউশন চার্জে’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ। দ্বিতীয়ত, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন জোরদার করা। তৃতীয়ত, দলকে সংগঠিত করা এবং তৃণমূলপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বিভাগীয় শহর এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতার বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১১ অক্টোবরের গোপন বৈঠকে কে কে ছিলেন

বৈঠকে যারা ছিলেন, তাদের নিয়েই পুতুল মায়ের কাছে প্রশ্ন তোলেন। পুতুলের বিশ্লেষণ হচ্ছে, ওই লোকগুলোর কারণেই হাসিনার এই পরিণতি হয়েছে। আর হাসিনার বক্তব্য হচ্ছে, এদের দিয়েই পরিস্থিতি পাল্টাতে হবে।

অন্য একটি সূত্র আরো নিশ্চিত করেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবির আহমেদের নাম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনার নির্দেশে গত ৯ অক্টোবর শেষ রাতে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

অর্থ জোগান ও নেতাকর্মীদের অসন্তোষ

নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগান দেওয়া নিয়েও পলাতক নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। সূত্র জানায়, ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের সব জেলা কমিটির বাছাইকৃত নেতাদের সঙ্গে গত শুক্রবার রাতে অনলাইনে বৈঠক করেন ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং ক্যাসিনো সম্রাটখ্যাত যুবলীগের সাবেক নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। বৈঠকে প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত ২০০ জন করে নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো করার ওপর জোর দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে ঢাকা এবং আশপাশের থানাগুলোয় (বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ, রূপগঞ্জ, ফতুল্লাসহ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড ও চাষাঢ়া) জড়ো করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ জোগান দেওয়ার বিষয়ে পলাতক নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে টাকা খরচের ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন নেতাদের কেউ কেউ।

তাদের বক্তব্য ছিল—অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তি হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন এবং অনেকে ব্যবসায়ী সেজে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তাই বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে যারা সবচেয়ে বেশি সুবিধা নিচ্ছে, তাদের কাছ থেকে ফান্ড নেওয়া দরকার।

এর মধ্যেই আলোচনায় উঠে আসে, শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সিকদার গ্রুপ ইতোমধ্যে সরকার ফেলে দিতে ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ আরো বাড়ে, যখন জানা যায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা আবেগী নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা শহরে গুলির মুখে মিছিল করছেন কিন্তু তাদের মাত্র দুই হাজার কিংবা পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ টাকার পরিমাণ বাড়ানোর কথা নেতাদের আলোচনায় উঠে আসে।

নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট ও ককটেল হামলা

সূত্র জানায়, সরকারের পতন ঘটাতে নাশকতার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এড়িয়ে বোমা এবং ককটেলবাজি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু লক্ষণও দেখা গেছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চের (গির্জা) গেটে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ জানায়, কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় গভীর রাতে মোটরসাইকেল থেকে ককটেল নিক্ষেপ করে মূলত নিজেদের জানান দেওয়া এবং জনমনে ভীতি ছড়ানোর কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এভাবে বোমাবাজি এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে পলাতক ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ।

এর আগে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঢাকায় নাশকতার পরিকল্পনার মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতে পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে। তাকে কৌশলগত সব সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসবির সাবেক প্রধান ভারতে পলাতক পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির পলাতক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে। এসএসএফের সাবেক ডিজি ও সাবেক কিউএমজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মুজিবুর রহমান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেনসহ একাধিক সেনা কর্মকর্তা এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির মিশন বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে পলাতক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি লিয়াকত শিকদার, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এবং যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট। এ নাশকতার অংশ হিসেবে আদালতপাড়া ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় বোমাবাজির টার্গেট করা হয়েছে এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সরকার পতনের লক্ষ্যে নেওয়া নাশকতার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বাছাইকৃত নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনা শুরু হয়েছে এবং ওই দিন ঢাকায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটাতে চায় ষড়যন্ত্রকারীরা। এর মধ্যে সশস্ত্র ক্যাডাররা অস্ত্রবাজি করতে পারে বলে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে।

আরো জানা গেছে, নভেম্বরের মধ্যেই যদি হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় হয়ে যায়, তাহলে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ছক তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে মাঠপর্যায়ে এখনই সেনা মোতায়েন না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান

অবশ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অভিযান জোরদার করেছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ও আশপাশের থানাগুলোয় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৭ জন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে রাজধানীতে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ সাঁড়াশি অভিযান পলাতক নেতৃত্বের নাশকতার পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। নিয়মিত অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী যদি দেশে আবার বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করে, তাহলে জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিবাদ সরকার পালিয়ে গেছে। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে এবং করে চলেছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠককে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ বলছে ভারত

Published

on

By

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক নিয়ে সম্প্রতি আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের বৈঠককে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে। জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে হওয়া বৈঠকটিও সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের শুরুতে তিনি ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি বলেন, অন্য দেশের কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেও ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা যোগাযোগ জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে বিকল্প কোনো পথ নেই।

এই মন্তব্য প্রকাশের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিল রয়টার্স। তবে সে সময় কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য এলো

Continue Reading

top1

জামায়াতের জোট থেকে দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে চরমোনাই পীরের আহ্বান

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের জোটে না যাওয়ার ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত শরিয়াহ আইনে রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি থেকে সরে এসেছে। তাই ১১ দলীয় জোট থেকে অন্যান্য ইসলামী দলগুলোকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

ইসলামপন্থী দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে, বলেও জানান তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের আমির বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন, যার অর্থ দাঁড়ায়, সমঝোতার নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জামায়াত।

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আশায় ছিলেন, এর ফলে সেই প্রত্যাশা পূরণ পূরণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

ইসলামের নীতি থেকে জামায়াত সরে এসেছে দাবি করে একলা পথে গিয়ে ২৬৮টি আসনে লড়ার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন।
বাকি আসনগুলোতে বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির সাথে আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন চরমোনাই পীরের দল।

Continue Reading

top1

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সব নথি জব্দের দাবি চিকিৎসকদলের প্রধানের

Published

on

By

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সব নথিপত্র জব্দ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বর্তমান চিকিৎসকদলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় তিনি এ দাবি তুলে ধরেন।

ডা. সিদ্দিকী বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–এর জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষার শুরুতেই তারা দেখতে পান, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত, অথচ বিএমইউর ছাড়পত্রে তাকে রিউমাটয়েড আর্থাইটিসের জন্য ‘মেথোট্রেক্সেট’ নামের ওষুধ নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া ছিল এবং ভর্তি অবস্থাতেও সেটি খাওয়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, “মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে ওষুধ বন্ধ করে ন্যূনতম একটি আলট্রাসনোগ্রাম করানো প্রয়োজন। কিন্তু সরকার গঠিত মেডিকেল টিম ম্যাডামের লিভার ফাংশন খারাপ দেখার পরও কোনো আলট্রাসনোগ্রাম করেনি এবং ওষুধটিও বন্ধ করেনি।”

তিনি দাবি করেন, এই অবহেলার কারণেই ফ্যাটি লিভার দ্রুত সিরোসিসে রূপ নেয়। “মেথোট্রেক্সেট তার লিভারের জন্য কার্যত ‘স্লো পয়জন’ হিসেবে কাজ করেছে”—বলেন তিনি।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, তৎকালীন চিকিৎসকদের প্রতি আস্থাহীনতার কারণে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফিতে রাজি হননি, তবে বেডসাইড ‘পয়েন্ট-অব-কেয়ার’ আলট্রাসনোগ্রাম সহজেই করা যেতো।

তিনি অভিযোগ করেন, “চিকিৎসায় এমন অবহেলা খালেদা জিয়ার অবস্থাকে দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি ইচ্ছাকৃত অবহেলা কি না বা পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টার অংশ কি না—তা বিশদভাবে তদন্ত করা জরুরি।”

তার ভাষ্য, মেডিকেল বোর্ডের কাছে ডায়াবেটিস ও আর্থাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলারও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এজন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটির মাধ্যমে তিনটি বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন— সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন, কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা দায়িত্ব পান, এবং ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না; ভর্তিকালে কারা চিকিৎসায় যুক্ত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না; বিএমইউতে চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে আইনজীবীর মাধ্যমে যে অনুরোধ করেছিলেন, তা কেন গ্রহণ করা হয়নি এবং কারা বাধা দিয়েছিল।

ডা. সিদ্দিকী আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউয়ের সব চিকিৎসা-নথি জব্দ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

Continue Reading

Trending