ববি প্রতিনিধি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (ববি) দেশের ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদল উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের ছাত্রসমাজ বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ডাক দেয়। এই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রগামী ভূমিকায় স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বিগত বছরের ১৮ জুলাই স্বৈরাচারী সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাদের দলীয় ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন মহাসড়কে ইতিহাসের অন্যতম বর্বর ও নৃশংস হামলা চালায়।
নেতাকর্মীরা স্মারকলিপিতে আরও বলেন, সেই রক্তঝরা দিনে বুক ফুলিয়ে বুলেট, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অদম্য সাহসিকতা এবং প্রতিরোধের মুখে সেদিন স্বৈরাচারের পেটোয়া বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করে। ১৮ জুলাইয়ের সেই সাহসী প্রতিরোধই বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। ওই দিনই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত হয়েছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়, শহীদ ও আহত ছাত্র-জনতার অসীম সাহসিকতা এবং ত্যাগের স্মৃতিকে ক্যাম্পাসের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে ১৮ জুলাই-কে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত দিবস’ হিসেবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক।
ছাত্রদল নেতারা আশা প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই আবেগময় ও যৌক্তিক দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।