আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগ আমলে নিয়ে ডাটা লোকালাইজেশন বিধানে পরিবর্তন এনে ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬’-এর খসড়া ও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন সংক্রান্ত পৃথক তিনটি অধ্যাদেশের খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
উপাত্ত সুরক্ষায় শিথিলতা, গুরুত্ব পাবে সিআইআই
প্রেস সচিব জানান, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কেবল ‘ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ (সিআইআই)-এর ক্ষেত্রে উপাত্ত দেশে সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক থাকবে। সাধারণ ব্যক্তিগত উপাত্তের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে।
এছাড়া কোনো কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ডের পরিবর্তে কেবল অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, “এই পরিবর্তনের ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও ক্লাউডভিত্তিক সেবা প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
শিল্পকলায় যুক্ত হচ্ছে ৯ বিভাগ ও প্রান্তিক প্রতিনিধিত্ব
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে। নতুন সংশোধনীর ফলে একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বাড়িয়ে নয়টি করা হয়েছে।
বিভাগগুলো হলো— থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, নৃত্য ও পারফরম্যান্স আর্ট, সংগীত, চারুকলা, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসব প্রযোজনা। এছাড়া একাডেমির পরিচালনা বোর্ডে প্রথমবারের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বনজ শিল্পে আধুনিকায়ন ও এনডিসি-৩
১৯৫৯ সালের পুরনো আইন বাতিল করে ‘বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার ও পণ্য বৈচিত্র্যের সুযোগ রাখা হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, গত অর্থবছরে এই কর্পোরেশন ৫৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যার মধ্যে রাবার শিল্প থেকেই এসেছে ৬ কোটি টাকা।
পাশাপাশি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ‘এনডিসি-৩’ (ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন) ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ২০৩৫ সাল নাগাদ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় ৮৫ মিলিয়ন টন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বড় অংশই আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।