top1

মির্জা ফখরুলের প্রেসিডেন্ট হওয়া আনন্দের, আবার হতাশারও: ফাহাম

Published

on

ডিজিটাল ডেস্ক

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতির মেয়ের জামাতা, লেখক ও গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একই সঙ্গে তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফাহাম।

ফাহাম জানান, তিনি ২২ বছর ধরে মির্জা ফখরুলকে চেনেন। তার ভাষায়, জীবনে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল মানুষ তিনি কেবল আরেকজনকে দেখেছেন—ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার।

মির্জা ফখরুলের দায়িত্বশীলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে ফাহাম বলেন, তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলেও নিজের জন্য কিছু না রেখে অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিতে খুশি থাকবেন। দায়িত্ব নিয়ে সঠিক কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফাহামের মতে, নিজেকে কাজে লাগানোর মানসিকতা মির্জা ফখরুলের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে কাজে লাগাতে চান। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলেও বসে না থেকে ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করেন বলে জানান তিনি। তার সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও ভদ্র আচরণের কথা উল্লেখ করেন ফাহাম।

পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ফাহাম জানান, ওই সময় মির্জা ফখরুল তাকে বলেছিলেন, তার জীবনের কাজ হয়ে গেছে—খালেদা জিয়াকে বের করে আনা এবং নির্বাচন হলে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়া।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন ফাহাম। তার মতে, বিএনপির প্রতি দায়িত্বের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল সবসময় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলকে বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে উল্লেখ করেন জানিয়ে ফাহাম বলেন, এর মধ্যে সত্যতা রয়েছে। তার দাবি, মির্জা ফখরুল বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গে ফাহাম বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতন্ত্র চর্চা করা সম্ভব নয়। তবে মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং সুযোগ পেলে তিনি সবার আগে দাঁড়াবেন।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় উল্লেখ করে ফাহাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তার মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সঠিক মানুষকেই নির্বাচিত করা হয়েছে।

তবে বিএনপিতে এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি নিজের আগে দল ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন—মির্জা ফখরুলের জায়গায় এমন কাউকে পাওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফাহাম আরও দাবি করেন, মির্জা ফখরুলকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার মতে, জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এমন ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না। তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপিতে তার কোনো গ্রুপিং নেই বলেও উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version