top2

রাজধানীতে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা, ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা

Published

on

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিপেটা, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ শুক্রবার বিকেলে এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ ঘোষিত তদন্তের আওতায় শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ গতকাল থেকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিল। আজ বিকেল ৪টার দিকে কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই পুলিশ অতর্কিতভাবে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাবি শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের এই আক্রমণাত্মক ভূমিকা ফ্যাসিবাদী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ একই কায়দায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করছে যে তারা এখনো সেই পুরোনো ব্যবস্থার সেবাদাস হিসেবে কাজ করছে।

বিবৃতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে সরকার চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো যৌক্তিক অগ্রগতি হয়নি এবং শুনানি ইতিমধ্যে ৫ বার পেছানো হয়েছে। সরকার যদি বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে এর নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত বলে নেতারা মন্তব্য করেন।

পরিশেষে ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন:

১. অবিলম্বে আজকের হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

৩. দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করলে ছাত্র-জনতা আবারো রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version