কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস্ কমপ্লেক্সে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) উদ্যোগে ‘এআই, মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটেরেসি এবং সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগ হতে নির্বাচিত অর্ধশতাধিক নবীন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে পরিবর্তনশীল সংবাদমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ডিজিটাল নিরাপত্তা, প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি, তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং, সাংবাদিকতার আইনগত দিক এবং মিডিয়া সাক্ষরতার বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বিষয়ভিত্তিক সেশন পরিচালনা করেন বিবিসি বাংলার সাবেক সাংবাদিক আকবর হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মামুন আবদুল কাইয়ুম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) এম. এ. সাঈদ শুভ এবং ডয়েচে ভেলে একাডেমির ফ্যাসিলিটেটর ও ফেলো অর্পণ ধর।
রাবিসাসের সভাপতি মীর কাদিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হাসানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান এবং রাবিসাসের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ‘উত্তরা প্রতিদিন’-এর সম্পাদক এনায়েত করিম।
oplus_2097154
কর্মশালায় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ঐতিহ্য ও তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সমৃদ্ধ মিডিয়া চর্চা দেশের খুব কম বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে। আজকের এই কর্মশালা থেকে তোমরা যে প্রশিক্ষণ পেয়েছ, তা তথ্যের সঠিকতা ও অসাবধানতার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করবে। আশা করি, এই আয়োজন তোমাদের ভবিষ্যতে কাজ শেখার এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।’
প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বর্তমান সময়ের চেয়ে উপযুক্ত সময় অতীতে ছিল না। যুগে যুগে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির চেষ্টা চলছে। এ দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা সাংবাদিকতাসহ যে কোনো পেশায় থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে।’
সাংবাদিকতার পেশাগত চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।সাংবাদিকরাই সমাজের সত্য তুলে আনেন। সমাজকে সত্যের পথে চালিত করতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই কর্মসূচি থেকে অর্জিত জ্ঞান যদি সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে।’
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অতিথি ও কর্মশালায় উপস্থিত প্রশিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন আয়োজকরা।