শেরপুর শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে শাহিনুল ইসলাম (৪০) নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি শেরপুর সদর থানায় এএসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে শহরের গৃর্দা নারায়ণপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। শাহিনুল ইসলাম জামালপুর সদর উপজেলার টেবিরচর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ডিউটি শেষ করে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফেরেন শাহিনুল ইসলাম। বেলা ১১টার দিকে তার স্ত্রী মাকসুদা পারভীন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে জামালপুরের নান্দিনা এলাকায় বাবার বাড়িতে চলে যান। দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী শাহিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এরপর একাধিকবার কল করা হলেও কোনও সাড়া না পেয়ে রাতে স্ত্রী ও তার ভাই জামালপুর থেকে শেরপুরের ভাড়া বাসায় ফিরে আসেন। রাত ১১টার দিকে বাসায় পৌঁছে তারা দেখেন, প্রধান দরজাটি ভেতর থেকে বন্ধ।
পরে পেছনের জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকি দিলে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় শাহিনুল ইসলামকে ঝুলতে দেখেন। এরপর দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শেরপুর সদর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, বুধবার দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টার মধ্যবর্তী কোনও এক সময় শাহিনুল ইসলাম আত্মহত্যা করেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাহিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, চরম মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন।
শেরপুর সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।