নির্বাচনী নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, মাঠে নামছে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা সদস্য
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে মোতায়েন করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর অংশ হিসেবে রোববার থেকে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে যোগ দেন। একই সময়ে মাঠে কাজ শুরু করেন এক হাজারের বেশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভোটের আগের দিন সারাদেশে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড একযোগে কাজ করবে। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে থাকবেন।
এবারের নির্বাচনে সব মিলিয়ে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য থাকছেন আনসার ও ভিডিপির। পাশাপাশি পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবির সদস্যরাও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবেন।
নিরাপত্তা জোরদারে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, এপিবিএন ও আনসার ব্যাটালিয়নকে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে আলাদা করে দায়িত্ব পালন করবে কোস্টগার্ড।
সূত্র জানায়, ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রভেদে আইনশৃঙ্খলা সদস্যের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটের আগেই এসব সদস্য কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নেবেন।
সব বাহিনী স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে এবং নির্বাচনকালীন সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে।