নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের জুবায়ের হোসেন রাকিব (২৩) নামের এক তরুণকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ৮টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধরা।
রোববার (৩১ মে) সকালে দিকে ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে দুপুর ১২টার পর থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এর আগে শনিবার রাত ৯টার দিকে রাকিবকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত রাকিব খানপুর গ্রামের ভোলা গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী মো. হানিফের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন-চার দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের চাচাতো ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে স্থানীয় এক দোকানদারের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার রাতে পাকমুন্সিরহাট বাজারে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উভয়পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় এলাকার লোকজন রাকিবকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে রাকিব তার ছোট ভাই রিমনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির আসার পথে পথে বাজার এলাকার একটি অন্ধকার স্থানে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে তাদের উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে রাকিবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। ভাইকে বাঁচাতে গেলে ছোট ভাই রিমনও আহত হন।
নোয়াখালীতে তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যানোয়াখালীতে তরুণকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার জেরে সকাল ১১টার দিকে ওই গ্রামের সন্দেহভাজন স্বর্ণপাড়ার মনতাজ মেম্বার, স্বর্ণকার রফিক উল্যাহ, পারভীন আক্তার ও মামুনের বাড়িতে হামলা করে নিহত তরুণের স্বজন ও এলাকার বিক্ষুব্ধরা। এ সময় তারা বসতঘর, রান্নাঘরসহ অন্তত ৮টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের জেরে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ৮টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে করেছে কয়েকশ মানুষ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। রাকিব হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী হামলা-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চলছে।