Connect with us

top1

ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ট্রাম্পের অনুমতি

Published

on

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চাহিদাগুলোর একটি। ব্যয়বহুল এসব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনকে নিজ দেশে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত বুধবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট তৈরির অধিকার দেব। কীভাবে এটি তৈরি করতে হয়, তা আমরা দেখিয়ে দেব। প্রযুক্তিটি জটিল, তবে তারা দ্রুতই বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারবে।

তিনি অবশ্য স্পষ্ট করে এও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট মজুত থেকে কিছু দেবে না। কবে থেকে ইউক্রেনে উৎপাদন শুরু হবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট সময়সূচি জানাননি ট্রাম্প।

এ বিষয়ে জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিনের মত, স্বল্পমেয়াদে ইউক্রেনের বাস্তবিক কোনো লাভ নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেলে ইউক্রেন নিজস্ব ব্যালিস্টিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবে। এমনকি তুলনামূলক কম খরচের ও সহজ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এক বছরেরও কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তিনি এও ধারণা করেন, এ ধরনের কোনো কর্মসূচি ইতোমধ্যেই গোপনে চালু থাকতে পারে।

প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থায় শুধু ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, এর সঙ্গে মোবাইল লঞ্চার, শক্তিশালী রাডার এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রও থাকে। এসবের সমন্বয়েই কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন অনেকটাই ড্রোননির্ভর হয়ে উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি নজরদারি ড্রোন খারকিভ অঞ্চলের একটি বনাঞ্চলের ওপর প্রায় ৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থান নিয়ে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা রুশ সেনাকে শনাক্ত করে।

ড্রোন অপারেটর দ্রুত আরেকটি বিস্ফোরকবোঝাই কামিকাজে ড্রোন পাঠালে সেটি সরাসরি ওই গর্তে আঘাত হানে। বর্তমানে রাশিয়া ছোট ছোট দুই বা তিন সদস্যের অনুপ্রবেশকারী দল পাঠিয়ে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করার চেষ্টা করছে। বড় দল সহজে শনাক্ত হয়ে যাওয়ায় তারা এই কৌশল নিয়েছে।

এক ইউক্রেনীয় ইউনিট কমান্ডার জানান, তিনি একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি ড্রোনের ভিডিও পর্যবেক্ষণ করেন। তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রচলিত ‘ফ্রন্টলাইন’ ধারণা কার্যত বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের সামরিক বিশ্লেষক পাভেল লুজিন বলেন, লড়াই এখন ‘নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক’ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। এতে কমান্ডার, সেনা ও অস্ত্রব্যবস্থা রিয়েল-টাইমে সংযুক্ত থাকে, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আক্রমণ পরিচালনা সম্ভব হয়।

জনবল সংকট ও সেনা পলায়নের কারণে ইউক্রেন এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের ওপর বেশি নির্ভর করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে স্থলভিত্তিক রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঙ্কার ধ্বংস, মেশিনগান পরিচালনা, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ এবং আহত সেনাদের উদ্ধার করছে।

পশ্চিম ইউক্রেনের তেরনোপিল শহরের রোবোটিক কমপ্লেক্সেস কোম্পানির প্রধান ইহোর চাইকিভস্কি বলেন, সেনা সংকট না থাকলে জেনারেলরা এখনো মানুষকেই ট্রেঞ্চে পাঠাতেন। কিন্তু আমরা মৃত্যুঝুঁকি কমাতে স্থল রোবট ব্যবহার শুরু করেছি।

গুগলের সাবেক প্রধান নির্বাহী এরিক শ্মিটের কোম্পানি সুইফট বিটের তৈরি ‘হরনেট’ ড্রোন ইতোমধ্যেই ইউক্রেন ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই ড্রোন রাশিয়ার জ্বালানিবাহী ট্রাক, সরবরাহ যান ও সামরিক বহর শনাক্ত করতে পারে এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে একে সহজে থামানো যায় না।

এক ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর জানান, ভবিষ্যতে শত্রু সেনা শনাক্ত করার কাজও পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা করবে। তার ভাষায়, আমি হয়তো ঝোপের আড়ালে কাউকে দেখতে নাও পারি, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাউকে ছাড়বে না।

ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আকাশ প্রতিরক্ষার পরিবর্তে ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে বিশাল ভৌগোলিক এলাকাজুড়ে কার্যকর আকাশ প্রতিরক্ষা গড়ে তোলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহোর রোমানেঙ্কো বলেন, বর্তমান সক্ষমতা দিয়ে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যকরভাবে সব লক্ষ্য রক্ষা করতে পারছে না। তাদের আরও বিস্তৃত পরিসরের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সাইবেরিয়ার ওমস্কে রাশিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একই দিনে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, এই যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আকাশে। আমরা এখন আকাশযুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে গেছি।

তবে ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ভ্যালেরি জালুঝনি সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কোনো পক্ষকে চূড়ান্ত বিজয় এনে দিতে পারবে না। তার মতে, এ ধরনের হামলা ব্যয়বহুল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং উভয় পক্ষই পাল্টা একই ধরনের আঘাত হানতে সক্ষম। তাই শুধু আকাশযুদ্ধের মাধ্যমে কৌশলগত বিজয় অর্জন সম্ভব নয়।

গতকাল শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোনের হামলায় কিয়েভ ও আশপাশে অন্তত ২৭ জন নিহত হন। রাজধানীর বাসিন্দা কাতেরিনা বাবিচ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের অভিঘাতে তার অ্যাপার্টমেন্টের জানালা ও দরজা ভেঙে যায়। একটি আলমারি ভেঙে পড়ে তার ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছেলে আহত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কবে শান্তি আলোচনায় ফিরবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন বলেন, ইউক্রেন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে চাপ বাড়াতে পারে, কিন্তু সেই সাফল্য কখন আলোচনার টেবিলে ফল দেবে, তা নির্ভর করবে মস্কোর সিদ্ধান্তের ওপর।

অন্যদিকে কিয়েভভিত্তিক পেন্টা থিংক ট্যাঙ্কের প্রধান ভলোদিমির ফেসেঙ্কোর মতে, সাম্প্রতিক সাফল্যের মাধ্যমে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছাড় নয়, বরং যুদ্ধবিরতি।

তিনি বলেন, ক্রেমলিন এখনো এ অবস্থানে আসেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে যুদ্ধবিরতিভিত্তিক সমাধানের দিকেই ঝুঁকছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই: নাহিদ ইসলাম

Published

on

By

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে রায় হয়ে গিয়েছে। এখন এই সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় গণহত্যাকারীকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা।

তিনি বলেন, ‘আজকে একটা ইন্টারভিউয়ে (বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার) আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ তো অলরেডি (ইতিমধ্যে) ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা কীভাবে আসবেন, তিনি কাদেরকে নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করবেন কি করবেন না— ঠিক শেখ হাসিনা ঠিক করবেন না, এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে, এখানে আর কোনো পক্ষ নাই। ফলে এটা সরকার ঠিক করবে—তাঁকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু পারমিট করা হয়, সে অনুযায়ী সে কথা বলে। ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কিভাবে আসবেন, বিচার হবে কিনা?এসব মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ তো এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।

জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যারা অংশগ্রহণ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা বা প্রচেষ্টা হয়, সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে। বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সব পক্ষ, ত্রিশ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্য, আমরা সবাই প্রস্তুত আছি।

গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের আওতায় নেওয়ার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, কেবলমাত্র ফিরবেন ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য। ফলে সেটার জন্য আমরাও চাই যে, ফাঁসির রায় কার্যকর হোক।

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।

Continue Reading

top1

ইরানে রাতভর দফায় দফায় বিস্ফোরণ

Published

on

By

ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে একাধিক দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এসব ঘটনায় নিজেদের কোনো ভূমিকা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। নতুন এই বিস্ফোরণগুলো নিয়ে অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ও রহস্য তৈরি হয়েছে।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুশেহর শহর ও আশপাশের চোগাদাক এলাকায় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কোনারাক শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বুশেহরে রয়েছে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আল জাজিরাকে সরাসরি জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের ভেতরে তারা কোনো হামলা চালায়নি।

মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর মধ্যে ইরান কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা এখন আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বুশেহরের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপ-গভর্নর এহসান জাহানিয়ান বলেছেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণের শব্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক স্থাপনায় প্রজেক্টাইল আঘাত করেছে।

ইসরায়েলের অবস্থান

বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়েছে। দুই নেতা উপসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আছে। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলছে এবং বড় ধরনের নতুন অভিযানের প্রস্তুতি রয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, প্রয়োজনে আবারও ইরানে হামলা চালাতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর থেকেই এই নতুন সংঘাত তীব্র হয়। ইরান চায় সব জাহাজ তাদের নিয়ন্ত্রিত পথ দিয়ে চলাচল করুক। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি নেতাদের ‘নোংরা লোক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে আগের সমঝোতা কার্যত শেষ। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ তা বাতিল করেনি।

Continue Reading

top1

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট

Published

on

By

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।

তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্‌যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।

তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।

সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।

১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

Continue Reading

Trending