Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবিতে বহিষ্কৃত ‘অভ্যুত্থানবিরোধী’ শিক্ষককে বাঁচাতে তৎপর বিভাগের শিক্ষার্থীরা

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

চব্বিশের জুলাই-আগস্টে বিপ্লববিরোধী অবস্থানের কারণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১৯ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার ২৭১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে আইন বিভাগের সাময়িক বহিষ্কৃত ২ শিক্ষকের পক্ষে মানববন্ধন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। তবে মানববন্ধন সম্পর্কে জানেন না বিভাগ।

আজ শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বরে ‘আইন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে সাময়িক বহিষ্কৃত ২ শিক্ষকের পক্ষে মানববন্ধন করে তারা।

এরপর থেকেই শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী বহিষ্কৃত শিক্ষকের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ‘শাস্তি নির্ধারণ কমিটি’ গঠন করবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ। গত বছরের ৪ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের বিরোধিতা করেন ওই সকল শিক্ষক। ওই দিন হাসিনার পক্ষে ও অভ্যুত্থানের বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরাম। ওই সময় তাদেরকে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নিতে দেখা যায় এবং ‘আর নয় হেলাফেলা, এবার হবে ফাইনাল খেলা’ বলে স্লোগান দেন তারা।

এদিকে অন্য বিভাগের বহিষ্কৃত শিক্ষকদের পক্ষেও আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন ঐসকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বহিস্কৃত শিক্ষকদের পক্ষে আন্দোলনের জন্য বিভিন্ন মেসেঞ্জার গ্রুপে তৎপরতা চলছে। বহিষ্কৃত শিক্ষকদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন বলেও জানা গেছে। পরিকল্পনা করছে কিভাবে শিক্ষকদের ঠেকানো যায়। এমনকি মানববন্ধন কর্মসূচি ও ক্লাস বর্জনেরও আলোচনা চলছে।

তদন্তের সময় পক্ষপাত তদন্ত করছে কি-না প্রশ্ন করলে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকবার বিভিন্ন হল, বিভাগ-সহ প্রত্যেকটা জায়গায় এই তদন্তের তথ্য-উপাত্ত চেয়ে পত্র প্রেরণ করি। সবশেষে আমরা লিখিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আহ্বান করি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠনেও পত্র দেই। তো সর্বশেষ আমাদের কাছে বিভিন্ন লিখিত অভিযোগ এবং পত্র-পত্রিকার বিভিন্ন ছবি, নিউজের আলোকেই আমরা কমিটি বসে সর্বশেষ রিপোর্ট প্রদানে সক্ষম হই। তো এক্ষেত্রে অনেকেরই প্রশ্ন আছে যে অনেক রাঘববোয়ালেরা বাদ গেছে। আসলে আমরা টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনের আলোকে তদন্ত করেছি। বিশেষ করে আমার কাছে অনেকেই প্রশ্ন করছে যে অমুকের নাম আসেনি কেন? আমি তাদেরকে শুধুমাত্র একটা প্রশ্নই করছি যে আপনি কি তার বিরুদ্ধে পাঁচ লাইন লিখিত দিয়েছিলেন? তখন সে কথা বলে না।আসলে একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকলে, একজনের বিরুদ্ধে কোন ডকুমেন্টারি কিছু না থাকলে আসলে তদন্ত কমিটির হাত এখানে বাঁধা।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কোনো পক্ষপাতের দলিল সহ অভিযোগ দিতে পারলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে চলে যাব, চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি। প্রশাসনকে বলেছি, এরপরও যদি মনে হয় রাঘববোয়ালরা ছাড় পেয়েছে, তাহলে অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয় এমন কর্মসূচি দিলে প্রশাসন নজরে রাখবে। কেউ নাশকতা করতে চাইলে সুযোগ নাই।’

বহিষ্কারের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য তাদের (শিক্ষক-কর্মকর্তা) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা আরও একটি কমিটি গঠন করব। সেই কমিটি বিবেচনা করবে— কাকে কতটুকু শাস্তি দেওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টের প্রশ্নে কোন ছাড় হবে না।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের যৌথ উদ্যোগে ‘এমপাওয়ারিং ক্যাম্পাস জার্নালিস্টস: এআই, ডেটা-ড্রিভেন ইনভেস্টিগেশন, ফিচার রাইটিং অ্যান্ড ডিজিটাল এথিকস’ এর উপর কর্মশালাটি হয়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র কনফারেন্স রুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য খায়রুল ইসলাম বলেন, আধুনিক সাংবাদিকতায় এআই, ডেটাভিত্তিক অনুসন্ধান, বস্তুনিষ্ঠ ফিচার রাইটিং এবং ডিজিটাল এথিকস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের পেশাগত মান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই সবকিছু জানব এটা সম্ভব নয়। প্রত্যেক মানুষেরই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। আমি মনে করি, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের সেই সীমাবদ্ধতাগুলো অনেকটাই দূর করা সম্ভব।”

ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। আর আপনাদের মাধ্যমে যখন কোনো তথ্য প্রচারিত হয়, তখন মানুষ সেটিকে বিশ্বাস করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ আর গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ পরিবেশন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজে প্রশাসনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ভালো ও গঠনমূলক কাজের সঙ্গে প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. সালমা আখতার। স্বাগত বক্তব্য দেন আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ আলম।

দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় রিসোর্স পারসন হিসেবে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন আল জাজিরার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মওদুদ আহমেদ সুজন, প্রথম আলো ডিজিটালের ম্যানেজার (বিজনেস) খায়রুল বাশার এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ।

কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের ক্যাম্পাস প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Continue Reading

top3

শাবিপ্রবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রদল নেতার বহিরাগতের নিয়ে হলে শোডাউন

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকা ছাত্রদলের এক নেতা বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দিয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে প্রধান সড়কে এ রাজনৈতিক শোডাউন করেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা ১২ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ৩০ জনের মত বহিরাগতদের একটি দল ছাত্রদলের স্লোগানে এ কর্মসূচি করেন।

গত দেড় মাসে আগে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে আগামী দুই বছরের জন্য সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ হওয়া ছাত্রদলের বহিষ্কৃত নেতা হাসিবুর রহমানের নেতৃত্বে এ শোডাউন হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তাকর্মীরা। একই সাথে তাকে ( হাসিব)
আগামী দুই বছরের জন্য ক্যাম্পাসে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আদেশ জারি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযুক্ত হাসিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) ছিলেন।

এ সময় তারা ‘জিয়ার সৈনিক এক হও, লড়াই কর’, ‘কে বলে রে জিয়া নাই, জিয়া সারা বাংলায়’ এবং ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে শোডাউনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই বহিরাগত বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অভিযোগের বিষয়ে হাসিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান বলেন, “যদি এটা করে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও শোডাউন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “হলের বাইরে শোডাউন দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তবে যদি হলের ভেতরে কিংবা সামনে করে থাকে, তাহলে বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি, শোডাউন, মিছিল ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ রেখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Continue Reading

top3

সরকারের ১৮০ দিনের হিসাব নিয়ে শাবিপ্রবিতে দুই ছাত্রসংগঠনের পাল্টাপাল্টি ব্যানার

Published

on

By

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ‘সাফল্য’ ও ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি ব্যানার টানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও উদ্যোগ তুলে ধরে ছাত্রদল ‘বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক ব্যানার টানিয়েছে। অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখা টানিয়েছে ‘বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের যত ব্যর্থতা’ শীর্ষক ব্যানার।

ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জহিরের উদ্যোগে টানানো ব্যানারে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের ২১টি সাফল্য ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রেকর্ড ২৮ লাখ টন খাদ্য মজুত, শিক্ষায় বরাদ্দ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ২ কোটি ২২ লাখ বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করার তথ্যও ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যানারে আরও বলা হয়েছে, বিএনপির ৩১ দফা বাস্তবায়নের কাজ শুরু, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বন্ধ, অপচয় রোধ ও জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় দায়মুক্তি আইন পাস এবং শিশু রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্ন করার বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া বিচার বিভাগ ও আইন সংস্কার, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক সাফল্য, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও ই-হেলথ, বিনিয়োগ-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং তরুণদের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, যোগাযোগ, পরিবহন ও এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন, ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্রীড়া উন্নয়ন, পানিব্যবস্থাপনা ও নদী রক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির দাবিও করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারের সমালোচনা করে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার নেতৃবৃন্দের টানানো ব্যানারে বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরা হয়েছে।

ব্যানারে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ সংকট ও রেকর্ড লোডশেডিং, ওষুধের মূল্যনির্ধারণ নীতি বাতিল ও হাম ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা, ব্যাংক দখল ও বাজার সিন্ডিকেটের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের ওপর দমনপীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, গণভোটের জনরায় উপেক্ষা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দলীয়করণ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।

এতে আরও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিল করে দুর্বল আইন প্রণয়ন, স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দখল ও চাঁদাবাজি, শিক্ষাঙ্গনে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাস এবং জুলাইয়ের আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক সমিতি ও ডাকসুর নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের ওপর ছাত্রদলের হামলা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তি ও জকসু নেতৃবৃন্দের ওপর হামলাসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের অভিযোগও ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে ব্যানারে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ, ১৯ জন দলীয় ভিসি নিয়োগ, ১১টি সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশন এবং আটটি নগর উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৬৩টি জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের নিয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি শাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক রশিদ আবরার বলেন, “আমাদের ক্যাম্পাসে প্রকৃত সত্য গোপন রেখে বিএনপি সরকারের সাফল্য ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।”

অন্যদিকে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জহির বলেন, “বিএনপির অফিসিয়াল পেজের তথ্যের আলোকে আমরা ব্যানারে বিএনপির ১৮০ দিনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেছি। আমাদের ব্যানারে অতিরঞ্জিত কোনো কিছু করা হয়নি। আমি ৪৮ পৃষ্ঠার পিডিএফ থেকে সারসংক্ষেপ আকারে আমার ব্যানারে তথ্যগুলো তুলে ধরেছি।”

Continue Reading

Trending