Connect with us

ক্যাম্পাস

ইবি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে ‘কর্জে হাসানা’ প্রকল্পের যাত্রা শুরু

Published

on

ইবি প্রতিনিধি 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সুদ মুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাইট অফ কুরআন’ এর উদ্যোগে যাত্রা শুরু করেছে ‘ইবি কর্জে হাসানা’ প্রকল্প। 

গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল মসজিদে এ প্রজেক্টের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। 

জানা যায়, ইবি কর্জে হাসানা- IU Qard e Hasana’ নামক এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনা সুদে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হবে। যেখানে সেমিস্টার ফি, চিকিৎসা ব্যয়, ছোট ব্যবসা শুরু অথবা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা ৩০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণ পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ দিন সময় দেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত অর্থ (সুদ) গ্রহণ করা হবে না।

প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, ইবির যেকোনো শিক্ষার্থী ন্যূনতম ৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি দিয়ে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে উপযুক্ত বিবেচিত হলে এবং ফান্ড প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ঋণ প্রদান করা হবে। সেক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণের সময় দু’জন শিক্ষার্থীকে সাক্ষী রাখা বাধ্যতামূলক।

উক্ত প্রজেক্টটির স্বপ্নদ্রষ্টা ইবি শিক্ষার্থী সায়েম হোসেন বলেন, “করজে হাসানা’র আইডিয়াটা এসেছে পাকিস্তানে পরিচালিত একটি ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ‘আখুওয়াত ফাউন্ডেশন (Akhuwat Foundation)’ থেকে। আমি ক্যাপিটালিজম ও সোসালিজম এর কম্পারেটিভ পড়াশোনা করতে গিয়ে ‘confessionate economy’ বা সহমর্মিতাপুর্ণ অর্থনীতি টার্মটির সাথে পরিচিত হই। আখুওয়াত ফাউন্ডেশন (Akhuwat Foundation) তাদের করজে হাসানা প্রোগ্রামের মাধ্যমে সুদমুক্ত মাইক্রোফাইন্যান্স (ক্ষুদ্রঋণ) বা ইসলামী মাইক্রোফাইন্যান্স খুব চর্চা করছেন। সেই প্রজেক্ট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমার শিক্ষক তুল্য বড় ভাই জনাব সাঈদ মুনতাসীর এর আর্থিক সহায়তায় এবং লাইট অফ কোরআনের তত্ত্বাবধানে প্রজেক্টটা শুরু করেছি।”

সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সায়েম বলেন, “আমাদের স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদলে একটি সুদ মুক্ত সমাজ গঠন করা, যেখানে পুঁজিবাদী অর্থনীতির ঋণ প্রকল্পের মত কোন সুদ থাকবে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সহায়তায় যাতে কোন এনজিও’র সাহায্য না নিতে হয়, আমরা সেই ব্যাবস্থা করবো বলে আশাবাদী।”

‘লাইট অফ কুরআন’ এর সহকারী পরিচালক আল- কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আহমাদ জাবের বলেন, “আমরা ইবি শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সংকটময় পরিস্থিতি উত্তরণে সম্পূর্ণ পরিচয় গোপন রেখে কোন ধরনের বিনিময় ব্যতীত সহায়তা করব। সেই বিবেচনায় লাইট অফ কুরআনের তত্ত্বাবধানে ‘করজে হাসানা (Qarz E Hasna)’ প্রজেক্টটি চালু করেছি। আমাদের সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে উক্ত প্রজেক্টটি চালু করব ইনশা- আল্লাহ।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইবি কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব শায়খ আশরাফ উদ্দিন খান আজহারী বলেন, “আজ ‘করজে হাসানা (Qarz E Hasna)’ প্রজেক্টটি উদ্বোধন করেছি। যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে, তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা। সহায়তাটি হবে সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, সুদ বা কোন ধরনের বিনিময় ছাড়া। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর বিভাগের পরিক্ষা ফি, অসুস্থতা এবং নানান ধরনের সমস্যার সমাধানে  ঋণ প্রদান করে সহায়তা করা হবে। ‘করজে হাসানা (قرض حسنة)’ শব্দটি পবিত্র কুরআনে এবং হাদিসের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে ‘উত্তম ঋণ’ অর্থে, যেটি সুদের বিকল্প। আমরা উক্ত শব্দের মর্মার্থ বজায় রেখে সকলের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে ইচ্ছুক।”

প্রসঙ্গত, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হলের প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংগঠনের পেইজে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে ফের পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

পদোন্নতির জটিলতা সিন্ডিকেট সভায় নিরসন না হওয়ায় ক্যাম্পাসে উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষনা করে ফের পুর্নাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষনা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

রবিবার (১০ মে) বিকেল চারটার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজের পক্ষে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্য সিন্ডিকেট সদস্য,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার এবং ডিনদের ত্রিপক্ষীয় সভার সিদ্ধান্তক্রমে গত ০৮ মে অনুষ্ঠিতব্য সিন্ডিকেট সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী চলমান সকল সংকটের সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম হঠাৎ করে গত ৮মে রাত ১০ টার দিকে নোটিশ দিয়ে ০৯ মে সকাল ১১ টায় একটি এজেন্ডাবিহীন জরুরী সিন্ডিকেট সভা করেন। এই সিন্ডিকেট সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী চলমান সকল সংকটের সমাধানের চেষ্টা না করে এবং অধিকাংশ সম্মানিত সিন্ডিকেট সদস্যের মতামতকে অগ্রাহ্য করে নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো গভীর সংকটে নিপতিত করেছেন।

এই প্রেক্ষিতে আজ ১০মে অনুষ্ঠিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সাধারণ সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে আগামী ১১ মে থেকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং চলমান ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও উক্ত সভায় প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবিতে সিওয়াইবি এর উদ্যোগে অভিযান, ৫ দোকানকে ৩২০০০ জরিমানা

Published

on

By

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য পরিবেশন ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ৫টি খাবার হোটেলকে ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) কনজ্যুমার ইয়ুথ বাংলাদেশ (সিওয়াইবি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এবং রাকসু নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরাসরি তত্ত্বাবধানে ছিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক ফজলে এলাহী ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি চিন্ময় প্রামাণিক এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহকারী প্রক্টর জহিরুল ইসলাম, বেলাল হোসেন ও নাসির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে সহকারী পরিচালক ফজলে এলাহী জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে।

জরিমানার বিবরণ:

অভিযানে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার ৫টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কতামূলক এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে ক্যাফে গ্রিন ভিউ ২০,০০০ টাকা, সুরুজ হোটেল ৫,০০০ টাকা, বাবু হোটেল ৩,০০০ টাকা, রকি হোটেল ২,০০০ টাকা, মনির হোটেল ২,০০০ টাকা।

অভিযান চলাকালীন সিওয়াইবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপদেষ্টা ড. মোঃ সালেহ মাহমুদ এবং সংগঠনটির সভাপতি সাদমান প্যারিসসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। এছাড়া রাকসু নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবি শিক্ষার্থীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে 

Published

on

By

রাবি প্রতিনিধি 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক ছাত্রীর বাবাকে মারধর ও তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার সন্ধ্যার দিকে যশোরের ঝিকরগাছা থানার বাকড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঝিকরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী। 

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বিএনপির ইউনিয়ন সেক্রেটারি জামির হোসেন ও তাঁর সহযোগী যুবদল নেতা জহুরুল, মনি, ইদ্রিস, কালা সাঈদ, মারুফ, মিরাজ, রাহাত প্রমুখ। অন্যদিকে ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মফিজুর রহমান। তিনি ওই বাজারে ৩০ বছর ধরে লাইব্রেরির পাশাপাশি বিকাশের ব্যবসা করে আসছেন। 

জিডির কপি ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছর একটি যাত্রাপালার জন্য চাঁদা দাবি করা হলে তা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা জামিরের সঙ্গে মফিজুরের মনোমালিন্য তৈরি হয়। এরই জেরে সম্প্রতি জামির হোসেন তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের দোকানে আসেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এর জন্য দোকান কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন।

ভুক্তভোগী মফিজুর রহমানের মেয়ে রাবি শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ওইদিন সন্ধ্যায় দোকানের বিকাশ কাস্টমার কেয়ার বন্ধ থাকায় তার বাবা পরদিন আসতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জামির হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে জামির তার অনুসারীদের নিয়ে দোকানে হামলা চালান এবং লাঠিসোঁটা ও চেয়ার দিয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে আবারও নির্যাতন করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জামির হোসেন বলেন, ‘চাঁদাবাজির ঘটনা একদম ভিত্তিহীন। মফিজুরের বিরুদ্ধে অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে টাকা নেওয়ার আরও বহু অভিযোগ আছে। আমি ভুক্তভোগী হওয়ায় দলীয় ছেলে-পেলে নিয়ে দোকানে যাই। সেখানে মফিজুর তাঁদের সঙ্গে  খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তর্কবিতর্ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়। এখন কোনো সমস্যা নাই।’

Continue Reading

Trending