Connect with us

top3

ইবিতে ‘মানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিং, সোচ্চারের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগে নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার শেখানো’ ও ‘পরিচয়পর্ব’-এর নামে র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠায় সোচ্চার স্টুডেন্ট’স নেটওয়ার্ক (এসএসএন) ইবি শাখা তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

সোমবার (১০ জুলাই) সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাহাত ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ শিবলু এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, একজন নবীন শিক্ষার্থীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, অপমানজনক বা অশ্লীল বক্তব্য দিতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা, শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলা কিংবা কোনো নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের হুমকি দেওয়া-কোনোটিই ‘ম্যানার শেখানো’, ‘সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক’ কিংবা ‘পরিচয়পর্ব’-এর অংশ হতে পারে না। এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীর মর্যাদা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। র‍্যাগিং কোনো গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়; এটি শিক্ষার্থীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার পরিপন্থী এক ধরনের নিপীড়ন। সুস্থ সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক কখনোই ভয়, অপমান, হুমকি বা জবরদস্তির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

অভিযোগগুলো তদন্তে একটি নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য, লিখিত অভিযোগ, ভিডিও/ডিজিটাল প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করতে হবে।

উল্লিখিত ঘটনার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, হুমকি, সামাজিক হয়রানি বা অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা বরদাশত করা যাবে না। তাঁদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ, আটকে রাখা কিংবা নিরাপত্তা-হুমকির যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকেও মূল অভিযোগের বাইরে না রেখে পৃথকভাবে তদন্ত করতে হবে। প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের ভবনের ছাদে ওঠানো, রাতের বেলায় ক্যাম্পাসে ঘোরানো, শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা, অপমানজনক আচরণ বা অশালীন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করার মতো যেকোনো কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ ও হলে র‍্যাগিংবিরোধী নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও নিরাপদ অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

র‍্যাগিং বা নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিশোধ, হয়রানি বা সামাজিক চাপের আশঙ্কা ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি স্বাধীন, গোপনীয় ও সহজলভ্য অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

ইবি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো ব্যক্তি, ব্যাচ, সংগঠন বা প্রভাবের প্রতি পক্ষপাত না দেখিয়ে অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করুন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী র‍্যাগিং, নিপীড়ন, হুমকি বা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। শিক্ষাঙ্গন হবে জ্ঞান, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার স্থান-ভয়, অপমান ও নিপীড়নের নয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top3

ইবিতে নবীনদের ‘ম্যানার শেখানো’ নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ‘পরিচয় পর্ব’ ও ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয়পর্বের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা, বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, জোর করে নাচানো, ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, গভীর রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বসিয়ে রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে উঠে ছবি ও ভিডিও ধারণের নির্দেশ দেওয়া সহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি ২০২৫-২৬ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, আইন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, ফার্মেসি ও পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চাননি। বেশিরভাগই বিভাগের সভাপতির হস্তক্ষেপে সমাধান করে দেয়। এদিকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রায় ১৬ জন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।

‘ম্যানার শেখানোর’ নামে আটকে রাখা:

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওরিয়েন্টেশনের দুই দিন পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু হয়। প্রথম ধাপে ক্লাস শেষে ছেলে-মেয়ে সবাইকে কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। পরিচয় দিতে সামান্য ভুল হলেই গালিগালাজ ও অপমান করা হতো। কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০ থেকে ৮০ বার পর্যন্ত পরিচয় দিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সবাইকে ফুটবল মাঠে উপস্থিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় ক্লাস প্রতিনিধিকে (সিআর)। কেউ অনুপস্থিত থাকলে সিআরকে জবাবদিহি করতে হতো। এভাবে প্রায় ১০-১২ দিন চাপ প্রয়োগ করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে জানান। তৃতীয় ধাপে রাতেও নবীনদের ডাকা হতো। কখনো রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১২টা, আবার কখনো রাত ১টা বা দেড়টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

ল্যাম্পপোস্ট গণনা, হলের সামনে সেলফি:

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একপর্যায়ে রাতের বেলায় জিয়া মোড়ে ডেকে কয়েকজনকে বিভিন্ন ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়। দুজনকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ১০ মিনিটের মধ্যে লাইব্রেরির সামনে গিয়ে ছবি তুলে আসতে বলা হয়। আরও দুজনকে ডায়না চত্বরে গিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে ল্যাম্পপোস্ট গুনে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভুল হওয়ায় তাদের পুনরায় সেখানে পাঠানো হয়। ক্লাস প্রতিনিধিকে মেয়েদের হলের নাম ভুল বলার কারণে প্রতিটি মেয়েদের হলের সামনে গিয়ে সেলফি তুলে আনতে বলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।পরে ক্লাস প্রতিনিধি ও আরেক শিক্ষার্থীকে জোর করে নাচানো হয়। রাত দেড়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।সিনিয়রদের ডাকে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ১৭ জন শিক্ষার্থী টানা দুই দিন ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। পরে তাদের মীর মুগ্ধ সরোবরে ডেকে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাওয়া হয়।

ময়লা পানি, অশ্লীল ভিডিও ও হুমকির অভিযোগ:

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত নবীন শিক্ষার্থীদেরও ডেকে ‘ম্যানার শেখানোর’ অভিযোগ রয়েছে। এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, তাকে পুকুরের ময়লা পানি মুখে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। একই সময় আরেক শিক্ষার্থীকে তার সামনে দাঁড় করিয়ে ১০ ধরনের হাসি দিতে বলা হয়। তারা একাধিকবার অস্বীকৃতি জানালেও শেষ পর্যন্ত বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়া অশ্লীল বাক্য বলে ভিডিও ধারণ এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে প্রকাশ করতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী শ্রীরামপুরে নিয়ে ছেলে-মেয়ে উভয় শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ‘ম্যানার শেখানো’ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি, এক নারী শিক্ষার্থীকে এক সিনিয়রের সঙ্গে দেখা করতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে, ‘সিনিয়ররা ডাকলে দেখা করো না, কথা শোনো না, পরে রেপ হলে কী করবা’—এমন হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এল আগে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে বিরোধের পর কয়েকজন নবীনকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে গালিগালাজ ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা গেছে।

আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক নবীন ছাত্রীকে বারবার পরিচয় দিতে বাধ্য করা ও ভুল হলে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি আপসের মাধ্যমে মীমাংসা করা হয়। একই বর্ষের আরও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এক নবীনকে ধূমপানে বাধ্য করা এবং রাত ১টা পর্যন্ত আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের ফোন করে চা খেতে ডাকার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ওরিয়েন্টেশনের পর থেকেই ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে সিনিয়ররা ক্লাসে এসে পরিচয় নিতেন। ভুল হলে গালিগালাজ, রাতে ডেকে নেওয়া এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, পলিটিক্যাল সায়েন্স, আইন ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ফরমাল পরিচয়পর্বের নামে হয়রানি ও অপমানের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ:

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সহপাঠী জিসানকে দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, যাতে সিনিয়রদের নাম উল্লেখ না করা হয়। অভিযোগ না করলে ভবিষ্যতে আর এমন ঘটনা হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে দাবি তাদের।

অভিযুক্তদের দাবি— তারা একা থাকে না; একই ব্যাচের অনেকেই বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকে। নবীনদের বিভিন্ন স্থাপনার নাম জিজ্ঞাসা করা, ভুল হলে সেখানে পাঠানো, ল্যাম্পপোস্ট গণনা করানো, একাধিকবার পরিচয় নেওয়া এবং ভুল হলে কঠোর ভাষায় বকাঝকা করার কথা স্বীকার করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়কে পরিচয় করানোটাই মূল লক্ষ্য তাদের।

প্রশাসনের বক্তব্য:

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিভাগের সব শিক্ষক মিলে তদন্ত করে একটি রিপোর্ট প্রস্তুতি করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, র‍্যাগিংয়ের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিটি বিভাগে একজন শিক্ষককে র‍্যাগিংয়ের বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ট্যুরিজম বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের হাতে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সভা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাত্রত্ব বাতিল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। নবীনদের ‘পরিচয় শেখানোর’ নামে যেকোনো কার্যক্রম বন্ধ করা হবে। এত প্রচারণা পরেও সংশ্লিষ্টতা পেলে ছাড় দিবে না প্রশাসন।

ছাত্র উপদেষ্টা ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ না এলেও কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানার’ বা ফরমাল পরিচয় শেখানোর কোনো নিয়ম নেই।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যেকোনো র‍্যাগিং ইস্যুতে জিরো টলারেন্স। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top3

কুবিতে বিশ্ব আদিবাসী দিবস পালিত

Published

on

By

সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি :

বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আদিবাসী ছাত্র সংসদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। এতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা, শিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও আদিবাসী ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি সুইচিংনু মার্মা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মংক্যএ মার্মা বলেন, “আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আশা করি, আজকের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।”

আদিবাসী ছাত্র সংসদের সভাপতি উচিং মারমা বলেন, ” আজকে এই প্রোগ্রামে যারা উপস্থিত থেকে আমাদের প্রোগ্রামটা সফল করেছেন তাদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আগামী বছর আজকের দিনে আরও বড় পরিসরে মুক্তমঞ্চে আদিবাসী দিবস পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।”

Continue Reading

top3

বেরোবি’র শহীদ মুখতার ইলাহী হলে আধুনিক রিডিং রুমের উদ্বোধন

Published

on

By

আনাস মাহমুদ; বেরোবি প্রতিনিধি,

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর শহীদ মুখতার ইলাহী হলে নতুন ও আধুনিক রিডিং রুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রবিবার (০৯ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে হলের দ্বিতীয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিডিং রুমের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে একটি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পড়াশোনার পরিবেশই শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট করে। এই পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্বও শিক্ষার্থীদের নিতে হবে।

উপাচার্য আরও বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি ও রিডিং রুম এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের মেধা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ পায়। আগামীতে প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সমৃদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমান, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামানসহ সহকারী প্রভোস্টবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হলের আবাসিক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Continue Reading

Trending