Connect with us

আন্তর্জাতিক

ঈদ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতি দিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান

Published

on

আসন্ন ঈদুল ফিতর ও কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্রের অনুরোধে পাকিস্তান আফগানিস্তানে চলমান ‘অপারেশন গজব লিল-হক’-এ সাময়িক বিরতি ঘোষণা করেছে।

বুধবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর এবং সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার আফগান তালেবান ও তাদের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিচালিত এই অভিযানে সাময়িক বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

তথ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি ১৮-১৯ মার্চ মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ২৩-২৪ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে অভিহিত করলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলা বা ড্রোন আক্রমণ হয়, তবে অত্যন্ত কঠোরভাবে পুনরায় অভিযান শুরু করা হবে।

পাকিস্তানের এই ঘোষণার পরপরই আফগান তালেবানও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদও সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের অনুরোধের কথা উল্লেখ করেছেন।

অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০৭ জন সন্ত্রাসী নিহত এবং ৯৩৮ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ৮১টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে ২৩৭টি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও আর্টিলারি ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মার্চ কাবুল ও নানগারহারে তালেবান ও টিটিপির ড্রোন এবং গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্রে নিখুঁত হামলা চালানো হয়েছে। তবে কোনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে, পাকিস্তানের এই অভিযান নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিবৃতিকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেছেন, ‘ভারত নিজেই সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়। তাদের এই বিবৃতি ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।’

আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দিইনি, বরং আমাদের ওপর সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে।’

তিনি আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন বর্তমানে আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। কাবুল অভিযানে একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালানো হয়েছে যার প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে রয়েছে। আফগান তালেবান এটিকে ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার দাবি করলেও জেনারেল শরীফ তা নাকচ করে দেন এবং বলেন যে, ড্রোন ও রুশ স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে।

জেনারেল শরীফ কঠোর ভাষায় বলেন, ‘আফগানিস্তান এখন কোনো রাষ্ট্র নয়, বরং তালেবান নামক একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দখলকৃত ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান

Published

on

By

দুই শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবফ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ জানিয়েছেন – লেবাননে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আলোচনা শুরু হতে পারে না।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রকে হয় যুদ্ধবিরতি বেছে নিতে হবে, না হয় ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। তারা উভয়টি একসঙ্গে বজায় রাখতে পারবে না।’

আরাগচি আরও বলেন, লেবাননে ইসরায়েলি গণহত্যার বিষয়টি আজ বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্ট। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে এবং বিশ্ব তাকিয়ে আছে তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কিনা তা দেখার জন্য।

এরপরই মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেন, দুটি মূল শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে পারে না। লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে না দেওয়া হলে এ যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে আলোচনা হবে না।

এ বিষয়ে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবফ লিখেছেন, ‘উভয়পক্ষের মধ্যে পারস্পরিকভাবে সম্মত হওয়া দুটি পদক্ষেপ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এ পর্যন্ত লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি।

এছাড়া আলোচনা শুরুর আগে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার যে কথা ছিল, তাও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আলোচনা শুরুর আগে এই দুটি বিষয় অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া এই সমঝোতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেবে।

Continue Reading

top1

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধি দল

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল। এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।

তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন। গত বুধবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। ওই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে লেবানন। কিন্তু দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জানান লেবানন এতে থাকবে না। এরপর দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলায় দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আহত হন।

ইরান এখন শর্ত দিচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে লেবাননে আগে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত এখন দ্বন্দ্ব চলছে।

এরমধ্যে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংলাপ স্থগিত করেছে।

কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তেহরান।

Continue Reading

top1

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ

Published

on

By

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।

গত বুধবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দিলেও ইরান সরকার জাহাজটিকে হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি দেয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটি পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী ইরান সরকারের কাছে পার হওয়ার অনুমতি চাওয়া হলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

এ বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমরা সব নিয়ম মেনেই অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু ইরান তা গ্রহণ করেনি। তবে কূটনৈতিক চ্যানেলে এখনও আলোচনা চলছে। নাবিক ও জাহাজের নিরাপত্তা বিবেচনায় আপাতত আমরা জাহাজটিকে শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ নাবিক রয়েছেন।

দীর্ঘ সময় আটকে থাকলেও তাদের নিরাপত্তা ও খাবারের বিষয়ে বিএসসি বিশেষভাবে সতর্ক আছে জানিয়ে তিনি বলেন, নাবিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে দৈনিক খাবার বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। মূল বেতনের সমপরিমাণ যুদ্ধকালীন ঝুঁকি ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। জাহাজটিতে প্রতিদিন ১৮ টন লোনা পানি পরিশোধন করার সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে বর্তমানে রেশনিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক ব্যবহারের পরিমাণ ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে হরমুজ প্রণালি হয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ২৭ ফেব্রুয়ারি দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর পরদিনই মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। গত ১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষ হলেও নিরাপত্তার কারণে জাহাজটি আটকা পড়ে যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজটির কুয়েত থেকে পণ্য নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান সামরিক ও কূটনৈতিক অস্থিরতায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে জাহাজটির গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Continue Reading

Trending