Connect with us

top1

ঋণখেলাপি ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, সরকারি ও বিরোধী দলের তুমুল বিতর্ক

Published

on

ঋণখেলাপি ইস্যুতে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। পরে ঋণখেলাপির বিষয়টি এক্সপাঞ্জ চেয়েছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য। আর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ না করার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে বিরোধী দল। বক্তব্য যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে একপর্যায়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে বলতে হচ্ছে—বাংলাদেশে টোটাল মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে যদি আপনি অবলোকন পুনঃতফসিল করা এবং মামলার কারণে যে ঋণের টাকাটা আটকে আছে আদালতে অর্থাৎ পেন্ডিং মামলা হিসেবে যেটা এখনো খাতায় তোলা হয় নাই। সেটা যদি আমরা যোগ করি এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে ১১ লাখ কোটি টাকা। যেটা মোট ঋণের ৫৯.৭৩ শতাংশ। সুতরাং ব্যাংকগুলো চাইলেও সরকারকে বেশি সহায়তা দিতে পারবে না।’

পরে ‘ঋণখেলাপিদের এই সংসদ’ শব্দ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘সকলেই বলেছেন এই সংসদটা একটা ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পরে ত্যাগের বিনিময়ে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। দেশে-বিদেশে সম্মানিত হয়েছি। আমরা সম্মানিত হয়েছি। বিগত অনেকগুলো বছর ভোটারহীন নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ কলুষিত করা হয়েছে। সেইখানে সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সংসদের চেয়ে আমরা মনে করি অনেক উঁচুতে। কিন্তু আমরা যখন বক্তব্য রাখি, দুঃখজনক হলেও সত্য হয়তো খেয়াল করি না। কিন্তু আমরা অনেকেই অবচেতন মনে হোক, সচেতন মনে হোক—এমন কিছু কথা সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের মর্যাদাকে খাটু করে। আজকের বক্তব্য চলাকালীন মাননীয় সংসদ সদস্য আবু তালেব (মূলত বক্তব্য দিয়েছেন ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা) উনি এক জায়গায় বলেছেন, ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে, এই যে ঋণখেলাপিদের এই সংসদ—এই শব্দ কোথা থেকে পেলেন।’

তখন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘মাননীয় সদস্য এটা ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বলেননি। আমি যতটুকু শুনতে পেরেছি এটা রুমিন ফারহানা বলেছিলেন।’

তখন মিলন বলেন, ‘যেই বলুক এই কথাটার প্রেক্ষিতে বলছি। একটা কথা আছে বাংলা ভাষায় মাননীয় স্পিকার যে, ভেড়ায় যদি ক্ষেত খায় সেই ক্ষেত টিকানো যায় না। এইখানে নির্বাচিত হয়ে নিজের মর্যাদা নিজের হানি করার জন্য আমরা যদি আত্মঘাতী সমালোচনা, আত্মঘাতী কথা বলি, ঋণখেলাপি হয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে না। সেখানে ঋণখেলাপিদের সংসদ কী করে হয়? আমি অনুরোধ করবো, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করবেন এবং ভবিষ্যতে আমরা যাতে বক্তব্য রাখি নিজেদের মানসম্মান হানি হয়, এমন কথা যেন অতি উৎসাহিত হয়ে না বলি এইজন্য সকলের প্রতি বিনয়ের অনুরোধ করছি।’

এরপর অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের ঋণখেলাপি হওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম অধিবেশনেও অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত ঋণখেলাপি রয়েছে, তার সংখ্যা উল্লেখ করেছিলাম, তবে সম্মানের কারণে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে সংসদে নিয়ে আসে, এটা তাদের দায়। সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এই সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলবে।’

তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘সংসদকে আমরা সার্বভৌম বলি। এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারি, তাহলে কোথায় বলব? আমার অনুরোধ থাকবে, এ ধরনের শব্দ এক্সপাঞ্জ (বাদ দেওয়া) করার মতো কোনো বক্তব্য নয়।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের বক্তব্যের জবাব দিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মহান জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের উচিত। এখানে যারা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। নির্বাচনী আইন (আরপিও) এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে, আদালত কর্তৃক কেউ ঋণখেলাপি সাব্যস্ত হলে তিনি নির্বাচনের অযোগ্য হন। তার নমিনেশন অবৈধ হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘যাদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে ব্যাংকের বা প্রাইভেট মামলা ছিল, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্ট থেকে সেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পরই তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে গিয়ে ‘ঋণগ্রস্ত’ হতে পারেন, কিন্তু ‘ঋণখেলাপি’ হিসেবে তাদের ডিফেম (মানহানি) করা হচ্ছে। এটি মানহানিকর বক্তব্য, এটি এক্সপাঞ্জ হওয়া উচিত।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে টিআইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) তথ্য উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘টিআইবি সম্প্রতি বলেছে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা।’

আইনজীবী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু একজন আইনজীবী, নির্বাচনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিশিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। সিআইবির (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) নাম আসার পর কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে তা স্টে (স্থগিত) করে ইলেকশন করা হয় এবং এরপর আবারও সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা

Published

on

By

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান নৌবাহিনীর নতুন ‘হাঙ্গর’ শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

ইন্ডিয়া টুডের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে চীনে কমিশনপ্রাপ্ত হাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনটি গত সপ্তাহে করাচিতে পৌঁছেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে নিজেদের অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহরের কমান্ডার কমোডর ওমর ফারুক জানিয়েছেন, পাকিস্তান তাদের নৌবহরে এ শ্রেণির মোট আটটি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা বঙ্গোপসাগরে তাদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

চীন থেকে পাকিস্তানে ফেরার পথে কলম্বো বন্দরে পাকিস্তানের ফ্রিগেট ‘পিএনএস তৈমুর’-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কমোডর ওমর ফারুক সাবমেরিনটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে ইসলামাবাদ এখন কেবল উপকূলীয় প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে বিস্তৃত উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের মুখোমুখি হতে আগ্রহী।

গত পাঁচ দশকে ভারতীয় নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি। ভারতের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ বঙ্গোপসাগরের সামরিক ভারসাম্য রাতারাতি বদলে দেওয়ার মতো না হলেও, এটি ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ‘পিএনএস হাঙ্গর’ কর্তৃক ভারতের যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস খুকরি’ ডুবিয়ে দেওয়ার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সতর্ক করছে যে, এই নতুন সাবমেরিন মোতায়েন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার নৌ-কৌশলগত প্রতিযোগিতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Continue Reading

top1

ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার

Published

on

By

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত এবং শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আলোচনার নির্ধারিত সময়কালে উভয় পক্ষই সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে বলে এক সমঝোতায় পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সব সমুদ্র বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে মার্কিন নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে।

সেন্টকম তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সমস্ত নৌ-যান চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছে। তবে তাদের শক্তিশালী নৌ-জাহাজগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে যাতে চুক্তির প্রতিটি দিক কঠোরভাবে মেনে চলা হয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, অবরোধ শিথিল করার পর গত বুধবারই হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়েছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী এক ডজনেরও বেশি জাহাজকে এই প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে যে যুদ্ধকালীন সময়ে হরমুজ প্রণালীতে পুঁতে রাখা মাইনগুলো দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আগামী ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা শুল্ক আদায় করা হবে না। তবে প্রণালী পার হতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোকে ইরানের একটি নতুন সরকারি সংস্থায় ট্রানজিট অনুরোধ জমা দিতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয় এবং বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমান এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে এই ভঙ্গুর চুক্তিটি এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত উপস্থিতি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ৬০ দিনের আলোচনা শেষে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যেখানে ইরান পরবর্তীতে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে, তা এই চুক্তির স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের সাথে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করায় দেশের অভ্যন্তরে সমালোচনার মুখে পড়েছে। চুক্তির আওতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানকে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই মার্কিন ছাড় হিসেবে দেখছেন।

তবে এই সমালোচনার জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, মানুষ যখন এই চুক্তি এবং দেশের আলোচনার অবস্থানটি পুরোপুরি বুঝতে পারবে, তখন তারা উপলব্ধি করবে যে এটি মার্কিন জনগণের জন্য অত্যন্ত চমৎকার একটি সিদ্ধান্ত।

Continue Reading

top1

সুইস ব্যাংক: ২০২৫ সালে বাংলাদেশিরা জমা রাখেন সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি

Published

on

By

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে (এসএনবি) বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। যার মধ্যে ২০২৫ সালেই জমা পড়ে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এসএনবি। 

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের হিসাবে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশিদের আমানতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

বাংলাদেশে সুইস ফ্রাঁর ব্যবহার সীমিত হলেও বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি সুইস ফ্রাঁর মূল্য প্রায় ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরে হিসাব করলে, ২০২৫ সালের শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের মোট জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা।

আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস ব্যাংকগুলো

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা এসেছে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জমা রাখা অর্থ থেকে। ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৪ সালের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

ফলে সুইস ব্যাংকে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন ব্যাংকগুলোর নামে রাখা অর্থ। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ কয়েক বছর আগেও চিত্রটি ছিল ভিন্ন। ২০২৩ সালে মোট আমানতের মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ ছিল ব্যাংকগুলোর নামে।

অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ের হিসাবগুলোতে রাখা অর্থের পরিমাণ কমেছে। ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা আমানত ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

Continue Reading

Trending