তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। খাল পুনঃখননের কাজ নির্ধারিত সময় ও পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করার পর প্রকল্পের অব্যবহৃত ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১২ আগস্ট) তালতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল-মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি’র আওতায় তালতলী উপজেলার বড়বগী ও বড় ভাইজোড়া খালের প্রায় ৫ কিলোমিটার পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। বড়বগী ইউনিয়নের ছাতনপাড়া এলাকার মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ি থেকে খাজুরা কালভার্ট হয়ে ছোটবগী ইউনিয়নের বলের তবক এলাকার ওয়াজেদ কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করার পাশাপাশি ২৯৭ জন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা হয়। এরপরও বরাদ্দের একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। পরে সেই ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা ২৬২৭-০০০৮৫৬৯৮৬৩১ নম্বর চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে শেষ করার পর অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার এ উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।