Connect with us

রাজনীতি

গ্রুপিং কোন্দলে ‘লেজেগোবরে’ বিএনপি, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান-সব জায়গায় নির্বাচনের আলোচনা। ইতোমধ্যে এসব আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দল তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করেছেন। যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। তবে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থা ‘লেজেগোবরে’। দলটি এখনো কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ কারণে ভোটারদের মধ্যে একই প্রশ্ন-কারা হচ্ছেন এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী।

জেলার ৬টি আসনের প্রতিটিতে ৭ থেকে ৮ জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রায় সবাই কর্মিসভা, আলোচনা সভাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এতে এলাকায় এক ধরনের নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এদিকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। তা না হলে নির্বাচনে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর):

বিএনপি থেকে দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন জেলা কমিটির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান, জেলা বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, জেলা বিএনপির পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক ড. শামসুল হক কিবরিয়া, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আযম চৌধুরী ও প্রিন্সিপাল এমএ মোনায়েম। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মাঠে রয়েছেন শাহানুল করমি গরীবুল্লাহ।জামায়াতে ইসলামীর জেলা জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য ও নাসিরনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক (অব.) একেএম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ):

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন নেছার আহমেদ নাছেরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাইনুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (জেলা সদর-বিজয়নগর):

এ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন বিএনপির অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জোনায়েদ হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন যুগ্ম সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মুহসিনুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া):

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহাম্মেদ ভূঁইয়া, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দীন হাজারী, সাবেক আখাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর):

এ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা তকদীর হোসেন মো. জসিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ও উচ্চ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল বাকি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ূম ফারুকী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর):

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ-সদস্য এমএ খালেক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ও বাঞ্ছারামপুর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিবুল হুদা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল মজিদ। তবে জোটগত কারণে এ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে রাত পোহালেই রংপুর অভিমুখী ১১ দলীয় লং মার্চ

Published

on

By

রংপুর অভিমুখী লংমার্চের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে আগামীকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে এই বহর। এদিন সকাল ৭টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সমাবেশ শুরু হবে এবং সকাল ৮টায় টঙ্গী-গাজীপুর-টাঙ্গাইল হয়ে রংপুরের পথে যাত্রা করবে লংমার্চ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সহযোগিতা করার জন্য সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের প্রতি আবেদন যে, এই সুশৃঙ্খল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনোভাবেই যেন বাধার সৃষ্টি বা অন্তরায় সৃষ্টি করা না হয়।’

লং মার্চে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা এই লং মার্চের যাত্রীদেরকে ১১ দলের নেতাকর্মীদের কাছে অনুরোধ করেছি, কোনো উসকানির মুখে চরম ধৈর্য এবং সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের এই গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করব। আমরা কারো উসকানিতে পা দেব না। আমরা যদি একটু ক্ষতিগ্রস্ত হই, আমাদের গায়ে যদি একটা আঘাতও লাগে, আমরা তার প্রতিশোধের চেয়ে মনে করি, একটা আঘাতকে হলেও এই লং মার্চ সফল করার মধ্যে আমাদের সার্থকতা সবচেয়ে বেশি।’

Continue Reading

top2

রংপুর অভিমুখে লংমার্চে পাঁচ জেলায় পথসভা করবে ১১ দলীয় ঐক্য

Published

on

By

সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে কর্মসূচিটি রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। পথে পাঁচটি জেলায় পথসভা করবে জোটটি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে লংমার্চ শুরু হবে। সেখানে সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্বোধনী সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। পরে রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি এতে যুক্ত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সংসদে ১১ দলীয় ঐক্য জনস্বার্থ ও জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছে। আইনশৃঙ্খলা, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ভূমিকা রাখছেন।

জ্বালানি সংকট নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর অভিযোগ, তেল-গ্যাস সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং বিরোধী দল থেকে ১০টি প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো সরকার আমলে নেয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বস্ত্রশিল্পের অর্ডার পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সার সংকটের কারণে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিরোধী দল সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো সরকার যথাযথভাবে বিবেচনা করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

top1

পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ডসহ ৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু

Published

on

By

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার সিন্ডিকেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তসংক্রান্ত একটি নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, ‘আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।’

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আসিফ মাহমুদ পর্তুগালে জমি কিনেছেন, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ করেছেন এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার দুই ভগ্নিপতি ও এক ভাগ্নের মাধ্যমেও বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতির অর্থে পাঁচ তারকা হোটেলে যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও গাড়ি ব্যবহার এবং হেলিকপ্টারে ভ্রমণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগে ৫২ কোটি টাকা এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতেও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

টেন্ডার ও প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার-বাণিজ্যের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

স্বজন ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন এবং এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

Trending