Connect with us

রাজনীতি

গ্রুপিং কোন্দলে ‘লেজেগোবরে’ বিএনপি, একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে জামায়াত

Published

on

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনে। রাস্তাঘাট, চায়ের দোকান-সব জায়গায় নির্বাচনের আলোচনা। ইতোমধ্যে এসব আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কয়েকটি ইসলামি দল তাদের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থীরা গণসংযোগও শুরু করেছেন। যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে। তবে দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির অবস্থা ‘লেজেগোবরে’। দলটি এখনো কোনো আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ কারণে ভোটারদের মধ্যে একই প্রশ্ন-কারা হচ্ছেন এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী।

জেলার ৬টি আসনের প্রতিটিতে ৭ থেকে ৮ জন বিএনপি নেতা দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রায় সবাই কর্মিসভা, আলোচনা সভাসহ সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এতে এলাকায় এক ধরনের নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। তবে মনোনয়ন চূড়ান্ত না হওয়ায় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন। এদিকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি গ্রুপিং আর কোন্দলে জর্জরিত। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার বলে মনে করছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। তা না হলে নির্বাচনে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর):

বিএনপি থেকে দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে কাজ করছেন জেলা কমিটির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান মামুন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান, জেলা বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, জেলা বিএনপির পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক ড. শামসুল হক কিবরিয়া, নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আযম চৌধুরী ও প্রিন্সিপাল এমএ মোনায়েম। এ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মাঠে রয়েছেন শাহানুল করমি গরীবুল্লাহ।জামায়াতে ইসলামীর জেলা জামায়াতের মজলিশে শূরা সদস্য ও নাসিরনগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক (অব.) একেএম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ):

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ করছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব এসএন তরুণ দে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি শেখ মোহাম্মদ শামীম, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু, জেলা বিএনপির সদস্য আহসান উদ্দিন খান শিপন, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ ও ডাক্তার নাজমুল হুদা বিপ্লব। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসাইন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদী, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন নেছার আহমেদ নাছেরী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মাইনুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (জেলা সদর-বিজয়নগর):

এ আসনে মনোনয়ন পেতে মাঠে আছেন বিএনপির অর্থনৈতিকবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। ২০১১ সালের উপনির্বাচনে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তৌফিকুল ইসলাম মিথিল।

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জোনায়েদ হাসান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন চাইবেন যুগ্ম সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা গাজী নিয়াজুল করিম এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা মুহসিনুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া):

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা খন্দকার, জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহাম্মেদ ভূঁইয়া, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাছির উদ্দীন হাজারী, সাবেক আখাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুসলেম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। ইসলামী আন্দোলন থেকে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি জসিম উদ্দিন এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর):

এ আসনে দল থেকে মনোনয়ন চাচ্ছেন জেলা বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সায়েদুল হক সাঈদ, কেন্দ্রীয় কৃষক দল নেতা তকদীর হোসেন মো. জসিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কৃষক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি রাজীব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ও উচ্চ আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল বাকি। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী আব্দুল বাতেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল কাইয়ূম ফারুকী।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর):

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন সাবেক সংসদ-সদস্য এমএ খালেক, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার ও বাঞ্ছারামপুর বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ।

এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সহকারী অধ্যাপক দেওয়ান মো. নকিবুল হুদা, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি এবং খেলাফত মজলিস থেকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা আবদুল মজিদ। তবে জোটগত কারণে এ আসনটি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সংকট উত্তরণে জামায়াতের ৯ প্রস্তাব

Published

on

By

দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত দলটির জেলা আমির সম্মেলন থেকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৯টি প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

সম্মেলনে সারাদেশের সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর আমিররা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এরমধ্যে অবিলম্বে গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণার প্রস্তাব করা হয়। যাতে প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি জনগণের কাছে দৃশ্যমান হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘হ্যাঁ’ ভোটে বিজয়ী ‘গণভোট’ একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মৌলিক রূপরেখা। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা ও সরকারের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অশুভ সংকেত।

জ্বালানি সংকট নিরসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ
বর্তমান জ্বালানি সংকট দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, শিল্প খাতের উৎপাদন, কৃষি কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি, গ্যাস সংকট এবং জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে এবং উৎপাদনশীল খাতকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জামায়াত জেলা আমির সম্মেল থেকে প্রস্তাব করেছে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান দুর্নীতি, অনিয়ম ও অদক্ষতা চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আমদানিনির্ভরতা হ্রাস করে দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলা করা যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং অপচয় ও চুরি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতার জন্য দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। জ্বালানি সমস্যার কারণে কৃষকেরা মারাত্মকভাবে সার সংকটে নিপতিত হয়েছেন। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয়করণ বন্ধ করা

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহে দলীয়করণ, পক্ষপাতিত্ব ও প্রভাব বিস্তার সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন থেকে প্রস্তাব করা হয়, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক ‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের জীবনযাত্রার মান রক্ষা করা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বাজার সিন্ডিকেট, মজুদদারি ও তদারকির দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।

এ অবস্থায় জামায়াত প্রস্তাব করছে বাজার সিন্ডিকেট, কারসাজি ও মজুদদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তদারকি জোরদার করতে হবে। ভর্তুকি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও টার্গেটেড সহায়তার মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে কার্যকর সহায়তা প্রদান করতে হবে। কৃষক ও উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে উৎপাদন ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে হবে, যাতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। হামের ভয়াবহ আক্রমণে জনস্বাস্থ্য আজ মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন। এ থেকে উত্তররণের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল

দেশব্যাপী চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিস্তার জননিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হবে। এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন থেকে প্রস্তাব করা হয়- অপরাধীদের দলীয় পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ, দ্রুত, কার্যকর ও সময়োপযোগী করে অপরাধ দমনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা জোরদার করতে হবে। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের অন্যায়ভাবে হত্যা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উন্মুক্ত করে দেয়া

চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থাণের প্রেক্ষাপট, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের চরিত্র উন্মোচন এবং জাতির আত্মত্যাগের ইতিহাসকে তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে অতি দ্রুত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে। এজন্য জুলাই জাদুঘরে প্রবেশমূল্য না রাখা। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করা। জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণার জন্য দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

রাষ্ট্রের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনের বিকল্প নেই। তাই স্থানীয় পর্যায়ের সকল স্তরে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সরকার দলীয় নেতাদের অপসারণ করতে হবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা

দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে। আর্থিক খাত ভেঙে পড়লে রাষ্ট্র তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না, জনগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে দলীয়করণ করা যাবে না। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অর্থ লোপাটকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দখলবাজি বন্ধ করতে হবে। গ্রাহকদের আমানত রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও মুসলিম বিশ্বের করণীয়

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় মুসলিম বিশ্বকে এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বিবেককে নাড়া দিচ্ছে এবং বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে সম্মেলন মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান- মুসলিম দেশসমূহ পারস্পরিক বিভেদ ও দ্বন্দ্ব পরিহার করে কার্যকর ঐক্য ও সহযোগিতা গড়ে তুলবে। সংঘাত নিরসনে সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও ফলপ্রসূ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিতভাবে জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

Continue Reading

রাজনীতি

শিরীন শারমিনের নেতৃত্বে নতুন আওয়ামী লীগ? যা বললেন রনি

Published

on

By

অনলাইন ডেস্ক

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ার পর তাকে দিয়ে নতুন আওয়ামী লীগ খোলার কথা কেউ কেউ বলছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তবে তিনি মনে করেন, এই পরিকল্পনা ফেইল করবে।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়ার পরে লোকজন বলল, সরকারের মেরুদণ্ড বলে কিছু নেই, এ সরকার পারে না। নিঃসন্দেহে শিরীন শারমিনকে দিয়ে তারা একটা খারাপ খেলা খেলতে চাচ্ছে।

তারা তাদের পছন্দমতো একটা নতুন আওয়ামী লীগ খুলতে চাচ্ছে। পুরোনো আওয়ামী লীগ বন্ধ হয়ে গেছে।

যেমন শেখ হাসিনা চেষ্টা করেছিলেন নতুন বিএনপি করার জন্য, তৃণমূল বিএনপি করার জন্য। এখন তৃণমূল আওয়ামী লীগ বা নতুন আওয়ামী লীগ করার জন্য শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন গোলাম মাওলা রনি।

তবে তিনি মনে করেন এই নতুন আওয়ামী লীগ সৃষ্টির চেষ্টা ফেইল করবে। গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তার মতো যাদের নাম রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ, নতুন আওয়ামী লীগ এই নামে আসছে তারা আসলে কেউই রাজনৈতিকভাবে মাঠে পরীক্ষিত নন। শিরীন শারমিনকে নিয়ে যারা চেষ্টা করছেন, তারা ফেইল করবেন।

Continue Reading

top1

এখন অবসর চান ‘ক্লান্ত’ ফখরুল

Published

on

By

‘আমি অনেক ক্লান্ত, আমি একটু অবসর নিতে চাই। এনাফ ইজ এনাফ।’ রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে এমন কথা বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি জানান, এ বছরই হচ্ছে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। এরপরই বিএনপির এ শীর্ষ পদে দীর্ঘদিন পর দেখা যাবে নতুন মুখ। সম্প্রতি সময় টিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দিনক্ষণ ঠিক না হলেও এ বছরই হচ্ছে দলের কাউন্সিল। এর আগে হবে তৃণমূলের সম্মেলন। দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলেই পরিবর্তন আসছে মহাসচিব পদে।

রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।’

রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।’

বিএনপির সবশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ১০ বছর আগে। ২০১১ সালের মার্চে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালের কাউন্সিলে পর থেকে সামলাচ্ছেন মহাসচিবের দায়িত্ব। মির্জা ফখরুল ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি (শিক্ষা ক্যাডার) থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন।

Continue Reading

Trending