top1

চবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের খোঁজে দুদক, গায়েব নম্বর শিট!

Published

on

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপ-উপাচার্যের কক্ষে এই অভিযান পরিচালিত হয়। তবে তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বিশেষ করে প্রার্থীদের ‘নম্বর শিট’ খুঁজে পায়নি দুদক দল।

অভিযানের মূল কারণ ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক ও টিম লিডার সায়েদ আলমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতারের আমলে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই ব্যবস্থা।

অভিযান শেষে সায়েদ আলম সাংবাদিকদের বলেন,

ফার্সি বিভাগ: এই বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্ল্যানিং কমিটির (Planning Committee) কোনো সুপারিশ ছিল না বলে প্রাথমিক রেকর্ডে দেখা গেছে, যা বিধি বহির্ভূত।

নিখোঁজ নম্বর শিট: নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ ছিল কি না তা যাচাইয়ের জন্য নম্বর শিট অপরিহার্য। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা দেখাতে পারেনি। ফলে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সিন্ডিকেট সভা: ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত নিয়োগগুলোর রেকর্ডপত্র বর্তমানে যাচাই করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামিম উদ্দিন খান। তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত সততার সাথে কাজ করছে।

তিনি বলেন, “আগে অনেক অনুমোদনহীন নিয়োগ ছিল, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলো ইউজিসির (UGC) শর্ত মেনে স্থায়ীকরণ করছি। নাট্যকলা, সংগীত ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের চাপের মুখেও নিয়ম মেনেই আমরা নিয়োগ দিয়েছি।” ফার্সি বিভাগের বিতর্কিত নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০২১ সালের একটি অডিও ফাঁসের ঘটনায় নিয়োগটি স্থগিত ছিল, যা বর্তমান প্রশাসন প্রক্রিয়া মেনে সম্পন্ন করেছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

দুদক জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংগৃহীত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ মতামতও নেওয়া হবে। অভিযানে দুদকের আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক হামেদ রেজা এবং সবুজ হোসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version