ক্যাম্পাস

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তিতে ইবিতে পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির বৃক্ষরোপণ

Published

on

ইবি প্রতিনিধি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তি উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত পাবনা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কের পাশে কদবেল, আমলকি, পেয়ারা-সহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন সংগঠনের সদস্যরা।

কর্মসূচিতে সংগঠনটির সভাপতি শাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদ-উদ-দৌলা, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-হিসাব পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সংগঠনটির সদ্য সাবেক সভাপতি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এবং শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ। এছাড়া সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচির বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরপূর্তিতে আমরা এমন একটি কর্মসূচি করতে চেয়েছি, যা দীর্ঘদিন মানুষের উপকারে আসবে। সেই ভাবনা থেকেই বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই গাছগুলো শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে না, বরং আগামী প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের কথাও মনে করিয়ে দেবে। আমরা আশা করি, আমাদের এই ছোট উদ্যোগ থেকে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হয়ে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।”

সংগঠনটির সভাপতি শাকিল আহমেদ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের স্মৃতিকে ধারণ করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা চাই, শুধু স্মরণসভা বা আলোচনা নয়, বরং একটি সৃষ্টিশীল ও জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে জুলাইয়ের স্মৃতিকে ধরে রাখতে। একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ছায়া, অক্সিজেন ও পরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিত করে, তেমনি আজকের এই বৃক্ষগুলোও আগামী দিনে জুলাইয়ের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে থাকবে। পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আমরা ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।”

অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে রেজিমের পরিবর্তন ও ফ্যাসিজমের উৎখাত হয়েছে। যাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করে রাখতেই পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আমরা চাই, এই বৃক্ষগুলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জুলাইয়ের স্মৃতির সাক্ষী হয়ে থাকুক এবং অনাগত প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরুক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, এই বৃক্ষরোপণ একটি সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল উদ্যোগ হিসেবে অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। নতুন প্রজন্ম আমাদের দেখে শিখবে এবং দেশকে গড়ে তোলার কাজে এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের সূচনা, উত্থান বা জন্ম না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে নতুন সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রত্যয় রয়েছে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তা আরও বেগবান হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version