সর্বশেষ

ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ

Published

on

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় চানাচুর কিনতে গিয়ে প্রতিবেশীর ঘরে আটকে এক অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রীকে (১৫) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ জুন বিকেলে উপজেলার চরনগরদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

​অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাসুম (৪০)। সে চরনগরদী গ্রামের মৃত নূর ইসলামের ছেলে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী।

​এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী চরনগরদী গ্রামের গয়েশপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ছাত্রী। গত ৩ জুন ২০২৩ তারিখ বিকেল আনুমানিক ০৬:৩০ ঘটিকায় মেয়েটি ঝালমুড়ি খাওয়ার জন্য বাড়ির পাশের দোকানে চানাচুর কিনতে বের হয়। পথে অভিযুক্ত মাসুমের মা মেয়েটিকে ডাক দিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান।

​পরবর্তীতে সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭:০০ ঘটিকায় মেয়েটি মাসুমের মায়ের ঘর থেকে বের হয়ে পুনরায় দোকানের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে, অভিযুক্ত মাসুম মেয়েটিকে ফুসলিয়ে তার নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় এবং ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঐ সময় ঘরের ভেতরের খাটের ওপর একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি শোয়া অবস্থায় ছিল।

​ভুক্তভোগীর মা এজাহারে অভিযোগ করেন, মাসুম জোর করে মেয়েটির হাতে দুটি বড়ি (ট্যাবলেট) দিয়ে তা খেতে বলে। মেয়েটি ওই বড়ি দুটি খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে মাসুম মেয়েটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর মেয়েটিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

​বাড়ি ফিরে কিশোরীটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা তার মাথায় পানি দেন এবং লেবুর শরবত খাওয়ান। পরে কিছুটা স্বাভাবিক হলে মেয়েটি তার মা ও বাবার কাছে ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দেয়।

​ঘটনার পরের দিন সকালে ভুক্তভোগীর পরিবার বিষয়টি অভিযুক্ত মাসুমের বোন মানছুরাকে জানালে, মাসুমের স্ত্রী লিমা ভুক্তভোগীদের বাড়িতে এসে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করতে ভুক্তভোগী পরিবারের কিছুটা বিলম্ব হয়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, “শিশুটির মাতা থানায় এসে অভিযোগ দাখিল করেছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

​এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাসুম মিয়া আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের দাবি, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। পূর্ব শত্রুতার জেরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদেরকে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।

​এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Trending

Exit mobile version