Connect with us

আন্তর্জাতিক

তিন দশকে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে 

Published

on

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচনে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত (বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার ভোর ৫টা) আনুমানিক ১৭ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি। বিষয়টি জানিয়েছে শহরের নির্বাচন বোর্ড।

এর আগে, ১৯৯৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৯ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী রুডি জুলিয়ানি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড ডিনকিনসকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এবারের নির্বাচনে প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৭ জন আগাম ভোট দিয়েছেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে নিউইয়র্ক শহরে এটিই সর্বোচ্চ আগাম ভোট পড়ার ঘটনা।

গতকাল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয় স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়। শেষ হওয়ার কথা রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার সকাল ৮টা)। এর পরপরই শুরু হওয়ার কথা ভোট গণনা।

শহরের অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় একটি কেন্দ্রে ভোট দেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি। এবারের নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছেন তিনি। তরুণসহ সব বয়সী ভোটারের মধ্যে বেশ সাড়াও পেয়েছেন। তার প্রতিফলন দেখা গেছে ভোটকেন্দ্রে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ভোট দিতে যান স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে।মেয়র নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বরাবরই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মামদানি। গত বৃহস্পতিবারের এমারসন কলেজ/পিআইএক্স ১১/দ্য হিলের জরিপ অনুযায়ী, মামদানি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কুমোর চেয়ে প্রায় ২৫ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন। জরিপে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার চেয়ে মামদানি এগিয়ে ছিলেন প্রায় ২৯ পয়েন্টে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আন্তর্জাতিক

ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জরুরি বৈঠকে বসছেন ট্রাম্প

Published

on

By

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি নিয়ে খুব দ্রুতই আমরা সিচুয়েশন রুমে বৈঠবে বসতে যাচ্ছি। তবে সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তির অন্যতম শর্ত হলো, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র বা বোমা তৈরি করতে পারবে না। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে উভয় দিক থেকে জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং সেখানে স্থাপিত সব মাইন অপসারণের বিষয়টিও চুক্তির অংশ হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে সেখানে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো পুনরায় নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারবে। তবে নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তির আওতায় কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন হবে না বলেও জানান তিনি।

এর আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া কাঠামো নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে এটি এখনও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ রয়েছে। ইরানি সূত্রগুলোর মতে, ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির কিছু বিষয়কে নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন।

ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও পরিকল্পনা করছে না।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, চুক্তির ভাষা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তার ভাষায়, উভয় পক্ষ সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, তবে চুক্তি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র : আল জাজিরা

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম ইরানের কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৭০০’

Published

on

By

ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স মার্কিন ও ইহুদিবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে ‘তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ’ অর্থাৎ রমজান যুদ্ধের সময় বিভিন্ন ধরণের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং তাদের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের বহরে যুক্ত হওয়া এবং কার্যকর হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৫০০’ (জুহাইর-১)। বর্তমানে নিখুঁত লক্ষ্যভেদী কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে সামনে এসেছে আধুনিক ও কার্যক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ‘রা’দ-৭০০’ (জুহাইর-২)।

একটি সামগ্রিক পর্যালোচনা

রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) এবং বর্তমানে রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২) ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে যে, ফাতেহ ক্লাসের (ফাতেহ-১১০, ফাতেহ-৩১৩ এবং জুলফিকার) স্ট্রাইক ক্ষেপণাস্ত্র পরিবারের যাত্রা শেষের পথে। এই ক্ষেপণাস্ত্র সিরিজটিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ হাসান তেহরানি-মোকাদ্দামের এক চিরস্থায়ী ঐতিহ্য হিসেবে স্মরণ করা হয়, যা বছরের পর বছর ধরে ইরানের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল।

এখন এই অভিজ্ঞ প্রজন্মটি তাদের জায়গা ছেড়ে দিয়েছে আরও আধুনিক নকশা ও উন্নত প্রযুক্তির একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের কাছে এবং এটি এখন আর কারখানার উৎপাদন লাইনে নেই। এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম রা’দ-৫০০ বা জুহাইর-১; যা শহীদ তেহরানি-মোকাদ্দামের শুরু করা পথেরই একটি বড় অগ্রগতি এবং আজ তা হালকা, দ্রুত ও নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে।

রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) হলো উপযুক্ত পাল্লা, উচ্চ নির্মাণ গুণমান, ছোট আকৃতি, শক্তিশালী ওয়ারহেড এবং অসাধারণ চালচলন বা ম্যানুভারেবিলিটি সম্পন্ন একটি ক্ষেপণাস্ত্র, যা কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবারে এক নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। ৫০০ কিলোমিটার পাল্লা এবং ছোট ও কমপ্যাক্ট আকারের কারণে এটিকে যথাযথভাবেই ইরানের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজন্ম বলা যেতে পারে; এমন এক প্রজন্ম যা আগের মডেলগুলোর চেয়ে অনেক হালকা, উন্নত এবং কার্যকর।

রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রটি তার সুবিধাজনক আকারের কারণে ‘টুইন-লঞ্চার’ (একসাথে দুটি বহনকারী যান) এর ওপর বহন করা যায় এবং নিকট ভবিষ্যতে এর তিন ও চার ক্ষেপণাস্ত্র বিশিষ্ট সংস্করণও কল্পনা করা সম্ভব। এটি দেখায় যে, ক্ষেপণাস্ত্রটির নতুন নকশা এর পরিবহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কতটা অপ্টিমাইজড বা কার্যকর হয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে, রা’দ-৫০০ তার আগের প্রজন্মের তুলনায় উচ্চ নির্মাণ গুণমান এবং অসাধারণ চালচলন ক্ষমতার অধিকারী। তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে এর কার্যকারিতা বিষয়টি প্রমাণ করেছে; যেখানে এটি নিজস্ব জটিল এবং বুদ্ধিমান ফ্লাইট প্রোফাইলের ওপর নির্ভর করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সফল পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এবং বেশিরভাগ লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রেখেছে।

রা’দ-৫০০ এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নতুন প্রজন্মের প্রপালশন সিস্টেম এবং কম্পোজিট উপাদান ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। এতে কার্বন ফাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রায় ১০০ বার চাপ সহ্য করতে পারে এবং প্রায় ৩০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে সক্ষম।

রা’দ-৫০০ হলো একটি নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র যা ইস্পাতের বডি বিশিষ্ট ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অর্ধেক ওজনের, কিন্তু এর পাল্লা অনেক বেশি। ফাতেহ পরিবারের প্রচলিত মডেলগুলোর তুলনায় রা’দ-৫০০ এর ওজন ৫০% হ্রাস পেলেও, এর পাল্লা ২০০ কিলোমিটার বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।

এই ক্ষেপণাস্ত্রে পূর্ববর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে আরও উন্নত বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে ওয়ারহেডের ওজন কম হলেও, এর কার্যকারিতা ফাতেহ পরিবারের ৪৫০ কেজি ওজনের ওয়ারহেডের সমান। রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রে প্রায় ১২০ কেজি বিস্ফোরক রয়েছে এবং এর ওয়ারহেডটি উচ্চ-বিস্ফোরক ফ্র্যাগমেন্টেশন ধরণের, যার মোট ভর সম্ভবত ২০০ থেকে ২৫০ কেজির কাছাকাছি।

রা’দ-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল বিষয় হলো এর নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার। কারণ এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কেবল বডির ক্ষেত্রে নয়, বরং এর প্রোপালশন সিস্টেমের ক্ষেত্রেও “জুহাইর” কম্পোজিট প্রোপালশনে সজ্জিত। এভাবে ইঞ্জিন এবং বডি উভয় ক্ষেত্রেই কার্বন ফাইবার প্রযুক্তির কম্পোজিট উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা ফাতেহ-১১০ পরিবারের অন্যান্য মডেলের তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। প্রতিরক্ষা শিল্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান ২০১৪ সালেই এই প্রযুক্তি অর্জন করেছে।

রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২)-এর বৈশিষ্ট্যসমূহ

তবে রা’দ-৫০০ (জুহাইর-১) এই পরিবারের একমাত্র সদস্য নয়। এর পাশাপাশি একটি উন্নত এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত সংস্করণও রয়েছে—যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং তথ্যও সীমিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

রা’দ-৭০০ (জুহাইর-২) কে এর প্রথম প্রজন্ম অর্থাৎ রা’দ-৫০০ এর ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর ও ভারী আপগ্রেড বা আধুনিকায়ন হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি রা’দ-৫০০ এর মূল কাঠামো বজায় রাখলেও কিছু মূল খুঁটিনাটি বিষয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই সংস্করণে সামগ্রিক আকৃতি প্রায় একই রয়েছে; ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাস আগের মতোই আছে, বুস্টারের দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হয়নি এবং কেবল এর কলার বা ওয়ারহেডটি কিছুটা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। তবে আপাতদৃষ্টিতে ছোট এই পরিবর্তনটি, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সাথে মিলে ক্ষেপণাস্ত্রের পুরো চরিত্রকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছে:

জুহাইর-২ এর ওয়ারহেডে একটি ছোট সলিড-ফুয়েল (কঠিন জ্বালানি) মোটর যুক্ত করা হয়েছে; এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা এটিকে ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এই আপগ্রেডের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৭০০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে; যা এর কমপ্যাক্ট বা ছোট আকৃতির বিবেচনায় একটি দুর্দান্ত প্রকৌশলগত কৃতিত্ব।

আইআরজিসি’র অ্যারোস্পেস ফোর্সের কর্মীদের মাঝে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি তার আচরণ এবং উড্ডয়ন শৈলীর মিলের কারণে “ফাত্তাহ কুচুলু” (ছোট ফাত্তাহ) ডাকনামও পেয়েছে। এটি ইরানের হাইপারসনিক পরিবারের অন্যতম কম পরিচিত সদস্য যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়নি, তবে যুদ্ধের সাংগঠনিক কাঠামোতে এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো এর রহস্য উন্মোচন করা হলো।

প্রথম সংস্করণের মতো জুহাইর-২ ক্ষেপণাস্ত্রটিও তৃতীয় চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এবং এটি তিন মিনিটেরও কম সময়ে মার্কিন সেনাদের একটি সমাবেশস্থলে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। এই হামলায় নিশ্চিতভাবেই ভারী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল এবং এটি ক্ষেপণাস্ত্রটির কর্মক্ষমতা চমৎকারভাবে প্রমাণ করেছে।

Continue Reading

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করল জাতিসংঘ

Published

on

By

যুদ্ধকালীন সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ঘটনার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতিসংঘের একটি আসন্ন প্রতিবেদন। তথ্য আলজাজিরার। 

জাতিসংঘের একটি বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলকে ‘কালোতালিকায়’ যুক্ত করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা দাবি করেন, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। তাদের মতে, জাতিসংঘ একটি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিচ্ছে এবং ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসচিবের কার্যালয়ের দরজা এখনও খোলা আছে এবং তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই তালিকায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করাকে যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় নারীদের ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে আরও কঠোরভাবে তদন্ত প্রয়োজন।

এর আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলে যে তাদের তদন্তকারীদের কোনো কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক প্যাটার্ন।

সম্প্রতি পশ্চিম তীর নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায়, বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কিছু স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন যে আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, কিছু প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

এই ঘটনার পেছনে বড় একটি প্রেক্ষাপট হলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ। সেই সময় হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর থেকে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসরায়েলে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনাও ঘটে।

সব মিলিয়ে নতুন এই প্রতিবেদনকে ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

সম্পাদক: পলাশ মাহমুদফোন: +৮৮০১৩১২৫৫৯৯৬৬ই-মেইল: info@asia-post.com

ঠিকানা: লেভেল ১০, বেঙ্গল সেন্টার, ২৮ তোপখানা রোড, শাহবাগ, ঢাকা- ১০০০।

যুদ্ধকালীন সংঘাতময় এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে জাতিসংঘের কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ঘটনার প্রতিবাদে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।

এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জাতিসংঘের একটি আসন্ন প্রতিবেদন। তথ্য আলজাজিরা

জাতিসংঘের একটি বার্ষিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যৌন সহিংসতার ঘটনায় ইসরায়েলকে ‘কালোতালিকায়’ যুক্ত করা হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েল।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, তারা জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইসরায়েলি প্রতিনিধিরা দাবি করেন, এই প্রতিবেদন তাদের জন্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। তাদের মতে, জাতিসংঘ একটি পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান নিচ্ছে এবং ইসরায়েলকে অন্যায়ভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

অন্যদিকে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহাসচিবের কার্যালয়ের দরজা এখনও খোলা আছে এবং তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই তালিকায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করাকে যথাযথ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় নারীদের ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে আরও কঠোরভাবে তদন্ত প্রয়োজন।

গাজার ৭০ শতাংশ দখলে নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

এর আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলে যে তাদের তদন্তকারীদের কোনো কারাগার বা আটককেন্দ্র পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের ঘটনা ঘটছে। তাদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক প্যাটার্ন।

সম্প্রতি পশ্চিম তীর নিয়ে কাজ করা একটি মানবাধিকার সংস্থা জানায়, বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কিছু স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন যে আটক অবস্থায় তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি সরকার বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলছে, কিছু প্রতিবেদন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতার প্রতিফলন নয়।

এই ঘটনার পেছনে বড় একটি প্রেক্ষাপট হলো ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ। সেই সময় হামাসের হামলার পর ইসরায়েল ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

এরপর থেকে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ে। জাতিসংঘ মহাসচিবকে ইসরায়েলে অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার ঘটনাও ঘটে।

সব মিলিয়ে নতুন এই প্রতিবেদনকে ঘিরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, আর আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

Continue Reading

Trending