দিল্লি- সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছে। এ ঘটনাকে দেশটির গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৭টা ২২ মিনিট) লালকেল্লার কাছাকাছি একটি ব্যস্ত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের উৎস ছিল একটি চলন্ত হুন্ডাই i20 গাড়ি। গাড়িটি সিগন্যালে থামার পরপরই বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে আশপাশের গাড়িগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা বলেন, “একটি ধীরগতির গাড়ি সিগন্যালে থেমেছিল। হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে এবং আশপাশের গাড়িগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, গাড়িগুলোতে আগুন জ্বলছে, ধোঁয়া উঠছে এবং জানালার কাচ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে গাড়ির মূল মালিক মোহাম্মদ সালমানকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি ২০১৩ সালে গাড়িটি কিনেছিলেন এবং পরে অন্য একজনকে বিক্রি করেন। সেই ব্যক্তি আবার গাড়িটি সম্প্রতি বিক্রি করেছেন। তবে গাড়িটি এখনও সালমানের নামে নিবন্ধিত ছিল এবং হরিয়ানার নাম্বার প্লেট বহন করছিল।
দিল্লি পুলিশ এই ঘটনায় ভারতের প্রধান সন্ত্রাসবিরোধী আইন অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA) এর ১৬ ও ১৮ ধারায় মামলা করেছে। এছাড়া বিস্ফোরক আইনের অধীনেও মামলা হয়েছে। যদিও এখনো বিস্ফোরণের কারণ বা সন্দেহভাজনদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে পুলিশ এটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “যারা এই হামলার জন্য দায়ী, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”