ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পঞ্চমবারের মতো পিছিয়েছে। আদালত নতুন করে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। তবে সেই তদন্তে অসন্তোষ জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
বাদীর আবেদনের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ একাধিকবার পিছিয়েছে।
ডিবি পুলিশের দেওয়া আগের অভিযোগপত্রে সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি ও ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের নাম ছিল। তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যা ও সহযোগিতার বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, কয়েকজন আসামি ভারতে পালাতে সহায়তা করেছেন। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনাতেও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৫ এর ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনি প্রচার শেষ করেন হাদি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে বক্স কালভার্ট এলাকায় তার অটোরিকশায় হামলা হয়।
মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অপারেশনের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।