Connect with us

top2

বন্ধুর ডাকে শপিং মলে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর, আদালতে শুনানি কাল

Published

on

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী চট্টগ্রাম এলাকার এক সংসদ সদস্য মোবাইলে ফোনে ডেকে নিয়ে শপিং মলে দেখা করার কথা বলে দুবাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আজ সোমবার (১৫ জুন)সহ গত কয়েক দিন দুবাইয়ে সরকারি ছুটি থাকায় আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের একটি আদালতে বেনজীর আহমদের জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে দুবাইয়ের একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমদের স্ত্রীর বরাত দিয়ে তার একসময়ের স্টাফ অফিসার বলেন, বেনজীর আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে বসবাস করছেন। প্রতিদিনের মতো গত ১২ জুন দুবাইয়ের বাসায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এ সময় তার বন্ধু চট্টগ্রামের এক সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে কল করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করার কথা বলেন। তিনি বন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে শপিং মলে গেলে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ওই সংসদ সদস্যের লোকজন উপস্থিত ছিল বলে আমরা জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক জারি করা ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওই সংসদ সদস্য দুবাই পুলিশের কাছে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করান।

আটকের সঙ্গে সঙ্গে এ খবর পৌঁছে যায় দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত পলাতক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা এবং আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে। পরে তার পরিবার ও দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজেদের লোকজনের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন। ঘটনাটি দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।

বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ আরেকজন জানান, আটক হওয়ার পর পুলিশ প্রথমে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ কী করছেন, কত দিন ধরে অবস্থান করছেন, ভিসার বৈধতা এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তাও যাচাই করা হয়। এতে তারা নেতিবাচক কোনো তথ্য পায়নি। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ও তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) এবং বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকায় চলমান একটি মামলার এক আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আমরা দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ দিই। ওই আইনজীবীর পরামর্শে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে চলমান সব মামলার নথিপত্র ঢাকা থেকে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারের দিন ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত খোলা থাকলেও তা সীমিত পরিসরে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া শনি ও রোববার দেশটিতে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ (হিজরি ১৪৪৮) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সরকারি ছুটি পালন করে। অর্থাৎ টানা তিন দিন সরকারি ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হবে।

তাই ওই দিনই দুবাইয়ের আদালতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে হাজির করা হতে পারে। যদি দুবাই পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর জন্য বা অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়ার আবেদন করে, তাহলে তার আইনজীবী ওই আদালতে জামিন চাইবেন। আর যদি আদালতে তাকে হাজির করা না হয়, তাহলে আইনজীবী স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রসিকিউশন দপ্তরে বেনজীর আহমেদের পক্ষে আবেদন করবেন। এ লক্ষ্যে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

বেনজীর আহমদকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে জানতে ওই সংসদ সদস্যের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাকে সোমবার বিকেল ৫টার পর থেকে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তিনি রিসিভ করেননি। পরে এই বিষয়ে প্রশ্ন রেখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। বার্তাটি তিনি দেখলেও কোনো উত্তর দেননি। কয়েক ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে আবার কল দিলে এবার তিনি কল রিসিভ করেন। কিন্তু তার নাম ও সংসদীয় আসন ধরে বেনজীরকে গ্রেপ্তার করানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।

এদিকে দুবাই থেকে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত আনার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপি। তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পুলিশ ইন্টারপোলে যে আবেদন করেছে, তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড নোটিশটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ দুবাই পুলিশকে দিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করানোটা দুবাই আদালত সহজভাবে দেখবেন না বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার করানোর পেছনে ব্যবসায়িক ও আর্থিক বিরোধ রয়েছে বলে শুনেছি। পরে দুবাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরকে অবগত করে। এখন যদি বাংলাদেশ সরকার তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার প্রেক্ষাপটও দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর বিবেচনায় নেবে। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। কিন্তু মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তরে উপস্থাপন করতে না পারে, তাহলে অভিযোগ অনেকাংশে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বর্তমান ধর্মমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযুক্ত আসামি ছিলেন। তাকে আওয়ামী লীগ সরকার অনেক চেষ্টা করেও দুবাই সরকারের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনতে পারেনি। কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে সরকারের করা মামলার আসামি ছিলেন।

তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে বলেন, এর আগে দুবাই পুলিশ আরাভ খানকে আটক করেছিল। যিনি পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) হত্যা মামলার আসামি এবং তাকেও ইন্টারপোলে জমা দেওয়া রেড অ্যালার্টের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশের আদালতে আরাভ খান দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। কিন্তু তিনি ভারতের পাসপোর্টধারী হওয়ায় তাকে এখনো বাংলাদেশে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। বেনজীর আহমেদও বাংলাদেশ থেকে দুবাই যাওয়ার সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশে চলাচল করছেন। আবার কেউ বলছে তার কাছে কোনো পাসপোর্টই নেই। ফলে পরিচয়-সংকটে তাকে বাংলাদেশে আনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হন এবং তার বিরুদ্ধে যেহেতু ইন্টারপোলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাই বাংলাদেশের পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু এখানে প্রশ্ন থেকে যায়, ইন্টারপোলের নিয়মিত পদ্ধতিতে গ্রেপ্তার হয়েছে নাকি গ্রেপ্তারে অন্য কোনো ইস্যু আছে কি না এবং এক মাসের মধ্যে যথাযথভাবে কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে বলে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তিনি।

বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

ভারতে স্টারলিংক বন্ধ, উগ্রপন্থীদের ব্যবহারের দাবি ‘ভিত্তিহীন’: মাস্ক

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের আকাশসীমায় স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে দেশটির ভূখণ্ডে কোনো ব্যক্তি বা সশস্ত্র-উগ্রপন্থী গোষ্ঠী স্টারলিংক ব্যবহার করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম বর্তমানে বন্ধ। তাই ভারতে কোনো ব্যক্তি কোনো উদ্দেশ্যে এ সেবা ব্যবহার করেছে—এমন দাবি সত্য নয়।

এর আগে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনী একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছ থেকে স্টারলিংকের একটি স্যাটেলাইট টার্মিনাল উদ্ধার করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের জবাবে মাস্ক বিষয়টি পরিষ্কার করেন।

প্রযুক্তিগতভাবে কোনো অঞ্চলে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ফুটপ্রিন্ট বা বিম সক্রিয় না থাকলে সেখানে স্যাটেলাইটটির কোনো কার্যকর সংযোগ পাওয়া সম্ভব নয়।

তবে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক সেবা চালুর ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নিজেদের বাজারের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংককে আটকে দিচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে ফোর-জি নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। প্রত্যন্ত অঞ্চল, দ্বীপ ও পাহাড়ি এলাকায় ফাইবার অপটিক বা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন ভৌগোলিকভাবে জটিল হওয়ায় স্টারলিংকের মতো লো-আর্থ অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

এদিকে ৭ অক্টোবর ‘ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬’-এ বক্তব্য দেন স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিজনেস অপারেশনস) লরেন ড্রেয়ার। তিনি জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনি কাঠামো মেনে স্টারলিংক নিজস্ব আর্কিটেকচার তৈরি করেছে।

ড্রেয়ার বলেন, ভারতের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি স্তরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই সংরক্ষণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে সাইটে শত শত অ্যান্টেনা নিয়ে স্থলভিত্তিক অবকাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে—এমন খবরও নাকচ করেন ড্রেয়ার। তিনি জানান, দেশব্যাপী সংযোগ নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের সঙ্গে স্পেকট্রাম বরাদ্দ ও বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Continue Reading

top2

রাবিতে সাংবাদিকদের উপর হামলায় ইবি সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদল কর্তৃক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে এই প্রতিবাদ জানান তারা। ক্যাম্পাসের কর্তব্যরত তিন সাংবাদিক সংগঠন—ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি, প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি— যৌথভাবে এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এসময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. সাকিব আসলাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবির হোসেন ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম সহ তিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁদের চোখে কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে প্লে-কার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। এসময় ‘ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া যায়, সত্য নয়; কালো হাত ভেঙে দাও, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা দাও; সাংবাদিকদের সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করুন, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা স্বীকার করুন; সাংবাদিকদের উপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করুন; Press freedom is our right, we will fight; প্রক্টর স্যার অসহায়, পুলিশ লেজ গুটিয়ে পালায়, সন্ত্রাসীরা দেশি অস্ত্র চালায়’ ইত্যাদি প্রতিবাদী লেখা সম্বলিত প্লে-কার্ড দেখা যায়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ জানান, বাক স্বাধীনতার উপর সরাসরি আঘাত করায় আমরা কোনো বক্তব্য দেয়নি। মুখে কালো ব্যাজ ধারণ করে মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা এবং সকল ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Continue Reading

top2

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ পুলিশের

Published

on

By

ডিজিটাল রিপোর্ট

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চাঁদাবাজির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, হামলাটি সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। নিউ গিনি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের কাছে চাঁদা চাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো যোগসূত্রও পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি প্রপার্টিজের মালিক পক্ষের ব্যক্তিগত বিরোধ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। স্টুডিওটি ওই প্রপার্টিজের ভেতরে থাকায় ভাঙচুরের সময় সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্টুডিওর ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।

ভিডিওতে স্টুডিওর চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকজন কর্মীকেও সেখানে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে সালমান জানান, হামলায় তার স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির অভিযোগ করেছিলেন, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা চালানো হয়েছে। স্টুডিওর সিসি ক্যামেরা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও আসবাব ভাঙচুরের পাশাপাশি কিছু মালামাল লুটের অভিযোগও ওঠে।

তবে পুলিশের বক্তব্য, হামলার মূল কারণ ছিল নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের বিরোধ। চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Continue Reading

Trending