রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নবীন বরণ–২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ১২৫ নম্বর গ্যালারি রুমে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাখা সংগঠনের উপদেষ্টা ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ তোহা, অধ্যাপক, আরবি বিভাগ এবং ড. শফিকুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক, ক্লিনিকাল সাইকোলজি বিভাগ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমরান লষ্কর।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগঠনটির সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেহেদী সজীব। এছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক ইত্তেফাকের সহ-সম্পাদক শাকিরুল আলম শাকিল।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম রাবি শাখার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাখার সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বিজয়।
সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত বিজয় বলেন, “নবীন বরণ : কাগজে-কলমে তারুণ্যের লেখালেখি” আয়োজনের মাধ্যমে একঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণকে তাদের অন্তর্নিহিত লেখকসত্তা জাগ্রত করতে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। আমি আশাবাদী, তাদের শাণিত কলম সমাজের সকল অন্যায়, বৈষম্য ও অসত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা হয়ে উঠবে।”
তিনি আরও বলেন, সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একদল দক্ষ ও সৃষ্টিশীল লেখক গড়ে তুলতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে, যার ফলস্বরূপ আজকের এই বৃহৎ আয়োজন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখকদের বুদ্ধিভিত্তিক এই প্ল্যাটফর্মের সাফল্য ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইত্তেফাকের সহ-সম্পাদক শাকিরুল আলম শাকিল বলেন, লেখালেখি ধৈর্য ও সাধনার বিষয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তরুণ যারা নিয়মিত পত্রিকায় লিখছেন, লেখার মানোন্নয়নের জন্য তাদের আরও বেশি পড়তে ও জানতে হবে।
তিনি বলেন, “পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হওয়াই লেখালেখির চূড়ান্ত সার্থকতা নয়; বরং সেই লেখা সমাজ ও রাষ্ট্রে কতটুকু ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
‘সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে সংগঠনটির অন্যতম শাখা হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে দেশের ২৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের লেখালেখিতে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
আহতদের পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত সাংবাদিকরা হলেন: আমার দেশের লিমন ইসলাম, ডেইলি স্টারের রাকিবুল ইসলাম, দেশ রূপান্তরের ফাতেমা আলী, আজকের পত্রিকার সোহান ফরাজী, দিনকালের শিহাব, বার্তা২৪-এর সোহানুর রহমান সুবেল, কালবেলার তৌসিন, নাইম, রাকিব ও মাজহার। এ ছাড়া আহত হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও নাজমুস সাকিব। আহত শিক্ষার্থীদের নাম ও বিভাগ জানা যায়নি।
জানা গেছে, আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ধূপখোলায় আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অংশ নেয়। খেলার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকার চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষক ও সাংবাদিকরাও আহত হন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নবমবারের মতো শিক্ষার্থীদের নোবেল খ্যাত হাল্ট প্রাইজের গ্রান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারের আসরের ক্যাম্পাস রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টিম ‘SIPSAFE’।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।
জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত এই প্রতিযোগিতাকে বিশ্বজুড়ে ‘শিক্ষার্থীদের নোবেল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক সামাজিক সমস্যার উদ্ভাবনী ও টেকসই ব্যবসায়িক সমাধান উপস্থাপনের সুযোগ পায়।
এবারের গ্র্যান্ড ফাইনালে বিভিন্ন দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার পর রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে টিম ‘বুনন বাজার’। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে টিম ‘The Conquerors’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর সাধারণ সম্পাদক ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, হাল্ট প্রাইজের মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে সহায়ক হবে।
এবারের আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা প্রদান করেছে ভিআরসি স্টাডি অ্যাব্রড (VRC Study Abroad), খান তেহেরি ঘর, রিমার্ক (REMARK), গ্লোবাল হাইটস ও ভলভোলাইন।
দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা শেষ হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ফলাফল এখনও দেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোর্সের এক শিক্ষকের গাফিলতির কারণে ফলাফল আটকে আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সেশনজটে বন্দী শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অধিকাংশই এখন ক্যাম্পাসে নেই। ইতোমধ্যে তারা পরীক্ষা শেষ করে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু আল ফিকহ বিভাগে অজানা কারণে এখনও ফলাফল আটকে আছে। কোন উদ্দেশ্যে বা কেন এমনটা করা হচ্ছে জানি না। যত দ্রুত মুক্তি পাওয়া যাবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল।
বিভাগীয় সূত্রমতে, ‘এলএল এম (কোর্সের নম্বর ৫২০১) পরীক্ষা হয় গত ২ ডিসেম্বর। সেদিনই ইন্টারনাল হিসেবে উত্তরপত্র জমা নেন আল ফিকহ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব। কিন্তু ২ মাস হয়ে গেলেও তিনি ওই উত্তরপত্র জমা দেননি। যার ফলে দ্বিতীয় পরীক্ষক ওই উত্তরপত্র দেখতে পারেননি। এছাড়া প্রথম পরীক্ষক হিসেবে আনোয়ারুল ওহাব ৫২০৩ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র দেখার কথা কিন্তু তিনি নেননি। পরে দ্বিতীয় পরীক্ষক ওই উত্তরপত্র দেখেন এবং প্রায় ২ সপ্তাহ পূর্বে জমা দেন। এদিকে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি বলার পর মঙ্গলবার ২য় উত্তরপত্র গ্রহণ করেছেন আনোয়ারুল ওহাব কিন্তু এখনও দেখে দেননি।
জানা যায়, ওই বিভাগ পূর্ব থেকেই চরম সেশনজটে থাকলেও সম্প্রতি জট কাটিয়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা শেষ হওয়ার এতদিন হলেও তাদের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। এর পিছনে সহযোগী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ওহাবের অসহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ফলে পরীক্ষা কমিটি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিগত সময়েও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে খাতা আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা বিভাগটির সিনিয়র অধ্যাপক ড. আবুবকর মো. জাকারিয়া মজুমদারের কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। সংশ্লিষ্ট কোর্সের এক শিক্ষক এখনও খাতা জমা দেয়নি৷ খাতা জমা দিলেই দ্রুত ফলাফল দেওয়া সম্ভব।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহযোগী অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল ওহাব বলেন, ‘আমি পারিবারিক একটা সমস্যার কারণে ১ মাস ছুটিতে ছিলাম। মৌখিকভাবেই ছুটি নিয়েছি। বিভাগে এসেও খাতা নিতে পারিনি। এক কর্মচারীকে বললাম, তাও অন্য বর্ষের খাতা দিয়ে গেল। মিস্টেক হওয়ায় খাতা মূল্যায়ন শেষ করা সম্ভব হয়নি৷ কর্মচারী ছোটখাটো মিস্টেক করলে তো কিছু বলা যায় না। বিভাগ থেকে খাতা আজকে বা কাল পেলে কয়েকদিনের মধ্যে জমা দিতে পারবো। খাতা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যদি জমা হয় এ মাসের মধ্যে ফলাফল দেওয়া সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, ‘শিক্ষার্থীরা ২ বছর পরীক্ষা দিতে পারেনি, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না। এদিকে ছুটিতে থাকায় কিছুটা খাতা মূল্যায়নে দেরি হচ্ছে, তাতেই অভিযোগ।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ফলাফলের জন্য বারবার কল দিয়ে জানতে চাচ্ছে। সকল উত্তরপত্র পেলে দ্রুতই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।