Connect with us

top1

বিদ্যুতে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, দেউলিয়া পরিস্থিতি বলছেন নতুন মন্ত্রী

Published

on

দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে বিপুল অংকের দেনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের নতুন সরকার বিদ্যুৎ খাতে একটা বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি পড়তে যাচ্ছে। রমজানের পরপরই সেচ ও গ্রীস্ম মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও সমাধান করতে বেগ পেতে হবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনই বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এ বছর বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আঠারো হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সরকারের নবনিযুক্ত বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলছেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যাস কয়লা ও তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালিয়ে চাহিদা পূরণ করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, অর্থ সংস্থান করে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ করতে হবে।

পরিকল্পনা আছে তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতে টোট্যালি ফিনান্সিয়ালি ব্যাংকরাপ্ট করে দিছে আরকি। অনেক বকেয়া, অনেক দেনা পাওনা। জ্বালানি নাই জ্বালানি ইমপোর্ট করতে হবে। মোট কথা হলো ভেরি কমপ্লিকেটেড। কাজ করে এগুলি সমাধান করতে হবে, বলেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি তাতে সংকট কাটাতে সরকারের সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ জ্বালানি আমদানি সরাসরি ডলারের মজুদে প্রভাব ফেলবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিশ্লেষণ হলো, নরমালি আমরা যেটা দেখি গরম যখন পড়বে তখন দেখা যাবে যে প্রচুর লোডশেডিং হবে।

বাংলাদেশে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি ১৩৬টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং আমদানি সক্ষমতা মিলিয়ে মোট স্থাপিত উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। সারাদেশে বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে ৪ কোটি ৯৪ লক্ষ। দেশে একদিনে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৩ জুলাই ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট।

বিপুল পরিমাণ দেনা

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে দেশি বিদেশি কোম্পানির কাছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বেসরকারি কোম্পানিগুলোর হিসেবে ১৪ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে তাদের। বেসরাকারি কোম্পানিগুলো গত সাত-আট মাস ধরে বিদ্যুতের বিল পায়নি।

এত বকেয়া কীভাবে জমলো এ প্রশ্নে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করীম বিবিসি বাংলাকে বলেন, শুরুর পর থেকে ধারাবাহিকভাবে এটা বেড়েছে।

তিনি বলেছেন, এটা ফ্রম দা বিগিনিং কিউমিলিটিভ হারে হতে হতে এ অবস্থায় এসেছে। আমরা যেটা পাচ্ছি সরকারের থেকে সাবসিডি সেটা মাইনাস হচ্ছে এভাবে হতে হতে এ পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে আরো কিছু মাইনাস হবে আমরা সরকার থেকে আরো কিছু টাকা পাবো সাবসিডি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে পিডিবির বকেয়া এক পর্যায়ে তিন মাসে নেমে এসেছিল। তবে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে আর কোনো বিল পরিশোধ করেনি বলেও জানায় বেসরকারি উদ্যোক্তারা।

তারা বলছেন, এ পরিস্থিতি নতুন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃত এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে কিনা সে সন্দেহের কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।

তবে সাবেক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছেন, টাকার বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের উপর নির্ভর করে, এখানে ইচ্ছাকৃত বকেয়া রাখার কোনো ইস্যু নেই। সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, সরকারের শেষ পর্যায়ে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড় করার একটা ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন,অর্থ পরিশোধ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আর্থিক সক্ষমতা উপর নির্ভর করে। রেভিনিউ সংকটের কারণেই তারা বিল পরিশোধ করতে পারেনি। কোনো ইনটেনশনাল কিছু নেই। এটা টাকার অ্যাভেলএবিলিটির উপর নির্ভর করে। বিপিডিবি যখন টাকা পায় তখন দেয়। ওদের সোর্স হচ্ছে রেভিনিউ এবং অর্থবিভাগ থেকে ভর্তুকী।

বাংলাদেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মোট উৎপাদন সক্ষমতার ২৩ শতাংশের মত। এর মধ্যে ফার্নেস অয়েলে চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা ৫৬৩৭ মেগাওয়াট বা ২০ শতাংশের মতো। এর মধ্যে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতাই প্রায় চার হাজার মেগাওয়াট।

লোডশেডিং
গ্রীষ্মের গরমে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা

সরকার শিগগিরই বকেয়া পরিশোধ শুরু না করলে গরমে চাহিদামত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করেছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিপপা। তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বলছে, বিলের বকেয়া কমিয়ে চার পাঁচ মাসে না আনলে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য তেল আমদানি কঠিন হয়ে পড়বে।

এসব কোম্পানি নিজেরাই অধিকাংশ তেল আমদানি করে। এলসি খোলার পর ৪০-৪৫ দিন লেগে যায় আমদানি করা তেল দেশে আসতে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গরমে লোডশেডিং বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা জানিয়েছে বেসরকারি উৎপাদনকারীরা।

বিপপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলসি খুলতে সমস্যার কারণে এরই মধ্যে তেলের নিট মজুদ কমেছে। গত জানুয়ারিতে যে মজুদ এক লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি ছিল, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসে নিট মজুদ আশি হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে পিডিবি বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সময়মতো বিদ্যুৎ দিতে না পারায় চুক্তি অনুযায়ী এলডি বা লিকুইডিটি ড্যামেজ ধার্য করেছে। তবে এটি নিয়েও আপত্তি তুলেছে বেসরকরি উৎপাদনকারীরা।

অমিমাংসিত এলডি ইস্যুর দিকে ইঙ্গিত করে পিডিবির চেয়ারম্যান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কিছু ইস্যু আছে সেগুলি কী হয় দেখি তারপরে এটা ফাইনালি কমেন্ট করা যাবে।

জ্বালানি সংকট

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান করে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে মোট সক্ষমতার ৮৮ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস কয়লা এবং তেলের ব্যবহার হয়। এই জ্বালানির বড় অংশই আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি আমদানি করে চাহিদা পূরণ করতে হয়। এছাড়া তেল ও কয়লা প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, এখন থেকে এক মাস পরে মূল চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। আমরা যদি মনে করি তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহার করবো, এলএনজি ইমপোর্ট করবো এবং কয়লা আমদানি করবো, কিন্তু প্রশ্ন হলো এটার জন্য যতটুক খরচা হবে, যতটা ডলার লাগবে সেটা কি দেয়া হবে কিনা।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাস্ম জ্বালানির ব্যবহার বেশি।

ইজাজ হোসেন বলেন, আমাদের যা লাগবে সব ইমপোর্ট করবো নাকি ডলার সেইভ করার চেষ্টা করবো এটা সরকারের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এখন সরকার কীভাবে খেলবে তার ওপর নির্ভর করবে।

আমি একটা হিসেব করেছি ১৩ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার লাগে যদি আমরা সব এনার্জি আমদানি করি। আমাদের তো আরো বেশি লাগবে। ক্যাপাসিটি পেমেন্টসহ সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ২৫ বিলিয়ন ডলারের মত লাগে। কিন্তু আমাদের এত টাকা নাই, তিনি বলছিলেন।

ইজাজ হোসেন বলছেন, অর্থ সংস্থানের জন্য বিদেশি দাতা সহায়তাও লাগবে, আবার সরাসরি বিনিয়োগেরও প্রয়োজন হবে।

সমাধান কীভাবে

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, তাদের হিসেবে বিদ্যুতের ভর্তুকি প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ। তিনি বলেন, আমরা হিসেব করে দেখেছি যে গত বছরে কয়লার যে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বাৎসরিক ৫৫% লোড ফ্যাক্টরে চলেছে কিন্তু এগুলো চলা উচিৎ ৮৫ শতাংশ হারে। তার মানে আরো এতখানি বেশি বিদ্যুৎ আমরা উৎপাদন করতে পারতাম কয়লা দিয়ে। বাট কয়লা ইমপোর্ট করতে হবে। এই চ্যালেঞ্জগুলা হচ্ছে প্রধান।

ইজাজ হোসেন মনে করেন, তেল ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনের ব্যাপারে ভর্তুকির নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে দিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আমি মনে করি এটার ব্যাপারেও একটা রেস্ট্রিকশন দেবে ফাইন্যান্স মিনিস্টার। এই রেস্ট্রিকশন কিন্তু আওয়ামী লীগ আমল থেকে আরম্ভ হয়েছে। তখন তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালাতো আবার ফাইন্যান্স মিনিস্ট্রি পিডিবিকে বলে দিতে তোমরা এত বেশি তেলে খরচা করতে পারবে না। আমার ধারণা এটা এবারও আসবে। তা না হলে তো ভর্তুকি সাংঘাতিক হয়ে যাবে। অলরেডি আমাদের প্রতি কিলোওয়াট আওয়ারে সাড়ে চার টাকা করে আমরা সাবসিডি পাচ্ছি, বলছিলেন ইজাজ হোসেন।

ইজাজ হোসেন বলছেন, নতুন সরকারকে বুঝে শুনে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

‘গত বছরও আমরা দেখেছি যে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি ছিল। এখানেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্তর্বর্তী সরকার যেটা করেছে যে তারা ফুল ইমপোর্ট করেনি। তারা ইন্ডাস্ট্রির এনার্জি ডিমান্ডের কোনো তোয়াক্কাই করে নাই।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভর্তুকির চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বহুমাত্রিক কৌশল নিতে হবে। যার মধ্যে বিদ্যুতের দাম সমন্বয়, তেল ভিত্তিক কেন্দ্র কমিয়ে আনা, লোডশেডিং সমন্বয় করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতে দায় দেনা পরিশোধ এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলছেন আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করবে সরকার।

মি. মাহমুদ বলছেন, এখন প্রায়োরিটি রোজার মধ্যে বিদ্যুৎ চালানো, সেচের সময় বিদ্যুৎ চালানো মানুষের কষ্ট যাতে কম হয় সেটার জন্য চেষ্টা করবো আরকি। কয়লা আনতে হবে। এলপিজি, এলএনজি আনতে হবে। এদিকে পাহাড় পরিমাণে বাকি করে গেছে, বকেয়া করে গেছে এই সব মিলিয়ে ফিন্যান্সিয়াল একটা চ্যালেঞ্জ আছে বড়।

গরমে চাহিদা পূরণ ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন।

“তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ইমার্জেন্সি হলে চালাবো। যেগুলো বকেয়া আছে তাদেরকে কিছুটা দিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো চালু রাখা তারপরে বসে লংটার্ম চিন্তা ভাবনা করা। সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের মতো হতে পারে। এটার ব্যবস্থা আছে, গ্যাসের শর্ট আছে ওইটা পূরণ করার ব্যবস্থা করতেছি।”

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম পুরো পরিস্থিতির জন্য বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন।

“দুর্নীতি উচ্ছেদ করেন ভালভাবে চলবে। সৎভাবে যে সমস্ত আইপিপি তৈরি হয়েছে এবং যারা বিদ্যুৎ দিচ্ছে তারা যথাসময়ে যথাযথভাবে বিল পাবে। যারা অসৎভাবে তৈরি করেছে তারাই সংকট তৈরি করেছে তাদের কারণেই এই বকেয়া তাদেরকেই খেসারত দিতে বাধ্য করতে হবে।”

মি. আলম মনে করেন এই তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়েই সমস্যা।

“প্রথমত হচ্ছে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর দরকার নেই। কয়লার ক্যাপাসিটি আছে সাত হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সেটার প্ল্যান্ট ইউজ ফ্যাক্টর হচ্ছে মাত্র ৪৫%। কয়দিন আগে সেমিনারে উঠে এসেছে যে তরল জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করে দিলে আমাদের সাশ্রয় হয় ২৮-৩০ হাজার কোটি টাকা। আমরা তা দিয়ে কয়লা আনলে অনায়াসে আমাদের চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি।”

শামসুল আলম মন করেন, ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য এই বকেয়া ক্রাইসিস, আজকে এই মূল্য বৃদ্ধি, লুন্ঠণমূলক্য ব্যয়বৃদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

তবে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরো বন্ধ করে চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে কিনা এ প্রশ্নে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, আপাতত এটা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, নো, ইটস অ্যাবসুলুটলি ইমপসেবল। কয়লা সম্পূর্ণ আমদানি করলেও তেল কিছুটা লাগবে। কারণ ডিমান্ড যখন বেড়ে যায়, পিক টাইমে তখন তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ লাগবে। আমাদের লোডশেডিংয়ের ব্যাপার শুধু না। আমাদেরতো ইন্ডাস্ট্রিতেও গ্যাস দিতে হবে। সেটা যদি করতে হয় তাহলে তো পাওয়ারে গ্যাস কম দিতে হবে। তাহলে সেটা ম্যানেজ করতে হলে কয়লা লাগবে। তেল লাগবে।

এ ব্যাপারে নতুন সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, অতীতের নানা অনিয়ম সামলে কীভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে, সেজন্য সরকার তার ভাষায় ‘ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট’ অর্থাৎ সংকট সামলানোর পথ খুঁজে দেখছে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

Published

on

By

লেবাননে হামলার জবাবে এবার ইসরায়েলে দফায় দফায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইসরায়েলের ওপর একাধিক এই হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি আরও জানায়, ইসরায়েলের মিসগাভ আম বসতি, কাফার গিলাদি অঞ্চলে ইসরায়েলি সৈন্যদের ঘাঁটি এবং জারিট ব্যারাক লক্ষ্য করে দফায় দফায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।

হিজবুল্লাহর ক্রমাগত রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এসব অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে হিজবুল্লাহ দাবি করে, তারা মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের দুটি শহরে রকেট ব্যারেজ ছুড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে বারবার হামলা চালানোর জবাবে এই হামলা চালানো হয়।

হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১টা ২০ মিনিটে কিরিয়াত শমোনা শহর এবং রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ডোভিভ বসতিতে রকেট হামলা চালানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অবস্থান, বসতি, সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৪৩টি হামলা চালিয়েছে।

Continue Reading

top1

গণভোটের রায় না মানলে দেশ সংকটে পড়বে: শিশির মনির

Published

on

By

জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে এক জাতীয় সেমিনারে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শিশির মনির বলেন, সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছি। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন একটা উদাহরণ নেই, যেখানে মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছে আর সরকার তা মানেনি।

গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীতি বলেন, আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে। যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া।

শিশির মনির আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তন করেছিলাম। সেটাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ বলা হলো। ফলে ১৭ বছর দেশে আগুন জ্বলল। এখন আবার কোর্ট বলছেন, সেটা সাংবিধানিক। রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যখন কোর্টে খোঁজা হয়, তখন সংকট আরও বাড়ে।

Continue Reading

top1

‘আপনি ভাই দেশের ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন’: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে বুলবুল

Published

on

By

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদ খুইয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার বোর্ডকে অপসারণ করে সেখানে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। তবে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে যেভাবে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়াকে স্রেফ ‘ষড়যন্ত্র’ বলে মনে করছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বুলবুল।

দেশের একটি জাতীয় দৈনিকের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে তিনি নিজেকে এখনও ক্রিকেট বোর্ডের বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন। বলেছেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে আমিই এখনো বিসিবি সভাপতি। যারা বোর্ড ভেঙেছে, তারা তা করতে পারে না, এখতিয়ারে নেই।’

বোর্ড ভেঙে দেয়ার দিনের ঘটনাক্রম উল্লেখ করে সাবেক বিসিবি সভাপতি যোগ করেন, ‘আমি আর খালেদ মাসুদ পাইলট মাঠ দেখতে পূর্বাচলে গিয়েছিলাম। বিসিবিতে ফিরে শুনলাম বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। তখন হঠাৎ করে মনে হলো, আমাদের অফিসটা একটা রাজনৈতিক অফিস হয়ে গেছে। শত শত লোক আসা-যাওয়া শুরু করল। একপর্যায়ে পাইলট আমাকে অনুরোধ করে বলল, ভাই, চলেন চলে যাই। তখন ফাহিম ভাই, আমি আর পাইলট বোর্ডে ছিলাম। আমরা চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

‘আমাদের মানসম্মান আছে। মানসম্মান নিয়ে জিনিসপত্র ফেলেই চলে এসেছি। কিন্তু আমি দাবি করি ও বিশ্বাস করি, এখনো আমরা বৈধ ক্রিকেট বোর্ড এবং আমি বৈধ সভাপতি’-যোগ করেন বুলবুল।

বোর্ড ভেঙে দেয়ার প্রক্রিয়াকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা কোনও প্রক্রিয়া না, এটা একটা ষড়যন্ত্র। কেন বললাম? এনএসসির কোনো এখতিয়ার নেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার।তাদের যেটুকু এখতিয়ার আছে, ডেকে জিজ্ঞেস করা। যদি কোনো অনৈতিক কাজ করি, ক্রিকেট ঠিকমতো চালাতে না পারি, আমাদের বোর্ড যদি ব্যর্থ প্রমাণিত হয়— সে ক্ষেত্রে তারা আমাদেরকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে পারত; সুপারিশ করতে পারত।’

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুক হকের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। তবে এই তদন্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বুলবুল বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকেও আমি অবৈধ ভাবি। কিসের তদন্ত করা হয়েছে? তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কী লেখা আছে, আমরা জানিও না এবং সেটা দেখিওনি। এই কমিটি কিসের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে?’

Continue Reading

Trending