Connect with us

top1

ভোটের পর ঐকমত্যের সরকার চায় জামায়াত

Published

on

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভালো ফলাফল অর্জনের পথে রয়েছে একসময় নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারা একটি জাতীয় ঐক্য সরকারে যোগ দিতে আগ্রহী এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে বুধবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন দলটির প্রধান ডা. শফিকুর রহমান।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে নির্বাচন শেষ করতে পারে। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই মুসলিম প্রধান দেশটিতে তারা মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশীদার হিসেবে ক্ষমতায় ছিল জামায়াতে ইসলামী।

ঢাকার একটি আবাসিক এলাকায় নিজের কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র দেখতে চাই। যদি দলগুলো একমত হয়, তবে আমরা একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করব।”

কয়েকদিন আগেই তরুণদের দলের (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জামায়াত শরিয়া আইনের অধীনে ইসলামী শাসনের কথা বললেও বর্তমানে তারা রক্ষণশীল বলয়ের বাইরে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এ সম্পর্কে জামায়াতের আমির বলেন, যেকোনো ঐক্য সরকারের জন্য দুর্নীতি দমন একটি অভিন্ন এজেন্ডা হওয়া উচিত।

তিনি আরও জানান, যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, প্রধানমন্ত্রী সেই দল থেকেই হবেন। যদি জামায়াত এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তিনি নিজে পদপ্রার্থী হবেন কি না, তা দল সিদ্ধান্ত নেবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াতের এই পুনরুত্থান ঘটেছে। হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে নির্বাচনে নিষিদ্ধ। শেখ হাসিনা জামায়াতের কট্টর সমালোচক ছিলেন এবং তার শাসনামলে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দলটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, জামায়াত ওই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।

বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১৩ সালে আদালতের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির ওপর থেকে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়।

শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ভারতে অবস্থান করা একটি উদ্বেগের বিষয়। কারণ তার পতনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তি ভারত হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে কাজ করেছিল।

নয়াদিল্লি যখন পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারে–এমন দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে, তখন শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি একজন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে তার সাথে দেখা করলেও, ভারতীয় কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে জানান এই নেতা।

তিনি বলেন, “আমাদের সবার জন্য এবং একে অপরের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই।”

তার এই বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারত সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে জানতে চাইলে রহমান বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে আগ্রহী নই। বরং সবাইকে সম্মান করি এবং জাতিগুলোর মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক চাই।”

তিনি আরও বলেন, জামায়াত অন্তর্ভুক্ত থাকবে এমন যেকোনো সরকার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে “স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে না”। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের সমর্থনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। এর আগে সাহাবুদ্দিন চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তিনি মেয়াদের মাঝপথেই পদত্যাগ করতে ইচ্ছুক।

বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন জামায়াত আমিরের এসব কথার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, তিনি ‘‘বিষয়টিকে আরও জটিল করতে চান না”।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

হাদি হত্যার দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

Published

on

By

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগরের বিশেষ আদালত।

রোববার দুপুরে দেড়টার দিকে আদালত এ নির্দেশ দেয়। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে দুজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর শুরু হয় শুনানি। শুনানি শেষে আদালত দুজনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করারও আদেশ দেয়।

গত ৭ মার্চ দিনগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তাদের ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত।

এদিকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এ দুই আসামিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করায় গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তাকে সাত দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপকে আদালতে তোলা হয়।

Continue Reading

top1

আমি এই কাজ করিনি: হাদি হত্যার আসামি ফয়সাল

Published

on

By

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ জানিয়েছেন, তিনি এ কাজ করেননি এবং এ কাজের সঙ্গে তিনি ছিলেননা।

রোববার (২২ মার্চ) ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তিনি এ কথা জানান।

হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল পরিস্কার জানিয়ে বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’

এর আগে তাকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবশ্য কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।

গত ৮ মার্চ রাতে হাদি হত্যার অভিযুক্ত দুজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালী এলাকায় এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

অভিযুক্তরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন ছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিল বলে এসটিএফ জানায়।

এসটিএফ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার ফয়সাল এবং আলমগীর দুজনেই হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা দুজনেই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিল।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তাদের বিধান নগর মহকুমা আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারে নামেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে জুমার নামাজের পর প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন ওসমান হাদি। পথিমধ্যে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি।

প্রথম ধাপে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেওয়া হয়। এরপর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা শেষে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান হাদি।

পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ওসমান হাদির মরদেহ। এর পরদিন শনিবার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় মসজিদের পার্শ্বস্থ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

Continue Reading

top1

২৪ ঘণ্টায় দুর্ঘটনায় নিহত ৩২, আহত শতাধিক

Published

on

By

ঈদের দিন সকাল ৮টা থেকে ঈদের পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত ১৪ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কুমিল্লায় ১২, হবিগঞ্জে ৪, ফেনীতে ৩, ময়মনসিংহে ২, নাটোরে ২, চট্টগ্রামের পটিয়া ও মিরসরাইয়ে ২ এবং ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুরে ১ জন করে নিহত হয়েছেন। আমার দেশের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কুমিল্লা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পাদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা। তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরত ডা. অমিত ভৌমিকও ১২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলগেট পার হওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় রেলগেট নামানো ছিল না বলে জানায় তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় বাসটি ট্রেনের মুখে পড়ে। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে টেনে জাঙ্গালিয়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।

ফেনী: ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজনের নিহত হয়েছে। রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার রামপুর লাতুমিয়া সড়কের থামায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিপাল হাইওয়ে থানার পুলিশের ওসি আসাদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের ওই এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি লেনের কাজ চলছে। ভোরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে ওই স্থান পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

এ নিয়ে বাস ও অ্যাম্বুলেন্সচালকের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছন দিক থেকে আসা মোটরসাইকেল ও আরো কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস এসে জটলার মধ্যে ধাক্কা দিলে বাস-অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেলের একজন আরোহী, বাসের একজন সুপারভাইজার, ও একজন যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হয় আরো অনেকেই। নিহতদের লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে। এখন পর্যন্ত কারো নাম-পরিচয় জানা যায়নি। গুরুতর আহতদের মধ্যে দু-তিনজনকে চট্টগ্রাে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের দুই উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্রসহ দুজন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে তিনজন। শনিবার বিকেলে ঝিনাইদহ নগরবাথান বাজার ও মহেশপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাগআঁচড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে আব্দুল গফুর ও মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে রনি হোসেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে ঈদের নামাজ পড়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয় স্কুলছাত্র আব্দুল গফুর। দুপুরের দিকে নসিমন গাড়িতে করে সাউন্ডবস্ক্র বাজিয়ে নাচতে নাচতে ঝিনাইদহের জোহান পার্কে যাচ্ছিল। পথে নগরবাথান বাজারে পৌঁছালে নসিমন গাড়ি থেকে আব্দুল গফুর ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে যায়। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুমূর্ষু অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, মহেশপুরে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয় রনি। পথে কেশবপুর গ্রামে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রনিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আরাপপুর হাইওয়ে থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস।

নাটোর: নাটোরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার বিকেল ও রাতে জেলার হরিশপুর ও শহরের একডালা এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নাটোরের হরিশপুর এলাকায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। নিহত ব্যক্তি ট্রাক চালকের সহকারী ছিলেন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর এলাকায়। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে, নাটোর শহরের একডালা নতুন পাম্পের সামনে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আরও একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন দুইজন। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের তারাকান্দায় শনিবার সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন দুজন। নিহতরা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামের মো. আব্দুল আলীর ছেলে মো. রুবেল মিয়া (২০) ও ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বাউন্ডারি রোড এলাকার মো. গোলাম মাওলার মেয়ে রীতি আক্তার (৮)। নিহত দুজনই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পটিয়ায় যাত্রীবাহী বাস সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৮ যাত্রী। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বাইপাস মহাসড়কের পটিয়া ভাটিখাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে মিরসরাইয়ে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক নিহত হয়েছেন। নিহত এনামুল হক (আইয়ুব) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাঘ গ্রাম এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে।

নড়াইল: নড়াইল সদর উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত তরুণের নাম রাব্বী মোল্যা (২০)। তিনি নড়াইল পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার পান্নু মোল্যার ছেলে।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আব্দুল গফুর নামের সপ্তম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আব্দুল গফুর হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের বাগআঁচড়া গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে।

মাদারীপুর: শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. শাহাদাত খলিফা (১৫) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শাহাদাত শিবচর উপজেলার দ্বিতীয়াখণ্ড নিয়ামতকান্দি গ্রামের হিরু খলিফার ছেলে। সে ওই এলাকার দ্বিতীয়াখণ্ড নূর ই আলম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

ফরিদপুর: ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বানায় ঈদের দিন মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়ে জিহাদ শেখ (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। নিহত জিহাদ শেখ উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুরুজ (১৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সুরুজ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ইসলাম পাড়ার বাসিন্দা স্বপনের ছেলে।

গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক বিদ্যুৎ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। নিহত শরীফুল ইসলাম (৩০) ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) সুইচ বোর্ড অ্যাটেনডেন্স কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি উপজেলার টুপুরিয়া গ্রামের মোকসেদ আলী শেখের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজারে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ইয়াকুব (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। শনিবার (ঈদের দিন) রাত ১১টার দিকে রামচন্দ্রদী–গোপালদী সড়কের দাইরাদী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা নিকটাত্মীয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের খাদ থেকে দুর্ঘটনাকবলিত একটি পিকআপ ভ্যানসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশ।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, পানিতে থাকা পিকআপ ভ্যানটির ভেতর থেকে এক নারী ও তিন পুরুষের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে কোনো গাড়ির ধাক্কায় কিংবা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যানটি খাদে পড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, গাড়িতে বাড়ির আসবাবপত্র ও মালামাল ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতরা একই পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, নিহতদের বাড়ি সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতদের লাশ হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

Continue Reading

Trending