Connect with us

top1

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র: ১০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

Published

on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি ১০ বছরের প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি ভারত–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে এবং এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
হেগসেথ বলেন, “এই চুক্তি আমাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আমরা সমন্বয়, তথ্য বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াচ্ছি।”

এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ:

প্রতিরক্ষা সমন্বয় জোরদার করবে
তথ্য ভাগাভাগি ও প্রযুক্তি সহযোগিতা বাড়াবে
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় একসাথে কাজ করবে

চুক্তিটি এমন সময় স্বাক্ষরিত হলো যখন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনরায় আলোচনার চেষ্টা করছে এবং একইসাথে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করছে।
এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি আগামী দশকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করবে।

১০ বছরের ভারত–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রভাব

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবেলায় এই চুক্তি একটি কৌশলগত ভারসাম্য তৈরি করবে।
এটি মারিটাইম নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, এবং আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে যৌথ উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে।

প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও যৌথ উৎপাদন
দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা বাড়বে, যার ফলে উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি ও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
“Make in India” উদ্যোগের অধীনে স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ভারতের হাতে আসবে।

সামরিক সমন্বয় ও প্রশিক্ষণ
যৌথ সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ, এবং তথ্য বিনিময় আরও ঘনিষ্ঠ হবে।
দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে ইন্টারঅপারেবিলিটি (পরস্পরের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা) বাড়বে।

রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা
এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত বিশ্বাস ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে চীনবিরোধী কৌশলগত অংশীদারিত্বে।

বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য
যদিও কিছু বাণিজ্যিক উত্তেজনা রয়েছে (যেমন রাশিয়া থেকে তেল কেনা), এই চুক্তি দেখায় যে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক তার নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে।
এটি যুক্তরাষ্ট্র–ভারত সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ দিয়েছে, যেখানে অর্থনীতি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি সবই অন্তর্ভুক্ত।

এই চুক্তি শুধু সামরিক নয়, বরং আঞ্চলিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি উন্নয়ন, এবং কৌশলগত স্থিতিশীলতার দিক থেকেও একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ কেন অবৈধ নয় জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল

Published

on

By

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রুলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রিটের বিরোধিতা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাদের সহযোগিতা করেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন, আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে গত সোমবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক রিট দায়ের করা হয়।

রিটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল চাওয়া হয়। এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি ও অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম রিট দুটি দায়ের করেন।

এদিকে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জুলাই জাতীয় সনদ বাতিল ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে আরেকটি রিট দায়ের করা হয়। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

সৌদির রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ভয়াবহ হামলা

Published

on

By

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইরানের ছোড়া ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিস্তারের মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুটি ড্রোন মার্কিন দূতাবাসে আঘাত করে। প্রাথমিক মূল্যায়নে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ভোরের দিকে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং দূতাবাস ভবনে আগুনের শিখা দেখা যায়। রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন অবস্থিত। তাদের মধ্যে দুজন জানান, ভোরের সময় ভবনটি খালি ছিল এবং আগুন তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস রিয়াদ, জেদ্দা ও ধাহরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশনা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দূতাবাস এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটির পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Continue Reading

top1

ইরান কোনোভাবেই মাথা নত করবে না

Published

on

By

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে স্কুল ও হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হামলার কঠোর সমালোচনা করেন।

ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘হাসপাতালে হামলা মানে জীবনের ওপর আঘাত। আর স্কুলে হামলা মানে একটি জাতির ভবিষ্যতের ওপর আঘাত।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অসুস্থ রোগী এবং শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা মানবিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিশ্ববাসীকে এই অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পুরো বিশ্বের উচিত এই বর্বরোচিত কাজের নিন্দা জানানো। ইরান এই ধরনের অপরাধের মুখে চুপ থাকবে না এবং কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।’

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ইরানের পক্ষ থেকে এই কড়া হুঁশিয়ারি এলো।

Continue Reading

Trending