Connect with us

জাতীয়

সিসা দূষণ নির্মূলে জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করছে সরকার।

Published

on

স্টাফ রিপোর্ট 

সিসা দূষণের কারণে দেশে তৈরি হওয়া নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবেলায় জাতীয় কৌশলপত্র চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত “মাল্টিসেক্টরাল স্টিয়ারিং কমিটি”-র সভায় খসড়া কৌশলপত্র পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে স্ব স্ব কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

শিশু, শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সিসার মারাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এই কৌশলপত্র প্রণয়নকে একটি অপরিহার্য জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কৌশলপত্রের মাধ্যমে সারা দেশে সিসার সংস্পর্শ হ্রাস, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

কৌশলপত্রে পরিবেশে সিসার বিভিন্ন উৎস—যেমন সিসাযুক্ত রঙ, অনুমোদনহীন ব্যবহৃত সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারি (ULAB) পুনর্ব্যবহার, সিসাযুক্ত রান্নার সরঞ্জাম, খেলনা ও শিল্পজাত পণ্য—নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি ই-রিকশাসহ ব্যাটারি-চালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের ফলে সৃষ্ট ই-বর্জ্য প্রবাহকে একটি গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে এর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্দেশনাও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই লক্ষ্য পূরণে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পাঠ্যক্রম সংশোধন, শিল্প নীতিমালা, শ্রম সুরক্ষা, পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার চলমান প্রচেষ্টাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করাই কৌশলপত্রের মূল উদ্দেশ্য। 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) ড. ফাহমিদা খানম; পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান; মন্ত্রণালয়ের উপসচিব(পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ)  সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু, সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা সাবরিনা রহমানসহ স্বাস্থ্য, শ্রম, কৃষি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ। এছাড়া ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং পিওর আর্থসহ উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জাতীয় কৌশলপত্রটি চূড়ান্ত হলে দেশের শিশু ও শ্রমিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সিসার ক্ষতিকর সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে। এটি একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দুই আসনের নির্বাচনে গণভোট নয়: নির্বাচন কমিশন

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোটের কোনো ব্যবস্থা রাখা হবে না।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট দিন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।

Continue Reading

top1

স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠক চলছে

Published

on

By

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদীয় দল। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন। মূলত আগামীকালকের প্রথম অধিবেশনের সার্বিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই সভার আয়োজন।

প্রথম অধিবেশনের কর্মসূচি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে। কার্যসূচি অনুযায়ী, শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ দেবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপিত হবে। এ ছাড়া প্রথা অনুযায়ী শোক প্রস্তাবও উত্থাপন করা হবে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে তারেক রহমানকে সর্বসম্মতভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। ওই দিন বিকালেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে বর্তমানে ২৯৭টি আসনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বিজেপি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি আসনে। বাকি তিনটি আসনের মধ্যে দুটির ফলাফল স্থগিত এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটির নির্বাচন বাতিল হয়েছে।

সংসদ ভবনের সংস্কার

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকালে সংসদ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় ধরনের সংস্কার কাজ করতে হয়েছে সংসদ সচিবালয়কে। আগামীকালকের অধিবেশন সামনে রেখে সংসদ কক্ষ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার কক্ষসহ সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

Continue Reading

top1

নগদের মাধ্যমে বিতরণ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ

Published

on

By

পরিবারের নারীপ্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আরও আত্মবিশ্বাসী করতে সরকার যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ।

মঙ্গলবার সকালে কড়াইল বস্তি এলাকায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ১৩ জেলার ৬ হাজার ৪৫১টি পরিবার ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ১ কোটি ৬২ লাখ ৪ হাজার ২৬৫ টাকা পেয়েছেন।

কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মতো সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের অর্থ বিতরণের জন্য ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা নগদকে বেছে নেওয়ায় নগদ কর্তৃপক্ষ সরকার এবং বিশেষভাবে সরকারপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

নগদের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সাধারণ জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি পূরণের যে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে, সেটি আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে। সরকারের এমন একটি প্রকল্পের অংশীদার হতে পেরে আমরা গোটা নগদ পরিবার সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

সরকারের নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুত এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩ জেলার সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হতদরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাই এবং একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ, সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সরকারের এই উদ্যোগটি নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Continue Reading

Trending