Connect with us

রাজনীতি

সীমান্তে বিএসএফের আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে : নাহিদ ইসলাম

Published

on

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা নতুন বাংলাদেশ চেয়েছি, আমরা রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চেয়েছি, আমরা গণত্যাকারীদের বিচার চেয়েছি। আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র এবং জুলাই সনদ চেয়েছি। জুলাই অভ্যুত্থানের বার্তা একটি ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র কায়েমের স্বপ্ন দেখায়। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখায়।

রোববার (৬ জুলাই) বিকেল তিনটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজের সামনে জুলাই পদযাত্রা শেষে এক পথসভায় এ কথাগুলো বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতে বৈষম্যের শিকার। বাংলাদেশের সকল জেলায় এমন বৈষম্য দূর হবে আমরা সেই স্বপ্ন দেখি।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, এখানে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটনায়। আমরা কিন্তু এইসব আগ্রাসন আর মেনে নিবোনা। সীমান্তে অনেক বাহাদুরি হয়েছে দাদাদের, সেই দিন শেষ হয়েছে। আবার আগ্রাসন চালানো হলে, আমার ভাইদের হত্যা করা হলে আমরা লং মার্চ ঘোষনা করবো। আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করবো।

বিগত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের রাজধানী। কিন্তু দুঃখের বিষয় এতো ঐতিহ্যবাহী জেলা হওয়া স্বর্তেও এই আমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতে, বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে, রপ্তানী করতে কোন সরকারই উদ্যোগ নেয়নি। প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেশম শিল্পের জন্য বিখ্যাত। সেই রেশম শিল্পও দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাংলাশের যে জাতীয় শিল্প রয়েছে, কুটির শিল্প রয়েছে। সেগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা এই সভা থেকে আপনাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি। আমরা আহ্বান করি সরকার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর এই দাবি পুরণ করে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে প্রতিরোধের প্রতিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানে দেশ রক্ষায় সীমান্তে কাস্তে হাতে বসে থাকা সেই কৃষক। আমরা সেই কৃষকের সন্তান যারা বুক চেতিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।

দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চলনায় বক্তব্য রাখেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের উপর দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ নির্মম নির্যাতন করেছে। সেই নির্যাতনকে সাই দিয়ে দিল্লির সরকারও সীমান্তে হত্যা চালিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে। ভারত আর কোনদিন আঙ্গুল উচিয়ে কথা বলতে পারবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আগামীর বাংলাদেশে আর কোন বৈষম্য দেখতে চাইনা। ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছে, আর পুরোনো সিস্টেমে চলতে পারেনা। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সদস্য আসিফ মোস্তফা জামাল প্রমুখ। ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই ছিল সম্মিলিত বিস্ফোরণ। চাঁপাইনবাবগঞ্জও এর ব্যতিক্রম ছিলনা। এ শহরের যেসব সড়ক স্বৈরাচারবিরোদী আন্দোলনে উত্তাল ছিলো সেসব সড়কে পদযাত্রা করেন জুলাই বিপ্লবের নায়কেরা। বিকেলে এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয় উদ্বোধন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এনসিপির নেতারা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা

Published

on

By

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসন বগুড়া-৬ থেকে উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী করা হয়েছে রেজাউল করিম বাদশাকে। যিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির পক্ষ থেকে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি ফেসবুক পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হলো।’

Continue Reading

রাজনীতি

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

Published

on

By

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের পরপরই জোরেশোরে আলোচনা উঠেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। যদিও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ঢাকাসহ ৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যাদের সবাই বিএনপি নেতা। বিষয়টি নিয়ে সংসদের প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘোর আপত্তি জানিয়েছে। প্রশাসক নিয়োগ বাতিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে তারা।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে যেটির যখন মেয়াদ শেষ হবে, পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গায় নির্বাচন হবে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে ঢাকার দুই সিটি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে।

দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে কিনা, সেটি সংসদে নির্ধারিত হবে বলেও জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

তবে প্রশাসক ‍নিয়োগ নিয়ে সরকার এবং বিরোধীদলের বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতাদের অনেকেই মনস্থির করেছেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার। অনেকে আবার প্রস্তুতি নিতে দলের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও দলের অভ্যন্তরে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আলোচনায় আছেন কয়েকজন।

ঢাকার দুই সিটিতে সম্ভাব্য বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম খান ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এরই মধ্যে ইশরাক হোসেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আলোচনায় থাকা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। এছাড়াও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ নেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আব্দুস সালাম বলেন, “দলের চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। অতীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া আমি দীর্ঘদিন রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে যুক্ত। আশা করছি নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে পারবো।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আরেক আলোচিত নাম হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিএনপি’র ত্যাগী নেতাদের একজন তিনি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাংলাদেশে রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক মামলাও দায়ের করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

নির্বাচনের বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দল যাকে বলবে তিনিই নির্বাচন করবেন।”

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা-৬ আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২০ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র নির্বাচন করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এবারের নির্বাচনের আলোচিত নামের তালিকায় আছে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল। ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনের বিষয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, “রাজধানী ঢাকা নিয়ে আমার নিজস্ব প্ল্যান রয়েছে। আগের নির্বাচনে ভোট কারচুপি করে শেষ রাতে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এটা দেশবাসী জানেন। এবার যদি দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করবো। মেয়র নির্বাচিত হয়ে রাজধানীবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই।”

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচিত আরেক নাম শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নেতাকর্মীদের মুখে আলোচিত আরেক নাম এম এ কাইয়ুম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি ছিলেন তিনি। বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে প্রার্থী হিসেবে দেখার।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে যা বলছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের ত্যাগীদের মনোনয়ন দেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “দুঃসময়ে যারা বিএনপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে ছিল, এমন কাউকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া উচিত। সবকিছু একজনকে দেওয়া ঠিক হবে না। এতে দলের নেতাকর্মীদের ভেতরে অসন্তোষ দেখা দেবে।”

রাজধানী ও রাজধানীবাসীর উন্নয়ন যাকে দিয়ে হবে তাকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “যারা রাজধানীর স্থানীয় বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে যুক্ত আছে, রাজধানীবাসীর সুখ দুঃখে পাশে থাকবে এমন কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেবে। এক্ষেত্রে নিশ্চয়ই দীর্ঘদিনের ত্যাগ বিবেচনায় থাকবে।”

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে এনিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। পার্টির সিদ্ধান্ত মুখ্য। পার্টি থেকে যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচন করবেন।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবো। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।”

Continue Reading

রাজনীতি

ব্যবসায়ীকে গভর্নর করার সিদ্ধান্তে গোলাম পরওয়ারের উদ্বেগ

Published

on

By

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে জামায়াতের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের পদ কোনো আনুষ্ঠানিক বা অলংকারমূলক দায়িত্ব নয়। এটি একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর একটি, যার ওপর নির্ভর করে মুদ্রানীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সর্বোপরি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আস্থা গড়ে তোলা।

জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পর যখন মানুষ কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল, তখন যোগ্যতা ও মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কোটা আন্দোলন কেবলই কোটার প্রশ্ন ছিল না; এটি ছিল মূলত মেধাতন্ত্র ও দক্ষ প্রশাসনের দাবিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

কিন্তু নতুন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের নিয়োগ সেই প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন শিল্পপতিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে বসানো হলো, যার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৯ কোটি টাকা (সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি) ঋণ বিশেষ নীতিমালার আওতায় পুনঃতফসিল করা হয়েছিল নিয়োগের অল্প সময় আগে। তিনি আবার বর্তমান শাসক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ইতোমধ্যে জ্যেষ্ঠ ব্যাংকাররা স্বার্থের সংঘাত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধাভোগী, তাকে পুরো ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হলে বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক।

শক্তিশালী, স্বাধীন এবং দক্ষ নেতৃত্বসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা সম্ভব নয় । রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ, মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত – দেশীয় আস্থা যেমন নষ্ট করে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও আস্থার সংকট তৈরি করে। একটি মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যিনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন, তিনি কীভাবে একটি পুরো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবেন; এই প্রশ্ন আজ স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।

যখন দেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিশ্বাসযোগ্যতা, পেশাদারিত্ব এবং মেধাভিত্তিক নেতৃত্ব, এমন এক সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতার অবসানের সংকেত দিতে পারে এই সিদ্ধান্ত।

Continue Reading

Trending